সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। আগামীকাল বুধবার বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এই কর্মসূচি পালন করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়কে দেয়া আল্টিমেটাম শেষ হওয়ায় ফের কর্মসূচি ঘোষণা দেয় তারা। এছাড়া আজ মঙ্গলবার সাত কলেজের শিক্ষার্থীর বিক্ষোভ কর্মসূচি চলাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসের গতিরোধ করে নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্থা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদৈর ক্যাম্পাসে প্রবেশে বাধা দান করার প্রতিবাদেও এই বিক্ষোভের ডাক দেয় আন্দোলনকারী ঢাবি শিক্ষার্থীরা।
আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ‘সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিল চাই’কমিটির আহ্বায়ক ও মুখপাত্রের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিল চাই’কমিটির আয়োজিত ১৫ জুলাইয়ের বিক্ষোভ কর্মসূচি পরবর্তী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিল প্রসঙ্গে যে আল্টিমেটাম দেয়া হয়েছিল নির্দিষ্ট সময় অতিবাহিত হওয়ার পরেও বিশ্ববিদ্যালয় কোন সিদ্ধান্তে উপনীত না হওয়ায় এবং সাত কলেজের শিক্ষার্থীর বিক্ষোভ কর্মসূচি চলাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসের গতিরোধ করে নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্থা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদৈর ক্যাম্পাসে প্রবেশে বাধা দান করে।
এর আগে, চলতি ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষ থেকে সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিলের দাবি জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) একদল শিক্ষার্থী। দাবি আদায়ে আজ মঙ্গলবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত সময় দিয়েছেন তারা। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
সোমবার দুপুরে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের মাধ্যমে এ দাবি জানান তারা। ‘ঢাবির সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ’ ব্যানারে এ বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়। দুপুরে রাজু ভাস্কর্য থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে অপরাজেয় বাংলা, কলাভবন হয়ে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ, মধুর ক্যান্টিন ঘুরে ফের রাজু ভাস্কর্যে গিয়ে সমাবেশ করেন তারা।
বিক্ষোভকারীরা ‘রাখতে ঢাবির সম্মান, সাত কলেজ বেমানান’; ‘বাতিল চাই বাতিল চাই, সাত কলেজ বাতিল চাই’; ‘সাত কলেজের অধিভুক্তি, বাতিল কর, করতে হবে’ ইত্যাদি লেখা প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। একপর্যায়ে তারা কিছুক্ষণ রাস্তা বন্ধ করে রাখেন। সমাবেশে বক্তব্য দেন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র শামিম আহমেদ, রাকিবুল ইসলামসহ অন্যরা।
২০১৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর সরকারি সাত কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা হয়। প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ছাড়া এবং সীমিত সামর্থ্যে কয়েক লাখ শিক্ষার্থীর দায়িত্ব নেওয়ায় যুক্তিতে ঢাবি শিক্ষার্থীরা বিলম্বে ফলাফল প্রকাশসহ বিভিন্ন অভিযোগ করে আসছেন।
রাজধানীর নীলক্ষেত মোড়ে সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের অবরোধ ও বিক্ষোভের মুখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বহনকারী বৈশাখী পরিবহনের একটি বাস আটকে যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তা ছেড়ে দিতে বললেও রাজি হয়নি আন্দোলনকারীর। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটেছে। এসময় উভয়পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটিও হয় বলে জানা গেছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত নীলক্ষেত মোড় অবরোধ করে রেখেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থী নাহিদ উদ্দিন তারেক বলেন, ‘আমাদের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে দীর্ঘ সাত মাস পর রেজাল্ট দিয়েছে। অথচ রেজাল্ট দেওয়ার পর সিজিপিএ ১.৯৬ পেয়ে এক বিষয়ে ফেল করেছি। এখন শুনেছি ২ পয়েন্টের নিচে পেলে পরীক্ষা দিতে দিবে না। কিন্তু এত অল্প সময়ের মধ্যে প্রথম বর্ষের প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষা দেওয়া সম্ভব না। তাই আমরা আন্দোলনে নেমেছি।’
দ্রুত ফল প্রকাশসহ বিভিন্ন দাবিতে এবং ‘গণহারে ফেল’ করানোর প্রতিবাদে রাজধানীর নীলক্ষেত মোড় অবরোধ করে সকাল থেকে বিক্ষোভ করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা। এতে ওই সড়ক দিয়ে সব ধরণের যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এসময় দ্রুত সমস্যার সমাধানের দাবি জানিয়েছেন তারা।
আজ মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) সকাল থেকে বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা সেখানে অবস্থান নেন। এসময় তারা অভিযোগ করেছেন, ভালো পরীক্ষা দেওয়া সত্ত্বেও তাদেরকে গণহারে ফেল করানো হয়েছে।
শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, নতুন নিয়ম কার্যকর করায় ভোগান্তিতে পড়ছেনে তারা। এভাবে গণহারে ফেল মেনে নেয়া যায় না। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী সিজিপিএ ২.০০ এর কম পেলে ফেল হিসেবে ধরা হয়। তবে শিক্ষার্থীদের এ তথ্য জানানো হয়নি বলে তারা অভিযোগ করেন। তারা অবিলম্বে এ সমস্যার সমাধান দাবি করেন।
তারা বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করার পর সেশনজট কমার পাশাপাশি শিক্ষার মান বাড়বে। তবে সে আশা পূরণ হয়নি। ফল প্রকাশে বাড়তি সময় নেওয়া হচ্ছে। এসময় অবিলম্বে দাবি মেনে না নেওয়া হলে আরও কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারি দেন তারা।
