সরকারি প্রাইমারি স্কুলে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের মধ্যে বেতন বৈষম্য নিরসনের দাবিতে দেশজুড়ে শিক্ষকদের কর্মবিরতি অব্যাহত রয়েছে। আজ অর্ধ দিবস কর্মবিরতি পালন করবেন শিক্ষকরা।
এ দিকে গতকাল দ্বিতীয় দিনে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারগণ বিদ্যালয় পরিদর্শন করে, কোন কোন শিক্ষক কর্মবিরতিতে অংশ নিচ্ছেন, তার তালিকা করছেন বলে জানা গেছে। অপর দিকে জেলা প্রাথমিক শিক্ষক নেতাদের ডেকে বিদ্যালয়ের কারা কারা কর্মবিরতিতে অংশ নিচ্ছেন বা করছেন, তার তালিকা চেয়েছেন জেলা শিক্ষা অফিসারগণ।
কর্মবিরতি পালনের কর্মসূচির ডাক দেয়া বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদের শীর্ষ নেতারা জানিয়েছেন, জেলার সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব শিক্ষকই কর্মবিরতিতে অংশ নিচ্ছেন বলে জেলা শিক্ষা অফিসারদের অবহিত করেছেন, জেলার নেতারা। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারগণ বিদ্যালয় পরিদর্শন করে কোন কোন অফিসার কর্মবিরতির সঠিক চিত্র তুলে ধরছেন না অভিযোগ করেছেন। তারা জেলা শিক্ষা অফিসারদের প্রতিবেদন দিচ্ছেন যে, কোন কোন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকেরা কর্মবিরতিতে অংশ নিচ্ছেন না। এটি সঠিক নয়। তারা জেলা শিক্ষা অফিসারের ভয়ে এসব অসত্য তথ্য দিচ্ছেন বলে ঐক্য পরিষদ শীর্ষ নেতারা জানান।
ঘোষিত কর্মবিরতির দ্বিতীয় দিনে গতকাল সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত শিক্ষকেরা ক্লাস বর্জন করে নিজ নিজ স্কুলে এ কর্মবিরতিতে অংশগ্রহণ করেন। প্রাথমিক শিক্ষকদের ১৪টি সংগঠন নিয়ে গঠিত মোর্চার ব্যানারে দেশব্যাপী কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষকেরা। প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদ নেতারা গতকাল জানান, আজ বুধবার সারা দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা অর্ধ দিবস কর্মবিরতি পালন করবেন।
আগামীকাল ১৭ অক্টোবর পূর্ণ দিবস কর্মবিরতি পালন করবেন বলে শিক্ষকেরা জানান। বেতন বৈষম্য নিরসন না হলে শিক্ষকেরা ২৩ অক্টোবর ঢাকায় মহাসমাবেশ করবেন এবং মহাসমাবেশ থেকে আরো কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দেয়া হবে।
প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক আনিসুর রহমান বলেন, দাবি আদায় না হলে কর্মসূচি চলমান থাকবে। সদস্যসচিব মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদ বলেন, আমরা চাই কর্তৃপক্ষ হুমকি ধমকি না দিয়ে দ্রুত ১১তম গ্রেড ও ১০ম গ্রেডের প্রস্তাবনা আবার অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাথে শিক্ষকদের দাবির যৌক্তিকতা তুৃলে ধরতে পারেন। তিনি আরো বলেন, পাশাপাশি আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ চাই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর একটি নির্দেশনাই এ ক্ষেত্রে যথেষ্ট।
শিক্ষক নেতা আনোয়ারুল ইসলাম তোতা বলেন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষকদের কর্মসূচি পালনে বাধ্য করেছে। মন্ত্রণালয়টি শিক্ষকদের সমস্যা দ্রুত সমাধান না করে শিক্ষকদের প্রতিপক্ষ হিসেবে আচরণ করছেন।
প্রধান সমন্বয়ক আতিকুর রহমান বলেন, ২৩ অক্টোবর মহাসমাবেশ থেকে আরো কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। নীতিনির্ধারণী চেয়ারম্যান আব্দুল্যাহ সরকার বলেন, দাবি বাস্তবায়নে কর্তৃপক্ষ শতভাগ আন্তরিক হোক এটাই চাই।
প্রধান মুখপাত্র বদরুল আলম বলেন, শিক্ষকদের কর্মসূচির কারণে আলোচনার একটা পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। আশা করি কর্তৃপক্ষ দ্রুত আলোচনায় বসবেন। সংগঠনের মুখপাত্র রবিউল হাসান বলেন, যৌক্তিক দাবিতেই সব শিক্ষকই কর্মসূচি পালন করছেন। প্রথম যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাশেম বলেন, বৈষম্য নিরসন না হওয়া পর্যন্ত তারা কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন।
