Shadow

লন্ডভন্ড কলকাতা, ১২ জনের মৃত্যু

শেয়ার করুনঃ
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আমাদের বাণী ডেস্ক, ঢাকা;  প্রবল শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় আম্পানের তাণ্ডবে কলকাতাসহ পশ্চিমবঙ্গের সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চল লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত ১০ থেকে ১২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। গতকাল বুধবার (২০ মে ২০২০)  ঘূর্ণিঝড় চলার সময়েই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, আম্পানে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের খবর মিলছে। এখন পর্যন্ত ১০ থেকে ১২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

হাওড়ায় ঘরের টিন এসে মাথায় আঘাত করলে হাওড়ায় ১৩ বছরের কিশোরী মারা গেছে। উত্তর চব্বিশ পরগনার মিনাখাঁয় এক নারী গাছচাপা পড়ে মারা গেছেন। উত্তর চব্বিশ পরগনার বসিরহাটেও এক যুবক গাছচাপা পড়ে মারা গেছে। গোটা রাজ্যে ধ্বংস হয়ে গেছে হাজার হাজার কাঁচা বাড়ি, জমির ফসল। উপড়ে পড়েছে বিদ্যুতের খুঁটি। মোবাইল টাওয়ার। ভেঙে গেছে বহু পুরোনো বাড়িঘর। ভেঙেছে সুন্দরবন অঞ্চলের বহু নদীর বাঁধ। প্লাবিত হয়েছে আশপাশের গ্রাম। মারা গেছে বহু গবাদিপশু।

আবহাওয়া দপ্তরের বক্তব্য অনুযায়ী, আজ বেলা আড়াইটায় পশ্চিমবঙ্গে প্রথম আঘাত হানে আম্পান। আঘাত হানে উপকূলীয় সুন্দরবন, হলদিয়া, দিঘাসহ দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার বহু এলাকা। এই এলাকায় ঝড়ের গতিবেগ ছিল ১৫০ থেকে ১৬০ কিলোমিটার। এরপর আম্পানের তাণ্ডবে হলদিয়া, দিঘা, মন্দারমণি, শংকরপুর, তাজপুর, কুলপি, কাকদ্বীপ পাথর প্রতিমা, নামখানা, ঝড়খালি, ক্যানিং, হিঙ্গলগঞ্জ, বকখালি, বাসন্তী, ডায়মন্ড হারবার, গোসাবাসহ উত্তর চব্বিশ পরগনা, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুর জেলার বিস্তীর্ণ অংশ বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। পানির তোড়ে ভেসে গেছে গবাদিপশু, সড়ক, সেতু, বাড়িঘর। দিঘা ও বকখালিতে প্রচণ্ড জলোচ্ছ্বাস হয়েছে। ভাসিয়ে নিয়ে গেছে ঘাটে বাঁধা নৌকা, লঞ্চ ও ট্রলার। এই রিপোর্ট লেখার সময়ও তীব্রবেগে ঝড় চলছিল কলকাতা, উত্তর ও দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা, হাওড়া ও পূর্ব মেদিনীপুরের বিস্তীর্ণ এলাকায়।

আম্পানের তাণ্ডবে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে কলকাতা শহর। গত ৫০ বছরে কলকাতার মানুষ এ ধরনের ঝড় দেখেনি। ইতিমধ্যে কলকাতাজুড়ে শত শত গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়ায় সড়ক যোগাযোগ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে গোটা শহর। গাছ ভেঙে পড়েছে অলিতে গলিতে। ইতিমধ্যে কলকাতার সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ, চাঁদনি চক, কলেজ স্ট্রিট, বালিগঞ্জ, টালিগঞ্জ, গড়িয়াহাট, ট্যাংরা, বেহালা, ক্যামাক স্ট্রিট, নিউ টাউন, বারাসাত, মধ্যমগ্রাম, শ্যাম বাজার, মানিকতলা, বেলেঘাটা, ফুলবাগান, বাগবাজার, ঠাকুরপুকুর, মিলেনিয়াম পার্ক এলাকায় রাস্তা বন্ধ হয়ে গেছে। আম্পানের তাণ্ডব ছড়িয়ে পড়েছে মুর্শিদাবাদ, বর্ধমান ও নদীয়াতেও।

  রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের জন্য বিরাট বোঝা: প্রধানমন্ত্রী

আজ সন্ধ্যা ছয়টায় কলকাতার আবহাওয়া দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, কলকাতায় এই তাণ্ডব চলবে আরও তিন ঘণ্টা। ঝড়ের বেগ বেড়ে ১৫০ কিলোমিটার হতে পারে। তবে সমুদ্র উপকূলবর্তী অঞ্চলের খবর এখনো আসতে পারেনি। তবে মনে করা হচ্ছে সুন্দরবন এলাকার বহু বাড়িঘর, গাছপালা ভেঙে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার কাজে নেমে পড়েছে জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা দল বা এনডিএফের সদস্যরা।

এদিকে বাংলাদেশে  ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে সাতক্ষীরাসহ উপকূলীয় অঞ্চল। ইতোমধ্যে কয়েক শত গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। উপকূলীয় এলাকার বাঁধগুলোর পয়েন্ট ভেঙে গেছে। জনপদে প্রবল বেগে পানি প্রবেশ করছে। বিধ্বস্ত হয়েছে কাঁচা ঘরবাড়ি, উপড়ে পড়েছে গাছপালা। এদিকে পিরোজপুরে মজিবুর রহমান (৫৫) নামে একজন, ভোলায় সিদ্দিক ফকির ও রফিকুল ইসলাম  নামে দুজন, সাতক্ষীরায় মধ্য বয়সী এক নারী, পটুয়াখালীতে রাসেদ (৬) নামে এক শিশু ও ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে কাজ করা শাহ আলম নামে এক স্বেচ্ছাসেবী, যশোরে খ্যান্ত বেগম (৪৬) ও তার মেয়ে রাবেয়া (১৩) নামে দুই জন, চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের জোয়ারের পানিতে ডুবে মোহাম্মদ সালাউদ্দিন নামে এক যুবক ও বরগুনায় এক বৃদ্ধ সহ মোট  ১০  জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

আমাদের বাণী ডট/২১ মে ২০২০/পিবিএ 

শেয়ার করুনঃ
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •