নিজস্ব সংবাদদাতা, নওগাঁ; জেলার রানীনগরে আয়েত আলী নামে স্থানীয় এক আওয়ামী লীগের নেতার গুদাম থেকে মহামারী করোনার বন্ধে কাজহীন দুস্থ মানুষের জন্য বরাদ্দ করা ভিজিডির ১৩৮ বস্তা চাল উদ্ধার করা হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার (০২ এপ্রিল ২০২০) সন্ধ্যায় ওই আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িসংলগ্ন গুদাম থেকে এসব চাল উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা চালের পরিমাণ চার মেট্রিক টন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই আওয়ামী লীগ উপজেলার কালিগ্রাম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য। এলাকায় তার ধান-চালের আড়তের ব্যবসা আছে।
উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল সকাল থেকে উপজেলার কালিগ্রাম ইউনিয়নে ২৫০ জন হতদরিদ্রের মধ্যে ভিজিডির চাল বিতরণ কার্যক্রম চলছিল। প্রত্যেককে ৩০ কেজি করে মোট প্রায় সাড়ে সাত মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। এসব চাল বিতরণ কার্যক্রমে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদারকি কর্মকর্তা (ট্যাগ অফিসার) হিসেবে উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা মাকাম্মাম মাহমুদা দায়িত্বে ছিলেন।
বৃহস্পতিবার বিকেলে গোপন সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগ নেতা আয়েত আলীর বাড়িসংলগ্ন গুদামে ভিজিডির চাল মজুত করা রয়েছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে মাকাম্মাম মাহমুদা উপজেলার রাতোয়াল শালগাড়ীপাড়া গ্রামে আয়েত আলীর বাড়িতে অভিযান চালান। ঘটনার সত্যতা পাওয়ার পর তিনি বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) জানান।
পরে রানীনগর উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুল্লাহ আল মামুন, কালিগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম ও রানীনগর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে খাদ্য অধিদপ্তরের সিল মারা ১৩৮টি চালের বস্তা জব্দ করেন। এ ছাড়া ওই গুদাম থেকে খাদ্য অধিদপ্তরের সিল মারা আরও ২০০টি খালি বস্তা জব্দ করা হয়। ঘটনার পর থেকে আয়েত আলী পলাতক।
ঐ ইউনিয়নের বেশ কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেন, আয়েত আলী বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগসাজশ করে কম দামে ভিজিডির চাল কিনে পরে সেগুলো খোলা বাজারে পাইকারি দরে বিক্রি করেন। গত বুধবার রাতে এলাকার লোকজন খাদ্য অধিদপ্তরের সিল মারা বস্তা তার গুদামে নিয়ে যেতে দেখেন। বিষয়টি প্রশাসনের কর্মকর্তাকে জানালে তার গুদামে তল্লাশি চালিয়ে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়। দীর্ঘদিন ধরে আয়েত আলী এই কারসাজি করে আসছেন। তদন্ত করলে ইউপির চেয়ারম্যানদেরও এই কর্মকাণ্ডে সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাবে। এসব ঘটনার বিচার হওয়া দরকার।
জানতে চাইলে কালিগ্রাম ইউপির চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি, ভিজিডি কার্ডধারী যেসব মানুষের মধ্যে চাল বিতরণ করা হয়েছে, তাদের কাছ থেকে আয়েত আলী চালগুলো কিনে নিয়েছেন। এখানে ইউপির লোকজন কোনোভাবে জড়িত নন। ইউএনও সাহেবও কার্ডধারী কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এর সত্যতা পেয়েছেন।’
রানীনগর উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘অনিয়ম করে ব্যবসায়ী আয়েত আলী ক্রয়-বিক্রয়নিষিদ্ধ সরকারি চাল ক্রয় করে মজুত করেছেন। আমরা অভিযান চালিয়ে “খাদ্য অধিদপ্তর, নেট ওজন ৩০ কেজি” সিল মারা ১৩৮ বস্তা চাল জব্দ করেছি। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে ব্যবসায়ী আয়েত আলী পলাতক থাকায় তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছেন কি না, তা খুঁজে বের করতে তদন্ত চলছে।’
আমাদের বাণী ডট কম/০৩এপ্রিল ২০২০/সিসিএ
