নিজস্ব সংবাদদাতা, ঢাকা; প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস এখন বিশ্বজুড়ে আতঙ্কের নাম। বাংলাদেশে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে ২৬ মার্চ থেকে আগামী ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা থাকলে গতকাল মঙ্গলবার তা বাড়িয়ে ১১ এপ্রলি পর্যন্ত করা হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই ছুটি আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে আসন্ন রমজানের ঈদের আগে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলছে না এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছে।
করোনাভাইরাসের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম সাময়িক পরীক্ষা আগামী ১৫ এপ্রিল থেকে ২৪ এপ্রিলের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবার কথা থাকলেও প্রাথমিকের প্রথম সাময়িক পরীক্ষা যে হচ্ছে না তার ইঙ্গিত দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই)।
আরও পড়ুন; হচ্ছে না প্রাথমিকের ১ম সাময়িক পরীক্ষা
গতকাল মঙ্গলবার ( ৩১ মার্চ ২০২০) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. ফসিউল্লাহ এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, প্রাথমিকের প্রথম সাময়িক পরীক্ষা স্থগিত করা হতে পারে। যেখানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা যাচ্ছে না সেখানে পরীক্ষা নেয়ার কথা চিন্তা করা যায় না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে সাময়িক পরীক্ষা পেছানো হতে পারে, এতে শিক্ষার্থীদের তেমন ক্ষতি হবে না বলেও জানান তিনি।
আরও পড়ুন; প্রাথমিকে চলতি সপ্তাহ থেকে শুরু হচ্ছে টেলিভিশনে ক্লাস সম্প্রচার
মহাপরিচালক বলেন, বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় আমরা টিভি ও অনলাইন পোর্টালে শ্রেণি কার্যক্রম সম্প্রচার করার সিদ্ধান্ত নিয়ে কাজ শুরু করেছি। এখন শিক্ষকদের একসঙ্গে করার সুযোগ না থাকায় বিষয়ভিত্তিক গ্রুপ করে দিয়ে তাদের নির্দেশনা দিয়েছি। টিভি বা অনলাইন পোর্টালে ক্লাস দেখে শিক্ষার্থীদের বাড়ির কাজ করতে হবে। স্কুল খোলার পর তা সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের কাছে জমা দিতে হবে। বাড়ির কাজের ওপর প্রাপ্ত নম্বর শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিক মূল্যায়নের অংশ হিসেবে বিবেচিত হবে।
তবে কবে নাগাদ এ পরীক্ষা হবে তা সুস্পষ্ট করে বলেন নি মহাপরিচালক মো. ফসিউল্লাহ । প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, ১ম সাময়িক পরীক্ষা যদি ঈদের পরে চলে যায় সেক্ষেত্রে ২য় সাময়িক পরীক্ষা নিকটে চলে আসবে। অসুবিধায় পড়বে কয়েক লক্ষ প্রাথমিক শিক্ষার্থী। আর যদি বিশ্বের পরিস্থিতি এমন ভাবে কয়েক মাস চলতে থাকতে তাহলে বাংলাদেশও এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ এত সহজে হবে না। সেক্ষেত্রে ইদের পরেও এই পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হবে কি না তা এখনই বলা যাচ্ছে না।
আরও পড়ুন; প্রচণ্ড শ্বাসকষ্টে মারা গেলেন প্রাথমিক শিক্ষিকা
তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে আজ বুধবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, বর্তমান পর্যন্ত বাংলাদেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক। তবে বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে যেভাবে করোনার প্রাদুর্ভাব বিস্তার হচ্ছে তাতে ঈদের আগে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলবে না। তবে এই ক্ষেত্রে অনেক সিলেবাস পরীক্ষা কমে আসবে।
আরও পড়ুন; প্রাথমিকে ছুটি বৃদ্ধির ইঙ্গিত, ক্লাস হবে ভিডিও’র মাধ্যমে!
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, করোনার এই পরিস্থিতিতে প্রাথমিকের সিলেবাস ও পরীক্ষা সময়সূচী শুধু এই সময়ই না আর এই ১ম সাময়িক পরীক্ষায় নয় পুরো বছরের ক্লাস পরীক্ষার সিলেবাস পরিবর্তন করা হতে পারে। এটা পরিস্থিতির উপর নির্ভর করবে। আগামী দিনের কি পরিস্থিতি দাঁড়ায় তার উপর নির্ভর করবে। তবে এনিয়ে অধিদপ্তর কাজ করছে এখন থেকেই।
আরও পড়ুন; নিন্ম আয়ের মানুষের জন্য মাস্ক তৈরি করছেন প্রাথমিক শিক্ষিকা মা-মেয়ে
দীর্ঘ বন্ধের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্যও ক্লাস লেকচার ভিডিও রেকডিং করে সংসদ টিভিতে প্রচারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এছাড়া শ্রেণি কার্যক্রমের এসব ভিডিও সারাবছর শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত রাখতে আলাদা অনলাইন পোর্টাল তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর। ‘আমার ঘরে আমার ক্লাস’ শিরোনামে ২৯ মার্চ থেকে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির ক্লাস সংসদ টিভিতে সম্প্রচার শুরু হয়েছে। বিদ্যালয় বন্ধ থাকার সময় ভিডিও কনফারেন্স সিস্টেম যেমন, গুগল ক্লাসরুম, জুম, হ্যাংআউট, স্কাইপের মতো প্রযুক্তি ব্যবহার করে লাইভ ক্লাসরুমের মাধ্যমে পাঠদান পরিচালনা করতে প্রাথমিকের শিক্ষা কর্মকর্তাদের সম্প্রতি পাঠানো এক চিঠিতে নির্দেশনা দিয়েছে ডিপিই।
আমাদের বাণী ডট কম/০১ এপ্রিল ২০২০/পিএ

