ডেস্ক রিপোর্ট; চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলায় আত্মহত্যার উদ্দেশ্যে বটি দিয়ে নিজের গলা কেটে ফেলা সেই গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছেন। আজ শুক্রবার (০৮ মে ২০২০) সকাল ৯টায় কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হতে ফেরার পথে তার মৃত্যু হয়।
জানা যায়, গত ২৯ এপ্রিল বুধবার সকালে উপজেলার রায়শ্রী দক্ষিণ ইউনিয়নের কুরকামতা গ্রামের বেপারী বাড়ির রাহাতের স্ত্রী শাহীন (২৫) আত্মহত্যার উদ্দেশ্যে বটি দিয়ে নিজের গলা কেটে ফেলেন। ওই দিন বিকেলে তাকে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হতে চিকিৎসা শেষে শাহরাস্তি পৌরসভার ছিখুটিয়া গ্রামে তার বাবার বাড়ি অবস্থান করতে থাকেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। কুমি হতে ফেরার পথে শুক্রবার সকালে গাড়িতেই তার মৃত্যু হয়।
এদিকে ওই নারীর বাবা আবুল কালাম বাদী হয়ে শাহরাস্তি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে (মামলা নং-৩, তারিখঃ ০৮-০৫-২০২০)।
তবে তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, বিভিন্ন হাসপাতালে ছুটাছুটি করলেও মুলত চিকিৎসার অভাবে আমার মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে ধান শুকাতে গিয়ে শাহীন মাথা ঘুরে পড়ে যায়। সাথে সাথে তাকে শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে ভর্তি করা হলে করোনা আতঙ্কে হাসপাতাল রোগীশূন্য থাকায় আমরা রাতেই হাসপাতাল হতে তাকে বাড়ি নিয়ে যাই। শুক্রবার ভোর রাতে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ভর্তি করা হলে আশপাশে করোনা রোগী থাকায় আমরা তাকে নিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে যাত্রা করলে পথিমধ্যে তার মৃত্যু হয়।
শাহরাস্তি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: শাহ আলম জানান, ভিকটিমের বাবা এ ঘটনায় মামলা দায়ের করেছেন। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হয়ে।
হাজীগঞ্জ ও কচুয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আফজাল হোসেন জানান, ঘটনার সাথে ছড়িয়ে পড়া ভিকটিমের ভিডিও বক্তব্যের প্রেক্ষিতে পুলিশ বিশদভাবে তদন্ত কার্যক্রম চালায়। এতে বিষয়টি আত্মহত্যার চেষ্টা বলে তদন্তে উঠে আসে। ভিকটিম তার জবানবন্দীতে হতাশা জনিত কারণে নিজেই নিজের গলায় বটি চালিয়েছে মর্মে জানায়। তার দেয়া তথ্যমতে পুলিশ ঘটনায় ব্যবহৃত বটি উদ্ধার করে।
প্রসঙ্গত, ঘটনার সাথে সাথে গৃহবধূর শ্বশুর বাড়িতে গেলে বাড়ির লোকজন ঘটনার বর্ণনা দিয়ে আহত গৃহবধুর বক্তব্যের একটি ভিডিও ক্লিপ সাংবাদিকদের দেখান। তাতে ওই গৃহবধু জানায়, অজ্ঞাত দুই দুর্বৃত্ত বসত ঘরের পেছনের দরজা দিয়ে প্রবেশ করে তার হাত-মুখ বেঁধে পাশবিক নির্যাতনের চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়। এক পর্যায়ে সে চিৎকার দিতে গেলে তারা ব্লেড ভেঙ্গে তার মুখের ভেতর ঢুকিয়ে স্কচটেপ এঁটে দেয় এবং ব্লেড দিয়ে তার গলা কেটে ফেলে।
ঘটনার সাথে সাথে পুলিশের একটি টিম হাসপাতালে ওই গৃহবধূকে দেখতে আসে। সেখানে গৃহবধূর বক্তব্যের প্রেক্ষিতে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার মুখে স্কচটেপ আঁটার কোনো চিহ্ন দেখতে না পেয়ে এক্সরের মাধ্যমে গলার ভিতরের ব্লেড শনাক্ত করতে চেষ্টা করেন। এক্সরেতে অস্বাভাবিক কিছু ধরা না পড়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
সাথে সাথেই হাজীগঞ্জ ও কচুয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আফজাল হোসেন, শাহরাস্তি থানার অফিসার ইনচার্জ শাহ্ আলম ও পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো: শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। সেখানে ক্রাইম স্পট পরিদর্শনে ঘটনার সাথে গৃহবধূর বক্তব্যের মিল না পেয়ে বাড়ির লোকজনকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করে। এক পর্যায়ে ভিকটিমের শ্বশুর ইউনুছ মিয়া ও শাশুড়ি ছকিনা বেগম জানান, পারিবারিক কলহের কারণে বেশ কয়েকদিন ধরেই তাদের পুত্রবধূ বলে সে অনেক ভুল করেছে, তাকে যেন ক্ষমা করে দেয়।
ওইদিন বিকেলে শাহরাস্তি থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল আউয়াল ওই গৃহবধূর পিত্রালয় শাহরাস্তি পৌরসভার ছিখুটিয়া গ্রামে গিয়ে ঘটনার বিবরণ জানতে চাইলে গৃহবধূ অসংলগ্ন কথাবার্তা বলতে থাকেন। এক পর্যায়ে তিনি আত্মহত্যার উদ্দেশ্যে এ কাজ করেছেন বলে জানান। এ ব্যাপারে তিনি অনুতপ্ত ও ক্ষমা প্রার্থী বলেও জানান। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে শ্বশুরবাড়ি হতে বুধবার রাতেই পুলিশ গলাকাটায় ব্যবহৃত বটিটি উদ্ধার করেন। সূত্র; নয়াদিগন্ত
আমাদের বাণী ডট/০৮ মে ২০২০/পিবিএ
