সাদিয়া আক্তার সুরাইয়া ও নাদিরা ফারজানা সুমাইয়া। তারা যমজ বোন। দুজনেই মাধ্যমিকে পেয়েছেন এ প্লাস। উচ্চ মাধ্যমিকে পেয়েছেন গোল্ডেন এ প্লাস। এখন সুযোগ পেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্য অনুষদে পড়ার।
দিনমজুর বাবা মহিদুল হাওলাদার আর গৃহিণী মা শাহিদা বেগমের যমজ এ সন্তান প্রাচ্যের অক্সফোর্ডে পড়ার সুযোগ পেলেও ভর্তিসহ পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়ার সামর্থ্য নেই তাদের। উচ্চ শিক্ষার সুযোগ মিললেও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে স্বপ্ন পূরণের। তারা বলছেন, অর্থনৈতিক সমস্যাই তাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে এই অনিশ্চয়তার অবসান ঘটালেন জেলা প্রশাসক মামুনুর রশীদ।
সুমাইয়া ও সুরাইয়া বলেন, শৈশব থেকেই দারিদ্র্যতার মধ্যে বেড়ে উঠেছি। পারিবারিক অসচ্ছলতার কারণে মাধ্যমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত আমরা টিউশনি করিয়ে পড়াশোনার খরচ জোগাড় করেছি। স্বপ্ন দেখেছি যেন আমরা দুই বোন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো স্বনামধন্য একটি প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করতে পারি।
তাদের মা শাহিদা বেগম বলেন, অর্থনৈতিক দৈন্যদশার মধ্যে দুই মেয়েকে পড়ালেখা করিয়েছি। ওরা পড়ালেখা করতে চায়। ওরা সুযোগ পেয়েছে আমারও ইচ্ছা পড়ালেখা চালিয়ে যাক। তবে আমার যে সামর্থ্য তাতে দুইজনকে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানো অনেক কষ্ট। তারপরও চেষ্টা করছি সকলের সাহায্য নিয়ে যদি দুজনকে ভর্তি করতে পারি। তাহলে পড়াশোনা চালিয়ে নিতে পারবে ওরা।
ভর্তি পরীক্ষায় চান্স পাওয়ার খবর শুনে এই দুই কৃতি শিক্ষার্থীর দায়িত্ব নেন জেলা প্রশাসক। দুই শিক্ষার্থীর দায়িত্ব নেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ বলেন, দেশ যেমন এগিয়ে যাচ্ছে, মানুষও মানুষের সহযোগিতায় এগিয়ে আসছে। তাই দুই শিক্ষার্থীর লেখাপড়ার জন্য আমরা জেলা প্রশাসন থেকে সহযোগিতা করব। পড়াশোনা করে ভালো মানুষ হবে তারা।
