রাজধানীর বনানীতে ট্রাফিক পুলিশের এক সার্জেন্টকে মারধরের অভিযোগে বিকল্পধারা বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মাহী বি চৌধুরীর ছেলেকে আটকের পর ছেড়ে দিয়েছে বনানী থানা পুলিশ। বুধবার রাত ১০টার দিকে আটকের পর রাত সাড়ে ১১টার দিকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
উপস্থিত থাকা কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বুধবার রাত সাড়ে ৯ টার দিকে বনানী কবরস্থানের দিক থেকে এয়ারপোর্ট রোডে বের হওয়ার সময় একটি সিএনজিকে খয়েরী রং-এর গাড়ি (ঢাকা মেট্রো-গ ২৮-০৮৩৬) ধাক্কা দেয়। এতে সিএনজিটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দায়িত্ব রত ট্রাফিক সার্জেন্ট আলমগীরের পায়ে আঘাত করে। এ সময় গাড়িটির চালকের আসনে ছিলেন মাহির ছেলে।
সার্জেন্ট মাহির ছেলেকে গাড়ি থেকে বের হতে বললে সে মাতাল অবস্থায় বের হয়ে আলমগীরের শার্টের কলার ধরে টান দেয়। এতে তার শার্টের দুটি বোতাম ছিঁড়ে যায়। এর পরেই এলোপাথাড়ি কিল ঘুষি মারতে থাকেন সার্জেন্ট আলমগীরকে।
অবস্থা বেগতিক দেখে ট্রাফিক পুলিশের অন্য সদস্যরা বনানী থানার কন্ট্রোল রুমে যোগাযোগ করলে থানা থেকে একটি পুলিশের ভ্যান এসে মাহির ছেলে ও তার সাথে থাকা বন্ধুকে আটক করে বনানী থানায় নিয়ে যায়।
এ সময় ধাক্কা দেওয়া গাড়িটিকেও থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
বনানী থানায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাসি মুখে মাতাল অবস্থায় পুলিশের সামনে বসে আছে মাহির ছেলে। একটু পর পর ইংলিশে কথা বলতে বলতে চিৎকার দিয়ে উঠছে। বার বার কয়েকজন পুলিশ সদস্য শান্ত করার চেষ্টা করলেও তাদের কথা না শুনে তাদের উপর হামলা করতে এগিয়ে যাচ্ছিল। এক পর্যায়ে হাসতে হাসতে থানার ডিউটি অফিসারের সামনেই গর গর করে বমি করে দেয়।
সূত্র জানায়, মাহি থানার ওসিকে বুঝানোর চেষ্টা করেন তার ছেলে ভুল করে ফেলেছে এ জন্য তিনি ক্ষমা প্রার্থী। এর পরে থানার ওসি সার্জেন্ট আলমগীরকে ডেকে নেন। এর পর মাহি তার কাছে কাঁদো কাঁদো চোখে মাফ চান। সার্জেন্ট মৌখিকভাবে মাফ করে দিতে চাইলে ওসি বলেন, মাফ করতে চাইলে লিখিত দিতে হবে এর পরে সার্জেন্ট লিখিতভাবে বলেন যে তিনি মাহি বি চৌধুরীর ছেলেকে মাফ করে দিয়েছেন।
এরপর ওসি নিজ কক্ষে মাহির ছেলেকে ডেকে নিয়ে সার্জেন্টের কাছে মাফ চাইতে বললে মাহির ছেলে মাফ না চেয়ে ইংলিশে গালাগাল করতে করতে রুম থেকে বের হয়ে আসেন। বের হয়েই আবারো ওসির ঘরের বারান্দায় বমি করার চেষ্টা করেন। এই ঘটনা দেখে মাহি কাঁদতে কাঁদতে বলেন ‘বাবা তোমাকে কে কি খাইয়েছে আমাকে বল, তোমার পেটে কি হয়েছে। তোমার কি কিছু হয়েছে’। মাহি আরো বলতে থাকেন, ‘আমার ছেলেকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।’ এরপর মাহি তার ছেলে আর ছেলের বন্ধুকে নিয়ে হাসপাতালে যাবে বলে দ্রুত থানা থেকে বের হয়ে যায়।
মাহি বি চৌধুরীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এখন ছেলেকে নিয়ে ব্যস্ত আছি এসব নিয়ে কথা বলার সময় এখন না বলেই ফোন কেটে দেন।
পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তার ছেলেকে গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বনানী থানার কয়েকজন পুলিশ সদস্যের সাথে কথা বলে জানা যায়, মাহী বি চৌধুরীর ছেলে আর তার বন্ধু অতিমাত্রায় মদ পান করেছিলেন। থানায় থাকা অবস্থাতেও তাদের মুখ থেকে মদের গন্ধ আসছিল। এই অবস্থাতে কোনভাবেই গাড়ি চালানো সম্ভব না সেই সার্জেন্টের কপাল ভাল যে একটুর জন্য বেচে গেছে।
বনানী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নুরে আযম মিয়া বলেন, যে সার্জেন্ট ভুক্তভোগী তিনি কোন অভিযোগ না করায় ছেলেটিকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ না থাকায় তার বিরুদ্ধে মামলা করা সম্ভব হয়নি। আটক হওয়া ছেলেটির গাড়ি চালানোর কোন লাইসেন্স ছিল কি না সে বিষয়ে নিশ্চিত করে বলতে পারে নাই এই ওসি।
এই ঘটনা শুনার পর বনানী থানায় ছুটে আসেন রাজনীতিবিদ মাহি বি চৌধুরীর খালাতো বোন শমী কায়সারের স্বামী ও ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষক মোহাম্মদ এ আরাফাত।
তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান, ঘটনাটা অনেক দুঃখজনক। আমরাও বিদেশে পড়ালেখা করেছি কিন্তু বারবার দেশে ফিরে এসেছি এবং দেশের মত করে থাকার চেষ্টা করেছি। আমিও একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াই অনেককেই দেখছি তাদের সব ভাল শুধু দেশটা ছাড়া।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মাহির ছেলে লন্ডনের পড়ালেখা করে। সে দেশে খুব কম থাকে। শীতের ছুটিতে দেশে বেড়াতে এসেছিল। সে বনানীর একটি অভিজাত হোটেল থেকে মদ পান করে জোরে গাড়ি চালানোর জন্য এয়ারপোর্ট রোডের দিকে যাচ্ছিল। এর আগেই বাধে এই বিপত্তি।
সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এই ঘটনায় কোন মামলা হয় নাই। ধাক্কা দেওয়া গাড়িটাও ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
