আশুক আহমদ; আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এ বিশ্বব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টির সাথে সাথে অসংখ্য মাখলুকাত সৃষ্টি করেছেন। তাঁর সৃষ্টি জগতের মধ্যে সর্ব শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি হল মানুষ। মানুুষকে বলা হয় “আশরাফুল মাখলুকাত” বা সৃষ্টির সেরা জীব। মানুষের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে দার্শনিক এ্যারিস্টটল বলেছিলেন, “মানুষ হলো বুদ্ধিবৃত্তিসম্পন্ন জীব” (Man is a Rational Animal)। এই সর্বশ্রেষ্ঠ বুদ্ধিবৃত্তিসম্পন্ন জীব মানুষ তার মহান সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত মান ও হুঁশ বজায় রাখতে পারছে না বলে আজ মানুষে মানুষে সংঘাত, মারা-মারি, হানা-হানি। আগের দিনে মানুষ রাতে জীব জানোয়ারের ভয়ে একা বের হত না এখন মানুষ তার মতো অন্য মানুষের ভয়ে রাতে একা চলাফেরা করে না।
আজকাল প্রতিনিয়তই সংবাদপত্রগুলোতে চোখ রাখলেই দেখতে পাওয়া যায় স্বামীর হাতে স্ত্রী, স্ত্রীর হাতে অথবা সহযোগিতায় স্বামী, সন্তানের হাতে মা/ বাবা, বাবা /মায়ের হাতে সন্তান, প্রেমিকের হাতে প্রেমিকা খুন। তুচ্ছ ঘটনা বা সামান্য স্বার্থের লোভে একজন অন্যজনকে হত্যার ঘটনা এখন নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। যদি মানুষ সর্বশ্রেষ্ঠ জীব হয়েই থাকে তবে কেন এত খুনখারাবি,বর্বরতা, নৃশংস কর্মকাণ্ড। তবে কী মানুষ যে বিবেকের কারণে সর্বশ্রেষ্ঠ জীব বলে আখ্যায়িত হয়েছে সে বিবেক হারিয়ে চতুষ্পদ প্রাণীর কাতারে চলে যাচ্ছে। সমাজের কিছু স্বার্থপর সুবিধাবাদী মানুষের জন্য সমগ্র মনুষ্যজাতিকে তো আর আমরা বিবেকহীন বলতে পারি না। কারন সব মানুষ কখনই সমান হতে পারে না। জগতে ভাল আর মন্দ বলে দুটো গুন আছে। আর তাই সবাইকে আমরা এক আসনে স্থান না দিয়ে ভালকে ভাল আর মন্দকে মন্দের আসনেই স্থান দিব। কিন্তু মানুষ কেন মন্দ স্বভাবের হবে, তাকে তো কোনটা ভাল আর কোনটা মন্দ তা বিচার করার ক্ষমতা দিয়ে আল্লাহ দুনিয়ায় পাঠিয়েছেন।
অন্যান্য জীব সে ক্ষমতা পায়নি বলে তারা ভাল মন্দের বিচার না করেই চলাফেরা করে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করে। মরে গেলে তার জীবন শেষ কিন্তু মানব জাতির মৃত্যুর পর শুরু হয় পরকালীন জীবন। সে জীবনে তাকে কড়ায় গন্ডায় ইহকালের হিসাব দিতে হবে মহান রবের দরবারে। একজন মানুষ মারা যাওয়ার পর দুনিয়াবাসী তার করে যাওয়া কর্ম নিয়ে আলোচনা করে। পৃথিবীতে অনেক মুুনি-ঋষি, জ্ঞানী-গুণী, কবি-সাহিত্যিক আছেন যে তারা তাদের কর্মের মধ্যে দিয়ে বেঁচে আছেন। আর কিছু মানুষ আছে যে, তাদের কর্ম এবং তাদের কথা মনে হলেই শরীর ভয়ে আঁৎকে ওঠে। প্রতিটি মানুষের বিবেক তার একান্তই নিজস্ব। সব মানুষের বিবেক বুদ্ধি সমান নয়।
প্রত্যেক মানুষ যেমন আলাদা তেমনি তার বিবেক আলাদা হয়ে থাকে। আর মানুষের এই বিবেক হলো তার শ্রেষ্ঠ আদালত। যদি তার ভাল এবং মন্দ বিচার করার মত ক্ষমতা থাকে তবে সে বিবেকবান আর যদি না থাকে তবে বিবেকহীন। বিবেকহীন মানুষ পশুর সমান। যে মানুষের পশুর মত আচরণ থাকে তাকে শ্রেষ্ঠ জীব বলাটাই অন্যায়। আমাদের মনে রাখতে হবে “মানুষ বাচে তার কর্মের মধ্যে, বয়সের মধ্যে নহে “।
লেখকঃ প্রধান শিক্ষক, দক্ষিণ ভাগ এনসিএম উচ্চ বিদ্যালয়, বড়লেখা, মৌলভীবাজার।
