ডেস্ক রিপোর্ট, ঢাকা;  করোনায় আক্রান্ত হলেন দেশ-বিদেশে আলোচিত নারায়ণগঞ্জের ‘বীর’ খ্যাত কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ। শনিবার তার করোনা পজিটিভ আসে। এর আগে থেকেই তার স্ত্রী করোনায় আক্রান্ত হয়ে আইসোলেশনে রয়েছেন।

  • কাউন্সিলর খোরশেদ জানান, আমি আজ (শনিবার) রিপোর্ট পেয়েছি।এতে আমার দেহে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। আমি করোনা শুরু হওয়ার পর থেকে শুক্রবার পর্যন্ত ৬১টি লাশ দাফন করেছি। এখন নিজ বাড়িতেই আইসোলেশনে চলে গেছি। আমি নিজেই চিকিৎসা নেব বাড়িতে থেকে। সবার কাছে আমার সুস্থতার জন্য দোয়া চাইছি।

তিনি জানান, আমি আক্রান্ত হলেও আমার সব কার্যক্রম চলবে। আমার টিম সক্রিয় থাকবে, আমার ফোন চালু থাকবে। আমি যতদিন বেঁচে আছি এক বিন্দুও নড়ব না।

  • গত ৮ এপ্রিল শহরের জামতলা এলাকায় এমন নাম আফতাবউদ্দিন (৬০)নামে বৃদ্ধের লাশ পড়েছিল বাড়িতে। মৃত্যুর পর লাশ ফেলে পরিবারের লোকজন অন্যত্র চলে যায়। খবর পেয়ে ছুটে আসেন একজন। এই ওয়ার্ডেরই কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ। মৃত্যুভয়কে আলিঙ্গন করে মৃতের লাশ তুলে নেন কাঁধে। মকাসদাইর কবরস্থানে নিয়ে গোসল দেওয়ার পর তিন সহযোগীকে নিয়ে জানাযা পড়েন। এরপর নিজেরাই কবর খুঁড়ে দাফন করেন।

শুধু আফতাবউদ্দিন নয়, নিজ ওয়ার্ডে এবং নগরীর বিভিন্ন এলাকায় করোনায় আক্রান্ত এবং উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া এমন ৬১ জনকে দাফন করেছেন তিনি। সনাতন ধর্মের মারা যাওয়া কয়েকজনের মুখাগ্নীও করেছেন নিজহাতে।

  • সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশংসায় ভাসা এই জনপ্রতিনিধি ইতিমধ্যে ‘করোনা বীর’ উপাধী পেয়েছেন। কেউ কেউ বলছেন মানবতার ফেরিওয়ালা।করোনার আগ্রাসনের শুরু থেকেই মানুষকে শুধু সচেতন করেই খান্ত হননি তিনি। নিজ উদ্যোগে স্ত্রী-সন্তান, স্বেচ্ছাসেবীদের নিয়ে রাতের পর রাত জেগে হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরি করেছেন, বিলি করেছেন এবং এর কৌশল অন্যদের শিখিয়েছেন। নিজ ওয়ার্ডের অনেক জায়গায় মানুষের জন্য হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করেছেন। খাবার নিয়ে ছুটে যাচ্ছেন মানুষের দ্বারে দ্বারে।

এরই মধ্যে ওয়ার্ডবাসীকে কমমুল্যে খাদ্যদ্রব্য বিতরণ, সরকারী ও নিজস্ব সহায়তার পাশাপাশি করোনায় সুস্থ হওয়াদের প্লাজমা সংগ্রহেও কাজ করছিলেন এই করোনা বীর। এ ছাড়া টিম খোরশেদেভ উদ্যোগে মেডিকেল টিমও ওয়ার্ডবাসীকে স্বাস্থ্য সেবা দিয়ে আসছে।

  • সস্তা প্রচার কিংবা লোক দেখানোর জন্য নয়, নিজের প্রাণের তাগিদ, জনগণের কাছে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি আর দায়িত্ববোধের জায়গা থেকেই এসব কাজ নিজ হাতে করছেন বলে এর আগে দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছিলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ।

এদিকে স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত হেলথ বুলেটিনের সর্বশেষ (৩০মে ২০২০) তথ্য অনুযায়ী,গত ২৪ ঘণ্টায় ৫০টি ল্যাবের মধ্যে নমুনা সংগ্রহ করেছি ১ হাজার ৪৪৩টি। নমুনা পরীক্ষা করেছি ৯ হাজার ৯৮৭টি গতকাল নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছিল ১১ হাজার ৩০১টি। এ পর্যন্ত পরীক্ষা হয়েছে ২ লাখ ৯৭ হাজার ৫৪টি নমুনা। ২৪ ঘণ্টায় এই সংগৃহীত নমুনা থেকে শনাক্ত রোগী পেয়েছি ১ হাজার ৭৬৪ জন। এ পর্যন্ত করোনাভাইরাসে শনাক্ত হয়েছে ৪৪ হাজার ৬০৮ জন। শনাক্তের হার ১৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণ করেছে ২৮ জন। এ পর্যন্ত মৃত্যু দাঁড়ালো ৬১০ জন। শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৩৭ শতাংশ। সুস্থ হয়েছে ৩৬০ জন। মোট সুস্থ হয়েছে ৯ হাজার ৩৭৫ জন। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ২১ দশমিক ০২ শতাংশ। মারা যাওয়া ব্যক্তিদের সম্পর্কে জানানো হয়, পুরুষ ২৫ জন ও নারী তিনজন। এদের মধ্যে ঢাকা বিভাগের ১৮ জন, চট্টগ্রাম বিভাগের সাতজন, রংপুর বিভাগের দুইজন ও সিলেট বিভাগের একজন। ঢাকা বিভাগের মধ্যে ঢাকা সিটির আছেন ১০ জন। বয়স বিশ্লেষণে জানা যায়, ৩১-৪০ বছরের মধ্যে চারজন, ৪১-৫০ চারজন, ৫১-৬০ নয়জন, ৭১-৮০ তিনজন এবং ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে দুইজন। হাসপাতালে মারা গেছেন ২৬ জন ও বাকি দুজন বাড়িতে। ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে নেয়া হয়েছে ৪৬৯ জনকে। আইসোলেশন থেকে ছাড় দেয়া হয়েছে ৮০ জনকে।

আমাদের বাণী ডট কম/৩০  মে ২০২০/সিসিপি 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।