নীলফামারীর সৈয়দপুর কামারপুকুর ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, নিয়োগ বাণিজ্য ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এসব অনিয়মের ঘটনা তদন্তের জন্য গত রোববার কলেজ গভর্নিং বডির ৮ জন সদস্য নীলফামারী জেলা প্রশাসক বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়, কামারপুকুর ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আমিনুর রহমান সরকার নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে কলেজ তহবিলের ৬ লাখ টাকা ব্যাংকে জমা করেন। অভিযোগ রয়েছে, ওই টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। নিয়োগের নামে ১৫ জন শিক্ষক কর্মচারীর কাছ থেকে মোটা অংকের নিয়োগ বাণিজ্য করা হয়েছে। ২০১৩ সাল থেকে কলেজের আয় ব্যয়ের কোন অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা করা হচ্ছে না।

সর্বশেষ অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষায় ২০১২ সালে ২ লাখ এবং ২০১৩ সালে ৪ লাখ টাকা ব্যাংকে জমা না করে পকেটস্থ করা হয়। যা ২০১২ ও ২০১৩ সালের কলেজের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা প্রতিবেদনে অনিয়ম বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০১৩ সালের পর গত ছয় বছর কোন অভ্যন্তরীণ হিসাব নিরীক্ষা করা হচ্ছেনা। অথচ বিধিমত প্রতি তিন মাস অন্তর অভ্যন্তরীণ হিসাব নিরীক্ষা করার নিয়ম রয়েছে। অভিযোগ মতে, প্রতিষ্ঠানের কেনাকাটা ক্রয় কমিটির মাধ্যমে করার নিয়ম থাকলেও অধ্যক্ষ নিজেই সকল কেনাকাটা করেন। কলেজের দৈনিক আয়ের অর্থ ব্যাংকে জমা না করে নিজের ইচ্ছামত ব্যয় করছেন। কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি দশম জাতীয় সংসদের সাবেক সাংসদ শওকত চৌধুরীর নাম ব্যবহার করে অনিয়ম করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এছাড়াও পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে কলেজে শিক্ষকদের ভবিষ্যৎ তহবিল চালু না করা, অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা ও ক্রয় কমিটি না থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। নিরীক্ষা প্রতিবেদন অধ্যক্ষের এসব অনিয়ম দূর করার তাগিদ দিলেও তাও আমলে নেয়া হয়নি। গভর্নিং বডির সদস্যরা তাদের আবেদনে অধ্যক্ষের এসব দুর্নীতি ও অনিয়ম তদন্ত করে প্রতিকার কামনা করা হয়েছে।

জানতে চাইলে, সৈয়দপুর কামারপুকুর ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আমিনুর রহমান সরকারের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।