প্রধান শিক্ষক আ. জলীলের যৌন হয়রানির শিকার জামালপুরের মানিকারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সেই স্কুলছাত্রী ও তার ছোট বোনসহ ৪ শিক্ষার্থীকে অবশেষে স্কুল ছাড়তে হয়েছে। শিক্ষকের বিরুদ্ধে করা মামলা তুলে নেওয়াসহ আপস-মীমাংসার প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় স্থানীয় প্রভাবশালীদের হুমকির মুখে নিরাপত্তাহীনতার কারণে অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেন।

অবশ্য ইউএনও ও শিক্ষা কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে ওইসব শিক্ষার্থী পার্শ্ববর্তী তুলসীরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠ গ্রহণের সুযোগ পেয়েছে। এ স্কুল থেকেই তারা আসন্ন বার্ষিক পরীক্ষায় অংশ নেবে। অভিযুক্ত শিক্ষক গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের পরিবার ও এলাকাবাসী। এদিকে মামলা হওয়ায় অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে পলাতক।

গত ২২ সেপ্টেম্বর স্কুল ছুটির পর চতুর্থ শ্রেণির ওই ছাত্রীকে চা তৈরির কথা বলে দোতলার অফিস কক্ষে নিয়ে যান প্রধান শিক্ষক আ. জলীল। একপর্যায়ে কক্ষ বন্ধ করে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা চালান তিনি। এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষক আ. জলীলকে আসামিকে করে জামালপুর থানায় মামলা করেন নির্যাতিত ছাত্রীর বাবা।

এতে ক্ষুব্ধ হন অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক ও তার পরিবারের সদস্যরা। প্রধান শিক্ষকের হুমকির মুখে দুই মেয়েকে ওই স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেন তার মা-বাবা। খবর পেয়ে ইউএনও ফরিদা ইয়াসমিন ও শিক্ষা কর্মকর্তা নাহিদা ইয়াসমিন গত ১২ অক্টোবর ওই স্কুলছাত্রীর বাড়িতে যান। এ সময় তারা মেয়েটিকে সঙ্গে করে নিয়ে স্কুলে পৌঁছে দেন।

এদিকে প্রধান শিক্ষক আ. জলীলের প্রস্তাব দেওয়া আপস-মীমাংসা ও মামলা প্রত্যাহারে রাজি না হওয়ায় তাদের নানাভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। তাই তারা দুই মেয়েকে ফের স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেন। তাদের সঙ্গে স্কুল ছাড়ে একই এলাকার আরও দুই শিক্ষার্থী। ঘটনা জানতে পেরে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নাহিদা ইয়াসমিন তাদের পার্শ্ববর্তী তুলসীচর স্কুলে পাঠ গ্রহণের ব্যবস্থা করেন।

নির্যাতিত স্কুলছাত্রীর মা-বাবা ও বড় ভাই জানান, ঘটনার পর অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক আ. জলীলের বিরুদ্ধে জামালপুর থানায় মামলা করার পরও ওই শিক্ষক এলাকায়ই অবস্থান করছেন। তারা টাকার বিনিময়ে মামলা আপস করতে বলছেন।

মানিকারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আজগর আলী বলেন, ওই চার শিক্ষার্থী তার স্কুলেই ছিল। জলীল মাস্টারের যৌন হয়রানির কারণে তারা স্কুল ছেড়ে তুলসীরচর স্কুলে চলে গেছে। তুলসীরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোশাররফ হোসেন বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে আমার স্কুল থেকে তাদের পাঠদান দেওয়া হচ্ছে। এ স্কুল থেকেই তারা বার্ষিক পরীক্ষায় অংশ নেবে।

জামালপুর থানার ওসি সালেমুজ্জামান বলেন, শিক্ষক আ. জলীলের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা হয়েছে। ঘটনার পরপরই ওই শিক্ষক এলাকা থেকে পালিয়ে গেছে। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের বিভিন্ন দল কাজ করছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।