নিজস্ব সংবাদদাতা, ঢাকা; প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস সংকটের কারণে দুই মাসেরও বেশি সময় বন্ধ থাকার পর আগামীকাল রবিবার (৩১ মে ২০২০) থেকে আট জোড়া ট্রেন ঢাকা থেকে বিভিন্ন রুটে ট্রেন ছেড়ে যাবে। একই সঙ্গে বিভিন্ন স্টেশন থেকে ঢাকায় আসবে। ট্রেন ছাড়ার এক ঘণ্টা আগে যাত্রীকে স্টেশনে পৌঁছাতে হবে বলে জানিয়েছেন রেলপথ মন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন।
আজ শনিবার (৩০ মে ২০২০) রেলভবনের সম্মেলন কক্ষ যমুনায় (৮ম তলা) করোনা পরবর্তী ট্রেন চলাচলের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা জানান।
- মো. নূরুল ইসলাম সুজন বলেন, আমরা ট্রেনে খাবার ব্যবস্থা রাখছি না। বিশেষ কেবিনে আমরা এখন থেকে ট্রেনে আর বালিশ-কাঁথা সরবরাহ করব না। যাত্রা শুরুর পাঁচদিন পূর্বে টিকেট সংগ্রহ করা যাবে। টিকেট ছাড়া কেউ স্টেশনে প্রবেশ করতে পারবেন না।
একইসঙ্গে তিনি বলেন, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ সব ধরনের স্বাস্থ্যবিধি মেনে রেল পরিচালনা করা হবে। এ জন্য তাপমাত্রা পরিমাপের সুবিধার্থে যাত্রীদের ট্রেন ছাড়ার কমপক্ষে ৬০ মিনিট পূর্বে স্টেশনে পৌঁছাসহ যাত্রী সাধারণকে বেশ কিছু বিধি মেনে ট্রেনে চলাচল করতে হবে বলে ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী উল্লেখ করেন।
- তিনি বলেন, প্রত্যেক যাত্রী নিজেকে সুরক্ষায় সচেষ্ট থাকবেন, সহযাত্রীকে সুরক্ষায় সহযোগিতা করবেন। ট্রেনের ৫০ শতাংশ টিকিট বিক্রি করা হবে। সকল ট্রেনের টিকিট অনলাইনে সংগ্রহ করতে হবে, কাউন্টারে টিকিট বিক্রি হবে না। যাত্রী সাধারণকে আবশ্যিকভাবে মাস্ক পরিহিত অবস্থায় স্টেশন এলাকায় বা ট্রেনে প্রবেশ করতে হবে। ট্রেনের অভ্যন্তরে যাত্রীদের নির্দিষ্ট আসনে অবস্থান করতে হবে। ট্রেনে আরোহণ এবং অবতরণের জন্য নির্দিষ্ট দরজা ব্যবহার করতে হবে। বর্তমান স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলার লক্ষ্যে ট্রেনে খাবার সরবরাহ বন্ধ থাকবে। যাত্রার তারিখসহ পাঁচদিন পূর্ব হতে টিকেট ক্রয় করা যাবে।
তিনি বলেন, যাত্রীদের প্রয়োজনীয় খাদ্য ও পানীয় সঙ্গে নিতে হবে। তাপমাত্রা পরিমাপের সুবিধার্থে যাত্রীদের ট্রেন ছাড়ার কমপক্ষে ৬০ মিনিট পূর্বে স্টেশনে পৌঁছাতে হবে। কোনো অবস্থাতেই টিকেট ছাড়া প্লাটফর্মে প্রবেশ করা যাবে না। দর্শনার্থী/প্লাটফর্ম টিকিট বিক্রয় বন্ধ থাকবে। মাসিক/স্বল্প দূরত্বের যেমন- ঢাকা বিমানবন্দর, জয়দেবপুর, নরসিংদীতে কোনো ট্রেন থামবে না।
এদিকে স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত হেলথ বুলেটিনের সর্বশেষ (৩০মে ২০২০) তথ্য অনুযায়ী,গত ২৪ ঘণ্টায় ৫০টি ল্যাবের মধ্যে নমুনা সংগ্রহ করেছি ১ হাজার ৪৪৩টি। নমুনা পরীক্ষা করেছি ৯ হাজার ৯৮৭টি গতকাল নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছিল ১১ হাজার ৩০১টি। এ পর্যন্ত পরীক্ষা হয়েছে ২ লাখ ৯৭ হাজার ৫৪টি নমুনা। ২৪ ঘণ্টায় এই সংগৃহীত নমুনা থেকে শনাক্ত রোগী পেয়েছি ১ হাজার ৭৬৪ জন। এ পর্যন্ত করোনাভাইরাসে শনাক্ত হয়েছে ৪৪ হাজার ৬০৮ জন। শনাক্তের হার ১৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণ করেছে ২৮ জন। এ পর্যন্ত মৃত্যু দাঁড়ালো ৬১০ জন। শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৩৭ শতাংশ। সুস্থ হয়েছে ৩৬০ জন। মোট সুস্থ হয়েছে ৯ হাজার ৩৭৫ জন। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ২১ দশমিক ০২ শতাংশ। মারা যাওয়া ব্যক্তিদের সম্পর্কে জানানো হয়, পুরুষ ২৫ জন ও নারী তিনজন। এদের মধ্যে ঢাকা বিভাগের ১৮ জন, চট্টগ্রাম বিভাগের সাতজন, রংপুর বিভাগের দুইজন ও সিলেট বিভাগের একজন। ঢাকা বিভাগের মধ্যে ঢাকা সিটির আছেন ১০ জন। বয়স বিশ্লেষণে জানা যায়, ৩১-৪০ বছরের মধ্যে চারজন, ৪১-৫০ চারজন, ৫১-৬০ নয়জন, ৭১-৮০ তিনজন এবং ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে দুইজন। হাসপাতালে মারা গেছেন ২৬ জন ও বাকি দুজন বাড়িতে। ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে নেয়া হয়েছে ৪৬৯ জনকে। আইসোলেশন থেকে ছাড় দেয়া হয়েছে ৮০ জনকে।
আমাদের বাণী ডট কম/৩০ মে ২০২০/সিসিপি
