নোয়াখালী সংবাদদাতা; করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে জেলার বেগমগঞ্জ ও বেগমগঞ্জ উপজেলায় স্বামী-স্ত্রীসহ তিন জনের মৃত্যু হয়েছে।
- আজ সোমবার (০১ জুন ২০২০) সন্ধ্যায় জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. মমিনুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গতকাল (৩১ মে ২০২০) রাতের বিভিন্ন সময় তাদের মৃত্যু হয়।
মৃতদের মধ্যে দুইজন চাটখিল পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড ছয়ানি টগবা গ্রামের ও অপরজন বেগমগঞ্জ উপজেলার মিরওয়ারিশপুরের বাসিন্দা।
- চাটখিল পৌরসভা ৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর নওশাদুল করিম জানান, রোববার রাতে করোনার উপসর্গ নিয়ে তার ওয়ার্ডে ৫৫ বছর বয়সী এক নারী মারা যান। এর আগের দিন শনিবার রাতে ওই নারীর স্বামী (৬০) মারা গেছেন।
চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ও করোনা ফোকাল পার্সন ডা. মো. তামজিদ হোসাইন জানান, মৃত পুরুষের পরিবারের লোকজন তথ্য গোপন করে তার মরদেহ দাফন করে। এর ২৪ ঘণ্টা পর তার স্ত্রী বাড়িতে অসুস্থ হয়ে পড়লে রোববার সন্ধ্যায় চাটখিল পৌর শহরের একটি প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়ে যায় পরিবারের লোকজন। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে রাতে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। রাত ১১টার সময় নিজ বাড়িতে তিনি মারা যান। খবর পেয়ে মৃত নারীর শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এছাড়াও তাদের পরিবারের ৮ সদস্যের নমুনা সংগ্রহ করা হবে।
- এদিকে, রবিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে জেলার বেগমগঞ্জ উপজেলার মিরওয়ারিশপুর ইউনিয়নে ৭০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি নিজ বাড়িতে মারা যান। জ্বর ও শ্বাসকষ্টসহ তার শরীরে করোনা উপসর্গ ছিল। তবে স্বাস্থ্য বিভাগ তার নমুনা সংগ্রহ করতে পারেনি। ওই ব্যক্তির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মিরওয়ারিশপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহাজাহান সাজু।
বেগমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা অসীম কুমার দাস জানান, মিরওয়ারিশপুরের ওই ব্যক্তির মৃত্যুর বিষয়ে কেউ তাকে জানায়নি। তাই মৃত ব্যক্তির নমুনা সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত হেলথ বুলেটিনের সর্বশেষ (০১ জুন ২০২০) তথ্য অনুযায়ী, দেশে মহামারি করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ২২ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। এ নিয়ে ভাইরাসটিতে মোট ৬৭২ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন আরও ২ হাজার ৩৮১ জন । এতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৪৯ হাজার ৪৭ হাজার ৫৩৪ জনে। দেশে ৫২টি ল্যাবে গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ১৩ হাজার ১০৪টি এবং পরীক্ষা করা হয়েছে ১১ হাজার ৪৩৯টি। আক্রান্তের হার ২০.৮১ শতাংশ। ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৮১৬ জন এবং এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১০ হাজার ৫৯৭ জন। সুস্থতার হার ২১.৩৯ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১.৩৬ শতাংশ। মারা যাওয়া ব্যক্তিদের সম্পর্কে জানানো হয়, পুরুষ ১৯ জন ও নারী তিনজন। এদের মধ্যে ঢাকা বিভাগের ১১ জন, চট্টগ্রাম বিভাগের আটজন, সিলেট বিভাগের দুইজন ও বরিশাল বিভাগের একজন। বয়স বিশ্লেষণে জানা যায়, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে একজন ৪১-৫০ আটজন, ৫১-৬০ চারজন, ৬১-৭০ সাতজন এবং ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে একজন। হাসপাতালে মারা গেছেন ১৬ জন, বাড়িতে পাঁচজন ও হাসপাতালে আনার পথে একজন।
আমাদের বাণী ডট কম/০১ মে ২০২০/সিসিপি
