শান্তি চুক্তির ২২ বছর পদর্পনে সোমবার সকালে গুইমারা মডেল হাই স্কুল মাঠ প্রাঙ্গন হতে এক বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে গুইমারা রিজিয়ন মাঠে এসে শেষ হয়। সকাল ৯টায় মাঠে আলোচনা সভা ও শান্তি চুক্তির উপর বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া প্রতিযোগিদের মাঝে পুরস্কার বিতরন করা হয়।

এতে প্রধান অতিথি ছিলেন, গুইমারা রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ শাহরিয়ার জামান এএফডব্লিউসি পিএসসি,জি। বিশেষ অতিথি ছিলেন, গুইমারা সেক্টর কমান্ডার কর্ণেল আব্দুল হাই পিএসসি,জি, সিন্দুকছড়ি জোন কমান্ডার লে. কর্ণেল রুবায়েত মাহমুদ হাসিব পিএসসি,জি, যামিনি পাড়া জোন কমান্ডার মোঃ মিজানুর রহমান পিএসসি,জি, মানিকছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার গুইমারা তুষার আহমেদ, গুইমারা ইউপি চেয়ারম্যান মেমং মারমা মারমা, গুইমারা কলেজ অধ্যাক্ষ নাজিম উদ্দীন প্রমুখ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের মানুষ মিলেমিশে রয়েছে বলেই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রয়েছে। পার্বত্য শান্তিচুক্তির ফলে সকল সম্প্রদায় ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে একত্রিত হতে পেরেছে। সকলের সহযোগিতা থাকলে ভবিষ্যতে পাহাড়ে শান্তি বিরাজমান থাকবে।

উক্ত অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরষ্কার বিতরন করেন এবং অন্যান্য অতিথিগণ বক্তব্য রাখেন। বক্তব্য শেষে প্রধান অতিথি মেলায় বিভিন্ন জোন ও উপজেলা প্রশাসনের সাজানো স্টল পরিদর্শন করেন।

এছাড়াও বিকেলে মনোজ্ঞ সম্প্রীতি কনসাটের আয়োজন করা হয়েছে। এতে চট্টগ্রাম ও স্থানীয় জনপ্রিয় শিল্পীরা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করেন।

প্রসঙ্গত, পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘদিন ধরে চলমান রক্তপাত ও সংঘাত নিরসনে ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিক উদ্যোগে স্বাক্ষরিত হয় ঐতিহাসিক পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি। সরকারের পক্ষে সে সময়ে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং জনসংহতি সমিতির পক্ষে (জেএসএস সভাপতি) জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা) পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর করেন। শান্তিপূর্ণভাবে বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে সারাবিশ্বে একটি অনন্য দৃষ্টান্ত হিসাবে এ চুক্তি তৃতীয় কোনো পক্ষের মধ্যস্থতা ছাড়াই স্বাক্ষরিত হয়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।