ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা; মহামারী করোনা ভাইরাসের কবলে পড়েছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আরেক শিক্ষার্থী। ওই শিক্ষার্থীর নাম সাজ্জাদুর রহমান সোহাগ। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।
গত ১৮ মে নারায়ণগঞ্জ সদর হাসপাতাল থেকে নমুনা পরীক্ষায় তার রিপোর্ট পজিটিভ আসে। এখন অনেকটা সুস্থ্য আছেন বলে জানিয়েছেন সোহাগ।
জানা যায়, সোহাগ ঈদের আগে তার গ্রামের বাড়ি রংপুরের পীরগঞ্জ থেকে বড় ভাইয়ের বাসা নারায়ণগঞ্জে যায়। তিনি সেখানকার এক গার্মেন্টস কারখানায় চাকরী করেন। মাঝেমাঝে সেখানকার স্থানীয় কাঁচাবাজার থেকে বাজার করতেন তিনি।
পরে তার শরীরে জ্বর, সর্দি, কাঁশি দেখা দিলে গত ১৮ মে নারায়ণগঞ্জ সদর হাসপাতাল থেকে নমুনা পরীক্ষা করান সোহাগ। পরীক্ষায় রিপোর্ট পজিটিভ আসে তার।
এসময় তার বড় ভাইয়ের করোনার লক্ষণ দেখা দিলে তিনিও পরীক্ষা করেন। তবে তার রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। বর্তমানে সোহাগ নারায়নগঞ্জে ভাইয়ের বাসায় হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন।
এ ব্যপারে সোহাগ বলেন, ‘করোনা উপসর্গ দেখা দিলে আমি মুখে কোন স্বাদ পেতাম না। কিছু খেতে পারতাম না। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পেসক্রিপশন অনুযায়ী চলেছি এবং তারা নিয়মিত খোঁজ নিয়েছেন। নিজ বিভাগের শিক্ষকরাও আমার খোঁজ-খবর রাখছেন। এখন অনেকটাই সুস্থ্য হয়েছি। দুই-একের মধ্যে আবার করোনা পরীক্ষা করব।’
উল্লেখ্য, এর আগে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর স্টাডিজ বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী জায়েদ। তিনি এখন সুস্থ্য হয়ে নিজ বাড়িতে অবস্থান করছেন।
এদিকে স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত হেলথ বুলেটিনের সর্বশেষ (৩০মে ২০২০) তথ্য অনুযায়ী,গত ২৪ ঘণ্টায় ৫০টি ল্যাবের মধ্যে নমুনা সংগ্রহ করেছি ১ হাজার ৪৪৩টি। নমুনা পরীক্ষা করেছি ৯ হাজার ৯৮৭টি গতকাল নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছিল ১১ হাজার ৩০১টি। এ পর্যন্ত পরীক্ষা হয়েছে ২ লাখ ৯৭ হাজার ৫৪টি নমুনা। ২৪ ঘণ্টায় এই সংগৃহীত নমুনা থেকে শনাক্ত রোগী পেয়েছি ১ হাজার ৭৬৪ জন। এ পর্যন্ত করোনাভাইরাসে শনাক্ত হয়েছে ৪৪ হাজার ৬০৮ জন। শনাক্তের হার ১৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণ করেছে ২৮ জন। এ পর্যন্ত মৃত্যু দাঁড়ালো ৬১০ জন। শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৩৭ শতাংশ। সুস্থ হয়েছে ৩৬০ জন। মোট সুস্থ হয়েছে ৯ হাজার ৩৭৫ জন। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ২১ দশমিক ০২ শতাংশ। মারা যাওয়া ব্যক্তিদের সম্পর্কে জানানো হয়, পুরুষ ২৫ জন ও নারী তিনজন। এদের মধ্যে ঢাকা বিভাগের ১৮ জন, চট্টগ্রাম বিভাগের সাতজন, রংপুর বিভাগের দুইজন ও সিলেট বিভাগের একজন। ঢাকা বিভাগের মধ্যে ঢাকা সিটির আছেন ১০ জন। বয়স বিশ্লেষণে জানা যায়, ৩১-৪০ বছরের মধ্যে চারজন, ৪১-৫০ চারজন, ৫১-৬০ নয়জন, ৭১-৮০ তিনজন এবং ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে দুইজন। হাসপাতালে মারা গেছেন ২৬ জন ও বাকি দুজন বাড়িতে। ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে নেয়া হয়েছে ৪৬৯ জনকে। আইসোলেশন থেকে ছাড় দেয়া হয়েছে ৮০ জনকে।
আমাদের বাণী ডট কম/৩০ মে ২০২০/সিসিপি
