নারায়ণগঞ্জ সংবাদদাতা; জেলায় এ পর্যন্ত ১৫৯ জন শ্রমিক করোনা আক্রান্তের খবর নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। তাদের মধ্যে ৬ জন এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছে। নারায়ণগঞ্জে সর্ব্বোচ্চ শ্রমিক আক্রান্ত হয়েছে ফকির গ্রুপে। প্রতিষ্ঠানটিতে সর্বমোট ৩১ জন করোনায় আক্রান্তের খবর নিশ্চিত করে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।
- এ ছাড়াও নারায়ণগঞ্জে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন অবন্তী কালার টেক্স, আবির গার্মেন্টস, অ্যাবলুম নিটওয়ার, অনন্ত গ্রুপ, আড়ং, অ্যাসরোটেক্স, মারিয়া, চৈতি গ্রুপ, ক্রোণী গ্রুপ, এস্কয়ার, ফ্যাম ডিজাইন, ফ্যাশন, ইব্রাহিম গার্মেন্টস, নিট কনসার্ন গ্রুপ, মডেল গ্রুপ, ইউনিক, মনিরা, নিটেক্স, এনআর গ্রুপ, প্যানটেক্স, রুপসি গ্রুপ, শোভন গ্রুপ, ইউনেসকো বিডি লিমিটেডসহ বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকরা। এই সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে বলে জানা গেেেছ।
২৬ মার্চ থেকে শুরু হওয়া সাধারণ ছুটি ৩০ মের পর আর বাড়ানো হয়নি। এর আগে ১০ মে খুলে দেওয়া হয় দেশের সব বিপণিবিতান। তারও কয়েক দিন আগে ২৬ এপ্রিল খুলে দেওয়া হয় গার্মেন্টসহ সব শিল্প প্রতিষ্ঠান। তারই ধারাবাহিকতায় নারায়ণগঞ্জেও খুলতে থাকে গার্মেন্টসসহ সব শিল্প প্রতিষ্ঠান। সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজী ইপিজেড, ফতুল্লার বিসিক শিল্প এলাকাসহ পুরো জেলায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে সাড়ে ৫শ ছোট বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন কয়েক লাখ শ্রমিক। শুধু সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজী ইপিজেডেই কাজ করেন প্রায় ৬০ হাজার শ্রমিক। এত বড় শ্রমিক অধ্যুষিত এই জেলায় শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এক রকম চ্যালেঞ্জ। সরেজমিন নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান ঘুরে দেখা গেছে, কোথাও স্বাস্থ্যবিধিকে অত্যধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, আবার কোথাও নামে মাত্র স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে। বিশেষ করে বড় বড় কম্পোজিট প্রতিষ্ঠানগুলো বেশ সতর্কতার সঙ্গে শ্রমিকদের স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে চেষ্টা করছে। কিন্তু ছোট ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানগুলোয় তেমন কোনো নিয়মনীতি মানা হচ্ছে না। অনেক প্রতিষ্ঠানে হাত ধোয়ারও ব্যবস্থা নেই।
- গার্মেন্টসহ শিল্প প্রতিষ্ঠানে শ্রমিকদের করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে বেশ কিছু নীতিমালা ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে মানতে বলা হয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে নারায়ণগঞ্জের প্রতিষ্ঠানগুলোকে সেসব নীতিমালা মানতে বলা হয়েছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডা. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে প্রদেয় নীতিমালা ইতোমধ্যে আমরা জেলার সব প্রতিষ্ঠানকে অবহিত করেছি। এ পরিপ্রেক্ষিতে সব প্রতিষ্ঠানকে বলা হয়েছে তাদের শ্রমিকদের প্রতিষ্ঠানের ভেতরে মাস্ক পরতে। স্যানিটাইজার ব্যবহার বা সাবান দিয়ে বারবার হাত ধুতেও বলা হচ্ছে। কোনো শ্রমিকের শরীরে জ্বর থাকলে তাকে কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করতে না দিয়ে আলাদাভাবে আইসোলেশনে রাখতে বলা হয়েছে। এসব নীতিমালা আমরা গার্মেন্টস খোলার সময় থেকেই সবাইকে অবহিত করে আসছি। এ ছাড়াও আমরা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে গিয়ে সেগুলো মনিটরিং করছি।
এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এর করোনাভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত হেলথ বুলেটিনের সর্বশেষ (১৪ জুন ২০২০) তথ্য অনুযায়ী দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩২ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে মহামারি করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯)। ফলে ভাইরাসটিতে মোট ১১৭১ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে করোনায় আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ৩ হাজার ১৪১ জন। এতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ৮৭ হাজার ৫২০জনে। গতকাল নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছিল ১৬ হাজার ৬৩৮টি আর আজ পরীক্ষা করা হয়েছে ১৪৫০৫ টি। নমুনা পরীক্ষা কমলেও বেড়েছে শনাক্তের সংখ্যা ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৯০৩ জন। ফলে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেন মোট ১৮ হাজার ৩৩১ জন।
আমাদের বাণী ডট কম/১৪ জুন ২০২০/ডিএ
