জীবন দিয়ে বাল্যবিয়ের প্রতিবাদ করলো স্কুল ছাত্রী জান্নাতুল ফেরদৌসী জান্নাতি (১৩)। আজ বুধবার (১৫ জানুয়ারি, ২০২০) সন্ধ্যায় ময়নাতদন্ত শেষে তার লাশ নিজ গ্রামে দাফন করা হয়েছে। তার বাবার নাম দুলাল হোসেন। তিনি পেশায় একজন ক্ষুদ্র ফল ব্যবসায়ী। তার বাড়ি নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়নের সাতপাই মুচিরহাটে। ওই ছাত্রী সাতপাই স্কুল এন্ড কলেজে ৮ম শ্রেণিতে অধ্যয়ন করত। মঙ্গলবার বিকেলে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে সে।

নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ওই স্কুল ছাত্রীর অমতে আগামী শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) বিয়ের দিনক্ষণ ধার্য করা হয়েছিল। এজন্য মঙ্গলবার তার বাবা দুলাল হোসেন ও মা মালেকা বেগম বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা থেকে ঋণও উত্তোলন করেন। এদিন বাবা মা দুপুরের পর এনজিও থেকে টাকা তুলতে বাড়ি থেকে শহরে আসে। এরই ফাঁকে শোয়ার ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় রশি পেঁচিয়ে সে আত্মহত্যা করে। বাবা মা বাড়িতে গিয়ে মেয়ের এমন অবস্থা দেখে হতবাক হয়ে পড়ে। পরে তাদের আর্তচিৎকার শুনে পাড়া প্রতিবেশীরা ছুটে এসে ওই স্কুল ছাত্রীকে উদ্ধার করে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করে।

খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতাল থেকে লাশ উদ্ধার করে সৈয়দপুর থানায় নিয়ে আসে। গতকাল বুধবার লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করতে নীলফামারী মর্গে নিয়ে যাওয়া হয়। ময়নাতদন্ত শেষে সন্ধ্যায় লাশ বাড়িতে আনা হলে সেখানে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়।

সাতপাই স্কুল এন্ড কলেজের একাধিক শিক্ষক জানান, জান্নাতুল ফেরদৌস অত্যন্ত মেধাবী ছিল এবং বাল্যবিয়ের কুফল নিয়ে সহপাঠীদের সঙ্গে প্রায়ই আলোচনা করতো। অথচ তাকেই বাল্যবিয়ের শিকার হতে হবে এমনটি কখনও সে ভাবেনি। জান্নাতুল ফেরদৌসের বেশ কয়েকজন বান্ধবী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলে, সে বাল্যবিয়ে না করতে বাবা মার সঙ্গে অনেক বাদ প্রতিবাদ করেছিল। কিন্তু বাবা মা তার কথা আমলে না নেয়ায় বাধ্য হয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। সে জীবন দিয়ে বাল্যবিয়ের বিরুদ্ধে তার মত অটুট রাখলো বলে তার সহপাঠীরা জানান।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।