গাজীপুরের ভাওয়ালের গড় পরিবেশ বিদ, ভূগোলবিদ, শিল্পী, ভাবুক, লেখক ও গবেষকসহ ভ্রমণপ্রিয় দেশি-বিদেশি মানুষের কাছে কাঙ্ক্ষিত স্বর্গরাজ্য হিসেবে সুবিবেচিত। এর নিসর্গ ও অবকাশ যাপনের অনুকূল পরিবেশ পর্যটকদের সহজেই কাছে টানে। মুগ্ধ করে ছায়া সুনিবিড় বনপথ।

এ বনে আজ থেকে প্রায় ২যুগ আগেও বাঘ, কালোচিতা, চিতাবাঘ, মেঘলা চিতা, হাতি, ময়ূর, মায়া হরিণ ও সম্বর হরিণ দেখা যেত। ১৯৮৫ সালে এ বনে খেঁকশিয়াল, বাঘডাস, বেজী, কাঠবিড়ালী, গুঁইসাপ আর কয়েক প্রজাতির সাপ দেখা গেছে। একটি হিসাব অনুযায়ী, ভাওয়াল গড়ে ৬৪ প্রজাতির প্রাণী রয়েছে যার মধ্যে ৬ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ৯ প্রজাতির সরীসৃপ, ১০ প্রজাতির উভচর ও ৩৯ প্রজাতির পাখি রয়েছে। বনবিভাগ এ বনে অজগর, ময়ূর, হরিণ ও মেছোবাঘ ছেড়েছে।বএছাড়া ২০১২ সালে ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানে ১৬টি তক্ষক ছাড়া হয়।

ভাওয়াল গড় মূলত ক্রান্তীয় পতনশীল পত্রযুক্ত বৃক্ষের বনভূমি। এ বনে ২২১ প্রজাতির উদ্ভিদ রয়েছে যার মধ্যে ২৪ প্রজাতির লতা, ২৭ প্রজাতির তৃণ, ৩ প্রজাতির পামজাতীয় বৃক্ষ, ১০৫ প্রজাতির ঔষধি, ১৯ প্রজাতির গুল্ম, ৪৩ প্রজাতির বৃক্ষ। শাল, (Shorea robusta) এ উদ্যানের প্রধান বৃক্ষ। অন্যান্য বৃক্ষের মধ্যে কাঁঠাল, আজুলি, কুম্ভী, গান্ধী গজারি ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। এছাড়া এ বনে কৃত্রিমভাবে ইউক্যালিপটাস আর রাবারের বনায়ন করা হয়েছে।

এই জাতীয় উদ্যানে আজ সব প্রাণীও বৈচিত্রপূর্ণ উদ্ভিদ আজ হারাতে বসেছে। দুই চার টা শিয়াল আর বানর ছাড়া তেমন কিছু চোখে পড়ে না তাছাড়া বনদস্যুও ভুমিদস্যুদের কবলে বিভিন্ন প্রাজাতির উদ্ভিদও আজ বিলুপ্তির পথে। সংরক্ষণ ছাড়া এই ভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদ টিকিয়ে রাখা যাবে না।

[wpdevart_like_box profile_id=”https://www.facebook.com/amaderbanicom-284130558933259/” connections=”show” width=”300″ height=”550″ header=”small” cover_photo=”show” locale=”en_US”]

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।