প্রাথমিক স্কুলে কোমলমতি শিশুরা পড়াশোনা করে। কোমলমতি এ শিশুদের পক্ষে দীর্ঘ সময় স্কুলে অবস্থান করা কষ্টসাধ্য ব্যাপার। ফলে স্কুলের সময়সূচি কম এবং বার্ষিক ছুটি বেশি হওয়া প্রয়োজন। ইতোপূর্বে হাইস্কুলের কিশোর শিক্ষার্থীদের জন্য বার্ষিক ছুটি ৮৫ দিন হলেও প্রাথমিকের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বার্ষিক ছুটি ছিল ৭৫ দিন। তবে, ২০২০ খ্রিষ্টাব্দে প্রাথমিক স্কুলের বার্ষিক ছুটি ৭৫ দিন থেকে বাড়িয়ে ৮৫ দিন নির্ধারণ করায় কর্তৃপক্ষকে অশেষ ধন্যবাদ। এতে প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের বার্ষিক ছুটি বৈষম্য নিরসন হয়েছে।
অপরদিকে দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে, স্কুলের সময়সূচি নিয়ে ১ম শিফটের শিক্ষকদের সাথে ২য় শিফটের শিক্ষকদের মধ্যে চরম বৈষম্য সৃষ্টি করা হয়েছে। কারণ, ১ম ও ২য় উভয় শিফটের শিক্ষকদের সকাল ৯টায় স্কুলে উপস্থিত থাকতে হলেও ১ম শিফটের শিকক্ষদের বিকাল সোয়া ৩টা পর্যন্ত ও ২য় শিফটের শিক্ষকদের বিকাল ৪টা পর্যন্ত স্কুলে অবস্থান করতে হয়। একই মন্ত্রণালয়, একই বেতন ও একই মর্যাদা হওয়া সত্বেও যা দ্বিতীয় শিফটের শিক্ষকদের জন্য বৈষম্যমূলক।
আবার, পূর্বে বৃহস্পতিবারে অর্ধদিবস হিসেবে উভয় শিফটে স্কুলের সময়সূচি ছিল সকাল ৯টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত। বর্তমানে যা ১ম শিফটের শিক্ষকদের জন্য সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা ২৫ মিনিট পর্যন্ত এবং ২য় শিফটের শিক্ষকদের জন্য সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। এখানেও দ্বিতীয় শিফটের শিক্ষকদের সাথে বৈষম্য করা হয়েছে। অর্ধদিবসে যদি বিকাল ৩টার সময় প্রস্থান করতে হয় তাহলে সেটা কি করে অর্ধদিবস হয়? সেটা তো পূর্ণদিবস হয়ে যায়।
প্রত্যেক সরকারি প্রাথমিক স্কুলের সময়সূচি ২ শিফটে বিভক্ত করার সিদ্ধান্ত সরকারের। ফলে এ বিষয়ে যদি কোনো ব্যর্থতা থাকে সেটাও সরকারের। দ্বিতীয় শিফটের শিক্ষকরাও মানুষ,রোবট নয়। ফলে সরকারের ব্যর্থতার দায় কেন দ্বিতীয় শিফটের শিক্ষকরা নেবে? তাই কর্তৃপক্ষের কাছে বিনীত অনুরোধ, প্রাথমিক স্কুলের ১ম ও ২য় উভয় শিফটের শিক্ষকদের কর্মঘণ্টা সকাল ৯টা থেকে বিকাল সোয়া ৩টা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হোক।
লেখক : মাহফিজুর রহমান মামুন,সহকারী শিক্ষক, ভীমদামাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পঞ্চগড়।
