বুয়েটের আবরার হত্যাকাণ্ড নিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান বলেছেন, সেরার সেরা ছেলেটিকে হত্যা করা হয়েছে। হয়তো হত্যার উদ্দেশ্যে না, মারপিটে হত্যা হয়েছে। মারপিট তা সারাবিশ্বেই হয়। সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই কম বেশি হয়। আমার কষ্টটা শুধু একজনকে নিয়ে নয়। আমার কষ্টটা সেইখানেও যে ২০টি ছেলে গ্রেফতার হলো তারাও কিন্তু দ্য বেস্ট অব দ্য বেস্ট। এদের মধ্যে একজনের বাবা ভ্যানগাড়ি চালিয়ে তার ছেলেকে বুয়েটে পড়াতেন।

বৃহস্পতিবার সকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ৩ দিন ব্যাপী জাতীয় নজরুল সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এই কথা বলেন। কবি নজরুল ইনস্টিটিউটের আয়োজনে ও জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় সম্মেলন উদ্বোধন করেন জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম।

শামীম ওসমান বলেন, বুয়েটে একটি ছেলেকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এর সাথে আমাদের ছাত্রলীগ নামধারী কিছু লোক জড়িত ছিল। আমি বলবো না তারা করেছে ঘটনাটা; কিন্তু পারসেপশন তৈরি করা দেওয়া হয়েছে যে তারাই করেছে। আদালতে প্রমাণ হওয়ার আগে এই কথা বলা উচিত না যে তিনি এই ঘটনা ঘটিয়েছেন; কিন্তু যে ছেলেটা মারা গেছে তার জন্য আমি প্রচণ্ডভাবে কষ্ট পাই। এই কারণে কষ্ট পাই কারণ এই দেশে যে ছাত্রটি বুয়েটে বা মেডিকেলে চান্স পায় তখন সেই ছেলেটি হয় দ্য বেস্ট অব দ্য বেস্ট। সে মেধা তালিকায় সেরাদের সেরা।

আমরা কি রেজাল্ট চাই নাকি মানুষ চাই- এমন প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, আমার প্রশ্ন আজকে এই সমাজের কাছে, একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে আমার নিজের কাছে, এই দেশের সাংবাদিকদের কাছে, তথাকথিত বুদ্ধিজীবীদেরদের কাছে- আমরা কি রেজাল্ট চাই নাকি মানুষ চাই?

তিনি আরো বলেন, কবি নজরুল ও রবীন্দ্রনাথের কোন সার্টিফিকেট ছিল না। আমরা একটি সোনার পাখি ধরার জন্য আমাদের বাচ্চাদের লেলিয়ে দিচ্ছি। রেজাল্ট আনো, রেজাল্ট আনো। রেজাল্ট আনছে কিন্তু মানুষ হচ্ছে না। তাই হয়ত বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, সোনার বাংলা গড়তে হলে সোনার মানুষ গড়তে হবে। নতুন প্রজন্মকে বলতে চাই রেজাল্ট না, মানুষ হও। মানুষ সেই হয় যে অন্যের কাজে লাগে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।