চাকরিতে আবেদনের বসয়সীমা ৩৫ বছর করাসহ চার দাবিতে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে আমরণ অনশনকারী ৩৫ প্রত্যাশীরা। আগামীকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১২টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে এ বিক্ষোভ কর্মসূচী শুরু হবে।

বুধবার (২৫ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্রকল্যাণ পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক মুজাম্মেল  বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

সংগঠনটির প্রধান সমন্বয়ক মুজাম্মেল মিয়াজী বলেন, চাকরিতে আবেদনের বয়স ৩৫ বছর করাসহ চার দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আমরা আমরণ অনশন কর্মসূচী অব্যাহত রেখেছি। অথচ এ কর্মসূচীর ৯ দিন পার হলেও সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া না পাওয়ায় দেশের প্রায় ২৮ লাখ শিক্ষিত যুবসমাজ ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েছে। আমরণ অনশনে আমাদের বেশ কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। অনশনস্থলেই তাদেরকে স্যালাইন দিয়ে কর্মসূচী অব্যাহত রেখেছি আমরা।

তিনি আরও বলেন, ‘দাবি আদায়ে আমরা আগামীকাল আমরণ অনশনস্থল জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচীর ডাক দিয়েছি। গণ অনশন-আমরণ অনশনেও আমরা তেমন কোন সাড়া পাচ্ছি না। আমরা দীর্ঘদিন থেকেই শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছি। কঠোর কর্মসূচীর মাধ্যমে রাজপথেই তাদের দাবি বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানান সংগঠনটির এ নেতা।

এর আগে দাবি মেনে নিতে ৪৮ ঘন্টার আলটিমেটাম দিয়েছিল আন্দোলকারীরা। কিন্তু সংশ্লিষ্টদের কোন আশ্বাস না পাওয়ায় টানা ১০ দিন গণঅনশন শেষে গত মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে আমরণ অনশন শুরু করেছে ৩৫ চাই আন্দোলনকারীরা। তারা বলছেন, সরকার ৩৫ চাইদের দাবি না মানায় মৃত্যুর পথ বেছে নিয়েছি। গত ৬ ডিসেম্বর থেকে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র কল্যাণ পরিষদের ব্যানারে কাফন সমাবেশ ও গণঅনশন চালিয়ে আসছেন চাকারি বয়সসীমা ৩৫ প্রত্যাশীরা।

আন্দোলনকারীরা বলেন, সেশটজটে যে ৪ বছর হারিয়েছে কে আমাদের ফিরিয়ে দিবে এই সময়গুলো। আজ বাংলাদেশ মানুষের গড় আয়ু ৫৭ থেকে ৭৩ হয়েছে তবে কেন আবেদনের বয়সসীমা বাড়বে না। বাড়ানো হয়েছে অবসরের বয়সসীমা তবে কেন আবেদনের বয়সসীমা বাড়বে না। বিশ্বের সাথে উন্নয়নের তাল মিলিয়ে চললে তবে কেন আবেদনের বয়সসীমা বাড়বে না।

এর আগে গত শুক্রবার প্রেসক্লাবের সামনে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে প্রত্যেকে নিজেদের হাতে সার্টিফিকেট নিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয় আন্দোলনকারীরা। এসময় ৩৫ প্রত্যাশী সকলের চোখে-মুখে হতাশার ছাপ লক্ষ করা করা গেছে। পাশাপাশি তাদের ‘আমরা সার্টিফিকেট চাই না, চাকরির বয়স ৩৫ করে দিন’ ‘আমাদের মেয়াদ শেষ, আমাদের সুযোগ দিন’ এসব বাক্য বলতে দেখা গেছে।

তাদের ৪ দফা দাবি হলো- চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা বৃদ্ধি করে ৩৫ বছরে উন্নীত করা; চাকরির আবেদন ফি কমিয়ে ৫০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে নির্ধারণ করা; চাকরির নিয়োগ পরীক্ষাগুলো জেলা কিংবা বিভাগীয় পর্যায়ে নেওয়া ও চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়া তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে সম্পন্ন করা এবং সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা।

আন্দোলনের সমন্বয়ক রেশমা আকতার বলেন, আগামীকাল আমাদের যে বিক্ষোভের যে ডাক দেওয়া হয়েছে সেখানে ৩৫ প্রত্যাশী বিভিন্ন গ্রুপ একাত্বতা প্রকাশ করেছে। সবাই স্বতস্ফূর্তভাবে আমাদের সমর্থন দিয়ে এগিয়ে আসছে। আমরা আশা করছি, দাবি বাস্তবায়নে আমরা সচেষ্ট হবো।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।