সাইফুল ইসলাম শুভ। পড়াশোনা করতেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে। রাজধানীর শ্যামলীর একটি মেসে থেকে পড়াশোনা করতেন তিনি। টিউশনি করে পড়াশোনার খরচ চালাতেন নিম্ন মধ্যবিত্ত ঘরের সন্তান শুভ।
তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা করতে গিয়ে স্ট্যাটাস মেইনটেইন ও সেমিস্টার ফি যোগান দিতে গিয়ে বিপাকে পড়ে যান তিনি। সেমিস্টার ফি ম্যানেজ করতে করতে যেন হাঁপিয়ে উঠেছিলেন শুভ। কুলিয়ে উঠতে না পেরে অবশেষে নিজের প্রাণটাই দিয়ে দিলেন শুভ।
গত বুধবার সন্ধ্যায় মেস থেকে তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন তিনি। শুভ রাজধানীর সোনাগাঁ ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের ছাত্র ছিলেন।
শেরেবাংলা নগর থানার ওসি জানে আলম মুনশি বলেন, লাশ উদ্ধারের সময় পাশে একটি চিরকুট পাওয়া গেছে। তাতে লেখা ছিল, ‘দারিদ্র্যের কারণে পরিবারের আশা পূরণ করতে পারিনি, সে জন্য আমি মা-বাবার কাছে ক্ষমা চাচ্ছি।’
শেরেবাংলা নগর থানা-পুলিশ জানায়, সাইফুল শ্যামলীর ২ নম্বর সড়কের ১৪/১ নম্বর বাড়ির নিচতলায় একটি মেসে থাকতেন। বুধবার সন্ধ্যায় তার রুমমেট এসে ভেতর থেকে দরজা ছিটকিনি লাগানো দেখতে পান। অনেক ডাকাডাকি করেও তার কোনো সাড়া না পাওয়ায় শেরে বাংলা নগর থানায় জানানো হয়। পরে পুলিশ এসে দরজা ভেঙে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় গামছা প্যাঁচানো অবস্থায় সাইফুলের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে। পরে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়। পরে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
