প্রাইভেট টিউশনি ও কোচিং বাণিজ্যের সাথে জড়িত শিক্ষকদেরকেই জেএসসি পরীক্ষায় পরিদর্শকের দায়িত্ব দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। যশোরের মণিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জ কেন্দ্রসচিব বিআরডিবি কর্মকর্তা আব্দুস সবুরের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ করেছেন অভিভাবকরা। অভিভাবকদের আবেদনের প্রেক্ষিতে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বিকাশ চন্দ্র সরকার অভিযুক্ত শিক্ষকদের দায়িত্বে না রাখতে চিঠি দিয়েছেন। কিন্তু কেন্দ্রসচিব সেই নির্দেশনা না মানায় অভিভাবকসহ শিক্ষকদের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে, রাজগঞ্জ কেন্দ্রে উপজেলার পশ্চিমাঞ্চলের ২৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৯১৩ জন পরীক্ষার্থী জেএসসি ও ভোকেশনাল পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। কেন্দ্র সচিবের দায়িত্ব পালন করছেন উপজেলা বিআরডিবি কর্মকর্তা আব্দুস সবুর।

কোচিং বাণিজ্যে জড়িত থাকার অভিযোগ যাদের বিরুদ্ধে: রবিউল ইসলাম, উত্তম কুমার পাল, মোঃ আব্দুল মাজিদ. মোঃ কামরুজ্জামান, মোঃ নূরুল ইসলাম, মোঃ রেজাউল করিম, হাবিবুর রহমান, মোঃ মাহাবুর রশিদ, রবীন্দ্রনাথ সরকার, মোঃ শাহীন আলম, উপান্দ, বিকোনন্দ ও মনিরুজ্জামান। গত ২৯ অক্টোবর তাদেরকে পরীক্ষার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত আবেদন করেন। আবেদনকারীদের মধ্যে মোঃ ওবাইদুর রহমান, কার্ত্তিক চন্দ্র হালদার, মিজানুর রহমান রয়েছেন।

অভিযোগ পাওয়ার পর ইউএনও আহসান উল্লাহ শরিফী বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নিতে বলেন এবং শিক্ষা অফিসার বিকাশ চন্দ্র সরকার সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা গ্রহণের স্বার্থে অভিযুক্ত শিক্ষকদের দায়িত্ব পালনে সমীচীন নয় মর্মে কেন্দ্র সচিবকে চিঠি দেন। কিন্তু সেই চিঠির তোয়াক্কা না করে কেন্দ্র সচিব আব্দুর সবুর সহকারি শিক্ষক উত্তম কুমার পালকে হল সুপার এবং রবিউল ইসলাম, আব্দুল মাজিদ, হাবিবুর রহমানকে কেন্দ্রের অন্যান্য দায়িত্ব দেন।

অভিভাবকদের অভিযোগ, শিক্ষক উত্তম কুমার পাল, আব্দুল মাজিদ ও কামরুজ্জামান রাজগঞ্জ বাজারের জনতা হোটেলের মালিক নান্নুর বাসা ভাড়া নিয়ে কোচিং সেন্টার চালাতেন। কিন্তু প্রশাসনের নরজরদারির কারনে মাস দুয়েক আগে বন্ধ করলেও শিক্ষক উত্তম কুমার পাল সকালে বাশারের বাড়িতে এবং বিকেলে রাজগঞ্জ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৪তলা ভবনের নিচ তলায়, শিক্ষক আব্দুল মজিদ দন্ত চিকিৎসক আব্দুর রউফ এর বাড়িতে এবং রবিউল ইসলাম নিজের বাড়িতে চন্দ্রা স্ব’মিলের সামনে ব্যাচ করে প্রাইভেট ও কোচিংয়ে পড়ান।

আরো অভিযোগ রয়েছে, কেন্দ্র ফি হিসেবে যে ৩ লাখ ৮৭ হাজার ৮৫০ টাকা রয়েছে তার সিংহভাগই খরচ হবে না। সেই টাকা নয়-ছয় করতেই কেন্দ্র সচিব আব্দুস সবুর তার পছন্দের শিক্ষকদের দায়িত্ব দিয়েছেন। আর এসব শিক্ষকদের কোচিংয়ে আসা শিক্ষার্থীদের সুযোগ দিতেই দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। শিক্ষকদের কাছে পড়তে আসাদের সুযোগ দিতেই ৪ নভেম্বর ইংরেজি পরীক্ষার দিন রাজগঞ্জ স্কুলের ইংরেজি শিক্ষক আফসানা শারমিনকে কক্ষ পরিদর্শকের দায়িত্বে দেয়া হয়।

অবশ্য কেন্দ্র সচিব আব্দুর সবুর তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে দৈনিক শিক্ষাকে বলেন, কয়েকজন শিক্ষককে দায়িত্ব থেকে অব্যহতি দেয়া হয়েছে।

মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বিকাশ চন্দ্র সরকার  বলেন, অভিভাবকদের আবেদনের প্রেক্ষিতে অভিযুক্ত শিক্ষকদের অব্যহতি দিতে পত্র দেয়া হয়েছে। যশোর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাধব চন্দ্র রুদ্র বলেন, বিষয়টির তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।