নিজস্ব সংবাদদাতা, ফেনী; করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে অগ্রণী ব্যাংকের এক কর্মকর্তার মৃত্যু হয়েছে। আবদুল মালেক নামে ওই কর্মকর্তা দীর্ঘদিন অগ্রণী ব্যাংক ঢাকার তেজগাঁও শাখায় কর্মরত ছিলেন। তার বয়স হয়েছিল প্রায় ৫০ বছর।
- এলাকাবাসী জানান, আবদুল মালেকের বাড়ি ফেনীর পরশুরাম উপজেলার চিথলিয়া ইউনিয়নের উত্তর ধনিকুন্ডা গ্রামে। অসুস্থ বোধ করলে করোনা সন্দেহে নমুনা পরীক্ষা করান তিনি। ফলাফল পজেটিভ আসায় ঈদের দুইদিন আগে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। রোববার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
আজ সোমবার (০১ জুন ২০২০) সকালে পরশুরাম উপজেলার ধনিকুন্ডা গ্রামের নিজ বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করে করোনা রোগী দাফনের স্বেচ্ছাসেবক টিম।
- স্বেচ্ছাসেবক টিম প্রধান ইয়াছিন শরীফ মজুমদার জানান, জানাযা ও দাফনে দুই ছেলে আর স্বেচ্ছাসেবক টিম সদস্য মুহাম্মাদ আলা উদ্দিন, মনচুর আহাম্মদ, মো: জহিরুল ইসলাম হৃদয় ও নহিদ হায়দার অংশ নিয়েছেন। তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। ঢাকায় পৌছে পরিবারের সদস্যরা করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা দেবেন বলে জানিয়েছেন।
পরশুরাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়াসমিন আক্তার জানান, লাশটি করোনা রোগী হওয়ায় নিয়ম মাফিক দাফন করা হয়েছে। দাফনের পরপরই ঢাকায় ফিরে যান আবদুল মালেকের দুই ছেলে।
এদিকে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত হেলথ বুলেটিনের সর্বশেষ (০১ জুন ২০২০) তথ্য অনুযায়ী, দেশে মহামারি করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ২২ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। এ নিয়ে ভাইরাসটিতে মোট ৬৭২ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন আরও ২ হাজার ৩৮১ জন । এতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৪৯ হাজার ৪৭ হাজার ৫৩৪ জনে। দেশে ৫২টি ল্যাবে গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ১৩ হাজার ১০৪টি এবং পরীক্ষা করা হয়েছে ১১ হাজার ৪৩৯টি। আক্রান্তের হার ২০.৮১ শতাংশ। ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৮১৬ জন এবং এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১০ হাজার ৫৯৭ জন। সুস্থতার হার ২১.৩৯ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১.৩৬ শতাংশ। মারা যাওয়া ব্যক্তিদের সম্পর্কে জানানো হয়, পুরুষ ১৯ জন ও নারী তিনজন। এদের মধ্যে ঢাকা বিভাগের ১১ জন, চট্টগ্রাম বিভাগের আটজন, সিলেট বিভাগের দুইজন ও বরিশাল বিভাগের একজন। বয়স বিশ্লেষণে জানা যায়, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে একজন ৪১-৫০ আটজন, ৫১-৬০ চারজন, ৬১-৭০ সাতজন এবং ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে একজন। হাসপাতালে মারা গেছেন ১৬ জন, বাড়িতে পাঁচজন ও হাসপাতালে আনার পথে একজন।
আমাদের বাণী ডট কম/০১ মে ২০২০/সিসিপি
