হুমায়ুন কবির, কুষ্টিয়া জেলা সংবাদদাতা; কুষ্টিয়া মিলপাড়া এলাকার এইচ আর এস ইন্ডাষ্ট্রিজ লিমিটেডের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর অভিযোগের অন্ত নেই। এলাকাবাসী জানায় আবাসিক এলাকার মধ্যে এই প্রতিষ্ঠান তামাক ক্রাসিং করে। যখন তামাক ক্রাসিং এর কাজ করে তখন তামাকের তীব্র গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। এই গন্ধে বাড়িতে থাকা দুস্কর হয়ে যায়। অনেক সময় বমি হয়ে যায়। এলাকার অনেকেই বাড়িতে থাকতে না পেরে বাড়ি ছেড়ে বিভিন্ন আত্মীয়ের বাড়িতে চলে গেছে। এই প্রতিষ্ঠানের পাশে রয়েছে দুই টা স্কুল সহ প্রচুর বাড়িঘর। স্কুলে ঠিকভাবে ক্লাস করতে চায়না ছাত্র-ছাত্রীরা। বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেও প্রতিকার পায়নি এলাকাবাসী।
এলাকাবাসী জানায়, প্রতিদিন ২৪ ঘন্টা চলে এই প্রতিষ্ঠান। আগে এখানে সিগারেট তৈরি করা হতো আর এখন তামাক প্রস্তুত করা হয়। ২০১৬ সালে আমরা এলাকাবাসী জেলা প্রশাসক কুষ্টিয়া, পুলিশ সুপার কুষ্টিয়া, মেয়র কুষ্টিয়া পৌরসভা, পরিবেশ অধিদপ্তর কুষ্টিয়া, মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কুষ্টিয়া ও দি চেম্বার অফ কমার্স কুষ্টিয়া বরাবর লিখিত অভিযোগ করি। পরে প্রতিষ্ঠানের মালিকের কাছ থেকে সুবিধা নিয়ে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এলাকাবাসীর কাছে দুই বছর আগে এই প্রতিষ্ঠানের মালিক হাফিজুর রহমান ৬ মাসের সময় নেই। কিন্তু দুই বছর পেরিয়ে গেলেও তিনি কোন ব্যবস্থা করেনি।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আমরা মিলপাড়াস্থ স্থানীয় বাসিন্দা। বেশ কিছুদিন যাবত এইচ আর এস ইন্ডাষ্ট্রিজ লিমিটেড বিভিন্ন ধরনের তামাক ক্রাসিং করছে। যার ফলে বায়ু দূষিত হয়ে উক্ত এলাকার বাসিন্দাদের দুর্গন্ধে বসবাস করার অযোগ্য হয়ে উঠেছে। ফলে আমাদের বৃদ্ধ মা-বাবা, ভাই-বোন ও ছোট ছোট শিশুদের বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দিয়েছে।
মিলপাড়া এলাকার কাজল জানান, এইচ আর এস ইন্ডাষ্ট্রিজ এর তামাকের ঝাঁঝালো গন্ধে আমরা বাড়িতে থাকতে পারিনা। আমার বৃদ্ধ মাকে ঢাকা আমার এক আত্মীয়ের বাড়িতে রেখে এসেছি। মা বাড়িতে আসতে চাচ্ছে আমি আনতে পারছি না। এখানে থেকে আমার মায়ের শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। তাই তাকে ঢাকা রেখে এসেছি। সে বাড়িতে আসতে চাচ্ছে কিন্তু আমরা আনতে পারছিনা। আমার পরিবার নিয়ে কষ্টে দিন পার করছি। ইতিপূর্বে আমরা এলাকাবাসী জেলা প্রশাসক কুষ্টিয়া, পুলিশ সুপার কুষ্টিয়া, মেয়র কুষ্টিয়া পৌরসভা, পরিবেশ অধিদপ্তর কুষ্টিয়া, মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কুষ্টিয়া ও দি চেম্বার অফ কমার্স কুষ্টিয়া বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করি। কিন্তু এই দুর্গন্ধ থেকে পরিত্রাণ পাচ্ছি না।
এইচ আর এস ইন্ডাষ্ট্রিজ লিমিটেড সামনে সোনালী প্রিপারেটরী স্কুল রয়েছে। সেই স্কুলের প্রধান শিক্ষক কামাল হোসেন বলেন, এখানে তামাক যখন ক্রাসিং করে তখন প্রচুর দুর্গন্ধ ছড়ায়। তখন ছেলেমেয়েরা বিরক্ত হয়ে যায়। মাঝে মাঝে অসুস্থ হয়েও যায়। আমরা চাই আবাসিক এলাকা থেকে তামাক ক্রাসিং বন্ধ করা হোক।
এক ছাত্র জানায়, আমরা স্কুলে ঠিকভাবে পাঠদান করতে পারিনা। গন্ধে অসুস্থ হয়ে যায়। এলাকার এক মহিলা জানান, আমরা নামাজ পড়তে পারিনি, খাতি পারিনি, ছেলেমেয়েরা পড়তে পারে না। গতরাতে সেহরি খাওয়ার পর দুর্গন্ধে বমি করে দি।
এবিষয়ে এইচ আর এস ইন্ডাষ্ট্রিজ লিমিটেড এর প্রতিষ্ঠানে গিয়ে দেখা যায় সেখানে শ্রমিকরা কাজ করছে নিরাপত্তা পোশাক ছাড়ায়। মুখে মাস্ক ও শরীরে নেই এপ্রোন। সেখানে মালিক হাফিজুর রহমান এর সাথে কথা বললে তিনি বলেন, আমি সব কাগজপত্র নিয়ে ব্যবসা করতে বসেছি। কার কি সমস্যা সেটা দেখার দায়িত্ব আমার না। তখন পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র দেখতে চাইলে তিনি দেখাতে পারেনি।
এদিকে এলাকাবাসী জোর দাবি এই তামাক ক্রাসিং যত দ্রুত সম্ভব অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হোক।
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ তাপস কুমার সরকার বলেন, গ্লাভস, অ্যাপ্রোন, মাক্স ছাড়া তামাক ফ্যাক্টরিতে কাজ করা শ্রমিকদের ফুসফুসের সমস্যা, ক্যান্সার, শ্বাসকষ্ট সহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তামাকের এই তীব্র গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে এলাকার মানুষের শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগ হতে পারে।
এবিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর কুষ্টিয়ার উপ-পরিচালক মোঃ আতাউর রহমান এর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি কালই বিষয়টি দেখবো।
আমাদের বাণী ডট কম/২৯এপ্রিল ২০২০/পিপিএ
