নিজস্ব সংবাদদাতা, খুলনা; এক কিংবা দুই নয় তিন হাসপাতাল ঘুরেও চিকিৎসা না পেয়ে খুলনায় রিফাত নামের এক প্রাথমিক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। গত মঙ্গলবার (৩১ মার্চ ২০২০) সন্ধ্যায় রিফাতের মৃত্যু হয়। দুরারোগ্য লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত রিফাত নগরীর খালিশপুর হাউজিং বিহারি ক্যাম্প নং ১-এর বাসিন্দা মো. কাশেমের ছেলে। সে খালিশপুর ওব্যাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র।
এ বিষয়ে রিফাতের নানা মো. কলিমুদ্দীন জানান, রিফাত অনেক দিন ধরেই অসুস্থ। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ ২০২০) দুপুর আড়াইটার দিকে সে আরও অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক নেই বলে তাকে ভর্তি করা হয়নি। অবস্থার অবনতি হলে তিনি রিফাতকে খালিশপুর ক্লিনিকে নিয়ে যান।
তিনি বলেন, ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ জানায়, বর্তমানে কোনো চিকিৎসক নেই। তারা গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেয়। গাজী মেডিকেলে নেওয়ার পর সেখানেও বলা হয়, চিকিৎসক নেই। হাসপাতালে ঘুরতে ঘুরতে সন্ধ্যায় রিফাত মারা যায়।
জানতে চাইলে এ ব্যাপারে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. শেখ আতিয়ার রহমান জানান, চিকিৎসকের অভাবে রোগী ভর্তি নেওয়া হবে না- এমন হওয়ার সুযোগ নেই। বিষয়টি আমি খোঁজ নিয়ে দেখব।
এ বিষয়ে খালিশপুর ক্লিনিকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, `লিভার সিরোসিস রোগীর জন্য আইসিইউ দরকার হয়। জটিল অবস্থায় থাকার কারণেই ওই রোগীকে ভর্তি না করে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে গাজী মেডিকেলে রেফার করেন। তার পরও বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।`
শুধু প্রাথমিকের এই ক্ষুদে শিক্ষার্থী রিফাতই নয় এর ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত হলেও করোনা সন্দেহে বিনাচিকিৎসায় মুক্তিযোদ্ধা আলমাছ উদ্দিন গত রবিবার (২৯ মার্চ ২০২০) সকালে রাজধানীর মুগদা হাসপাতালে ইন্তেকাল করেছেন বলে তার দুই ছেলে আরিফ হাসান ও আশফাক আহমেদ বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন।
মুক্তিযোদ্ধা আলমাছের স্বজনদের অভিযোগ, আলমাছ গতকাল শনিবার ভোরে ব্রেইন স্ট্রোক করলে তাকে প্রথমে রাজধানীর বারেডেম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হলে পর্যায়ক্রমে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল, পপুলার হাসপাতাল ও কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধা আলমাসকে করোনা সন্দেহে কোথাও ভর্তি করা হয়নি।
আমাদের বাণী ডট কম/০২ এপ্রিল ২০২০/পিপিএ
