বেকারী শিল্পের কাঁচামালের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রংপুর বিভাগীয় বেকারী শিল্প মালিকরা। সহসাই যদি এ শিল্পের কাঁচামালের মূল্য না কমে তাহলে অনেক বেকারী প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাবে। ফলে এর সাথে জড়িত হাজার হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে যাবে। তাই এ ক্ষুদ্র শিল্পকে বাঁচাতে কাঁচামালের বাজার নিয়ন্ত্রণে দ্রুত সরকারের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
গত শুক্রবার (১০ জানুয়ারি, ২০২০) বিকেলে সৈয়দপুরে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ব্রেড, বিস্কুট ও কনফেকশনারী প্রস্তুতকারক সমিতির রংপুর বিভাগীয় সভায় ওই উদ্বেগ ব্যক্ত করা হয়।
শহরের ইকু হেরিটেজ এ্যান্ড রিসোর্ট মিলনায়তনে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় রংপুর বিভাগের ৮ জেলার বেকারী মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ব্রেড, বিস্কুট ও কনফেকশনারী প্রস্তুতকারক সমিতির নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন নীলফামারী জেলা কমিটির সভাপতি ও ডায়মন্ড কনফেকশনারীর মালিক মো. আখতার সিদ্দিকী পাপ্পু। সভায় মূখ্য আলোচক ছিলেন উত্তরবঙ্গ পরিষদের ব্রেড, বিস্কুট ও কনফেকশনারী প্রস্তুতকারক সমিতির সভাপতি ও দিনাজপুর জেলার রাজিব বেকারীর মালিক মো. মাকসুদুল আলম পাটোয়ারী। আলোচক ছিলেন রংপুর সাংগঠনিক বিভাগ ১ ও ২ এর সভাপতি যথাক্রমে রিয়াজ শাহিদ শোভন ও মো. সাইফুল্লাহ।
সভায় বেকারী শিল্পের বর্তমান অবস্থা থেকে উত্তরণের উপায় নিয়ে আলোচনা করেন রংপুর সাংগঠনিক বিভাগ ২-এর সাধারণ সম্পাদক ও দিনাজপুর জেলার মাসুম বেকারীর মালিক শামিম শেখ, রংপুর জেলা সভাপতি নুরুল হক মুন্না, রংপুর জেলার মাজেদুল ইসলাম লাবলু, লালমনিরহাট জেলার সভাপতি মজিবুর রহমান মোল্লা, কুড়িগ্রাম জেলার সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, পঞ্চগড় জেলার সাধারণ সম্পাদক আমিনুর রহমান রিলু, সৈয়দপুরের নুরুজ্জামান ও দুলাল হোসেন প্রমুখ।
সভায় বেকারী মালিকরা দফায় দফায় বেকারী পণ্য তৈরীর কাঁচামালের লাগামহীন দাম বৃদ্ধিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এসবের বাজার সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করায় এর বিরুপ প্রভাব পড়েছে স্থানীয় ক্ষুদ্র বেকারী শিল্পে। কিন্তু উৎপাদিত বেকারী পণ্য আগের মতই স্বল্প মূল্যে বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে প্রতিদিনই লোকসান গুণতে হচ্ছে বেকারী মালিকদের। বক্তারা এ অবস্থা নিরসনে দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারি হস্তক্ষেপ ও লোকসান থেকে বাঁচতে বেকারী পণ্যের দাম বৃদ্ধির সুপারিশ করেন। একইসঙ্গে বেকারী ও কনফেকশনারীতে অভিযানের নামে হয়রানী বন্ধের দাবি জানানো হয়। আলোচনা শেষে সভায় বেকারী শিল্পকে বাঁচাতে উৎপাদিত বেকারী পণ্যের গুণগতমাণ বৃদ্ধি ও মূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। একই সঙ্গে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে রংপুর বিভাগের সকল জেলার সংগঠনকে উদ্যোগ নিতে বলা হয়।
সভায় এ সিদ্ধান্ত মনিটরিং করতে মো. মাকসুদুল আলম পাটোয়ারীকে সমন্বয়ক করে ৫ সদস্যের একটি সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়। বিভাগীয় এ সভায় সৈয়দপুরসহ রংপুর বিভাগের দুই শতাধিক বেকারি মালিক উপস্থিত ছিলেন।
