কিশোরগঞ্জে এক বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে (১৪) ধর্ষণের অভিযোগে অঞ্জন মিয়া (৩৮) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এদিকে চুয়াডাঙ্গায় বন্ধুর অনুপস্থিতিতে তার স্ত্রীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে দুই বন্ধুর বিরুদ্ধে। বর্তমানে ওই গৃহবধূ চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

কিশোরগঞ্জ সংবাদদাতা জানান,  বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে (১৪) ধর্ষণের অভিযোগে অঞ্জন মিয়া (৩৮) নামে এক যুবককে  গতকাল শুক্রবার কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মোল্লাপাড়া বগাদিয়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার অঞ্জন মিয়া মোল্লাপাড়া বগাদিয়া এলাকার মুসলিম মিয়ার ছেলে।

পুলিশ জানায়, পার্শ্ববর্তী এলাকার বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরী বগাদিয়া এলাকায় আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে আসে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে ওই কিশোরীকে কৌশলে ধর্ষণ করে অঞ্জন। ধর্ষণের পর পালিয়ে যাওয়ার সময় বিষয়টি এলাকাবাসীর নজরে আসে। ধর্ষণের শিকার ওই কিশোরী অসুস্থ হয়ে পড়লে শুক্রবার সকালে তাকে কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মিজানুর রহমান জানান, এ ঘটনায় ধর্ষণের শিকার মেয়েটির মা বাদী হয়ে শুক্রবার রাতে অঞ্জন মিয়াকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন। তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা সংবাদদাতা জানান, চুয়াডাঙ্গায় বন্ধুর অনুপস্থিতিতে তার স্ত্রীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে সদর উপজেলার যদুপুরেরর এ ঘটনায় গতকাল শুক্রবার রাতে থানায় মামলা হওয়ার পর অভিযুক্ত ওয়াশিম আলী (৩০) নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ওয়াশিম আলী একই গ্রামের মৃত জাফর মন্ডলের ছেলে।

পুলিশ জানায়, গত বুধবার (৩০ অক্টোবর) রাতে ওই গৃহবধূর স্বামী ব্যবসায়িক কাজে বাড়ির বাইরে অবস্থান করছিলেন। এ সুযোগে তার স্বামীর দুই বন্ধু একই গ্রামের মিলন ও ওয়াশিম দুই সন্তানের জননী ওই গৃহবধূকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যান। পরে পার্শ্ববর্তী একটি কলাবাগানে নিয়ে তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন তারা। ওই গৃহবধূ অচেতন হয়ে পড়লে তাকে ফেলে পালিয়ে যান মিলন ও ওয়াশিম। পরে পরিবারের অন্য সদস্যরা বিষয়টি টের পেয়ে গৃহবধূকে উদ্ধার করেন।

ওই গৃহবধূর স্বামীর অভিযোগ, মিলন ও ওয়াশিমের সঙ্গে তার ভালো সখ্যতা ছিল। সে সূত্রে তারা পরিকল্পনা করে তাকে কৃষিপণ্য বিক্রির জন্য যশোরে যেতে বাধ্য করেন। রাতে ফিরে আসতে না পারায় মিলন ও ওয়াশিম তার স্ত্রীকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করেন।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশের ওসি (তদন্ত) লুৎফুল কবীর জানান, এ ঘটনায় ওই গৃহবধূর স্বামী বাদী হয়ে দুইজনের নাম উল্লেখ করে শুক্রবার রাতে একটি ধর্ষণ মামলা করেছেন। রাতেই এজাহারনামীয় আসামি ওয়াশিমকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অন্য আসামিকেও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।