নাটোর সংবাদদাতা; বয়স মাত্র সাত বছর, আর এই সাত বছরের এক শিশুকে পালাক্রমে বলাৎকারের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার এক সপ্তাহ কেটেছে গ্রাম্য মোড়লদের দেয়া বিচারের প্রতিশ্রুতিতে। এখন থানায় মামলা হয়নি। জেলার গুরুদাসপুর উপজেলার খুবজীপুর স্কুলপাড়া গ্রামে ২৭মে সন্ধ্যায় ওই বলাৎকারের ঘটনা ঘটেছে।
- এঘটনায় শিশুটির পিতা বাদী হয়ে ২৮ মে তিনজনকে অভিযুক্ত করে গুরুদাসপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। ওই অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ কোন ব্যবস্থা নেয়নি। এঘটনায় কোন মামলাও হয়নি।
স্থানীয়রা জানান- বামনবাড়িয়া গ্রামে নির্যাতনের শিকার শিশুটির বাড়ি। ওই শিশু তার নানার বাড়ি খুবজীপুরে থাকে। সে খুবজীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র।
- শিশুটির পিতার অভিযোগ- প্রতিবেশি কামরুল ইসলামের ছেলে হৃদয় (১৫), আরশেদ আলীর ছেলে জামরুল (১৬) ও জালালের ছেলে মারুফ (১৪) শিশুটিকে প্রথমে প্রলোভন দেখিয়ে পরে হুমকি দিয়ে পালাক্রমে বলাৎকার করে। বিষয় না বলতে হুমকিও দেয়া হয়। ঘটনার পর শিশুটিকে উদ্ধার করে আহত অবস্থায় স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে নাটোর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়। অভিযুক্ত তিনজনই সম্পর্কে শিশুটির মামা।
অভিযুক্ত জামরুলের মা জামিরন ও মারুফের বাবা জালাল ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বলাৎকারের ঘটনায় তারা গ্রাম্য সালিশে আপোষ করতে চান।
- শিশুটির বাবা আরো জানান, গ্রাম্য মোড়লা আট হাজার টাকায় জোরপূর্বক আপোষ মিমাংসা করার চেষ্টা করেন স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুস সামাদ। পুলিশি সহযোগিতা না পাওয়ায় তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
বলাৎকারের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ইউপি সদস্য আব্দুস সামাদ বলেন, বিষয়টি নিয়ে সপ্তাহখানেক ধরে আপোষের চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু বলাৎকারের শিকার শিশুটির পরিবার তা মানেনি।
- এ ব্যাপারে গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাহারুল ইসলাম বলেন, শিশু বলাৎকারের ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। পুলিশ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবে।
আমাদের বাণী ডট কম/০১ মে ২০২০/সিসিপি
