জাহিদুর রহমান তারিক, ঝিনাইদহ জেলা সংবাদদাতা; জেলার কালীগঞ্জে নিখোঁজের ১৬ দিন পর কেয়া খাতুন (১৫) নামের এক মাদ্রাসাছাত্রীর গলিত মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
আজ শুক্রবার (১৩ মার্চ ২০২০) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার ত্রিলোচনপুর-দাদপুর গ্রামের মাঠ থেকে তার মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত কেয়া স্থানীয় বালিয়াডাঙ্গা দাখিল মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী এবং ত্রিলোচনপুর গ্রামের ছানাউল হকের মেয়ে।
নিহত ছাত্রীর দাদা মোশাররফ মন্ডল বলেন, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি রাতে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় কেয়া। এরপর খোঁজাখুজি করে না পেয়ে ১ মার্চ কালীগঞ্জ থানায় একটি সাধারন ডায়েরি (জিডি) করে তার পরিবার। চার মাস আগে উপজেলার নরেন্দ্রপুর গ্রামের মনসুর আলী মালিথার ছেলে সাবজেল হোসেনের সঙ্গে কেয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে কেয়া বাবার বাড়িতেই ছিল। নিখোঁজের কয়েকদিন পরেই আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে শ্বশুরবাড়িতে তুলে দেওয়ার কথা ছিল।
তিনি আরও জানান, আজ সকালে ত্রিলোচনপুর-দাদপুর গ্রামের মাঠের মধ্যে রাস্তার পাশে একটি কলাবাগানে চুলের ব্যান্ডসহ অন্যান্য জিনিস পড়ে থাকতে দেখে সন্দেহ হয়। পরে পুলিশকে খবর দেয় স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মাটি খুড়ে বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার করে। এরপর পোশাক-পরিচ্ছদ দেখে লাশটি কেয়ার বলে সনাক্ত করে পরিবার।
বালিয়াডাঙ্গা দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘কেয়া খাতুন মাদ্রাসার নিয়মিত ছাত্রী ছিল। ২০১৯ সালে সপ্তম শ্রেণি থেকে বার্ষিক পরীক্ষা দিয়ে পাশ করেছিল। চলতি শিক্ষা বছরে সে একদিনও মাদ্রাসায় আসেনি। শুনেছি বিয়ে হয়ে গেছে। এর বেশি কিছু জানতাম না।’
এ বিষয়ে ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আবুল বাশার জানান, স্থানীয়দের মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে রাস্তার পাশের একটি কলাক্ষেত থেকে একটি গলিত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। শরীরের হাড়গুলো আলাদা হয়ে গেছে। যে কারণে চেনার কোনো উপায় নেই। তবে পরিবারের লোকজন পোশাক দেখে দাবি করছে এটা নিখোঁজ কেয়ার মরদেহ।’
কী কারণে এবং কীভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে তা তদন্ত ছাড়া বলা যাচ্ছে না বলেও জানান পুলিশের এই কর্মর্কতা।
আমাদের বাণী ডট কম/১৩ মার্চ ২০২০/টিএ
