বাংলাদেশের সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর আলোকে প্রাথমিক শিক্ষা বোর্ড গঠনের কাজ শুরু হয়েছে। প্রাথমিক ও ইবতেদিয়াশিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার্থীদের জন্য এ বোর্ড গঠন করা হচ্ছে। এ বোর্ড পরিচালনায় বোর্ড অব অর্ডিন্যান্স বা আইনের খসড়া প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে তৈরির পর তা মূল্যায়ন করা হচ্ছে যা আগামী সপ্তাহে এটি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে বলে অধিদপ্তর সুত্রে জানা গেছে। তবে এ বছর থেকেই বোর্ডটির কার্যক্রম শুরু করা হবে বলেও জানা গেছে।
যদিও প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা থাকবে কি থাকবে না তাঁর জল্পনা কল্পনা শেষ না হতেই এ বোর্ড গঠনের কার্যক্রম শুরু করা হল। শিশুদের পরীক্ষার চাপ কমাতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ থাকলে তা কেবল ৩য় শ্রেণি পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকছে। চলতি বছরে সম্ভব না হলেও আগামী বছর থেকে থাকছে না ৩য় শ্রেণি পর্যন্ত কোন পরীক্ষা। আর যদি কেউ পরীক্ষা নিয়েও থাকে তাদেরকে আইনের আওতায় এনে শাস্তির কথাও ইতিমধ্যে গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
প্রাথমিক শিক্ষা বোর্ড সাধারণ বোর্ডগুলোর আলোকে ছয়টি ইউনিটের সমন্বয়ে এই বোর্ড গঠন করা হবে। সারাদেশে ৬৫ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রতি বছর ৩০ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। আর অধিকসংখ্যক পরীক্ষার্থী নিয়ে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন কর্মকর্তারা। শুধুমাত্র সমাপনী পরীক্ষা সামাল দিতে গিয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অন্য সব কাজ স্থবির হয়ে পড়ছে। এ অবস্থায় আগামী বছরই শিক্ষা বোর্ড গঠন করতে চায় মন্ত্রণালয়। তার আলোকে প্রাথমিক শিক্ষা বোর্ড গঠনের আইন তৈরির কাজ শুরু করা হয়েছে। যা অধিদপ্তর সুত্র আমাদের বাণী ডট কমকে নিশ্চিত করেছেন।
এই বিষয়ে জানতে ডিপিই’র প্রশাসন পরিচালক মো. সাবের হোসেন এর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি আমাদের বাণী ডট কম কে বলেন, ‘সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের আলোকে প্রাথমিক শিক্ষা বোর্ডের আইন তৈরি করা হয়েছে। এ বোর্ডের মাধ্যমে পঞ্চম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষা আয়োজন, পরিচালনা ও ফলাফল প্রকাশ, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠনসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হবে।’
তিনি আমাদের বাণী ডট কমকে আরও বলেন, ‘প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় ইতোমধ্যে নতুন এ বোর্ড পরিচালনায় খসড়া আইন তৈরি করা হয়েছে। বর্তমানে সেটি মূল্যায়ন করা হচ্ছে। চলতি সপ্তাহে তা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।’
প্রাথমিক শিক্ষা বোর্ডের খসড়া আইনে দেখা গেছে, সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের আলোকে প্রাথমিক শিক্ষা বোর্ডের রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। নতুন এ শিক্ষা বোর্ডের কার্যক্রম পরিচালনায় প্রধান ছয়টি ইউনিট তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে চেয়ারম্যান দফতর, সচিব দপ্তর, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক শাখা, বিদ্যালয় পরিচালনা শাখা, সিস্টেম অ্যানালিস্ট ও হিসাব শাখা যুক্ত করা হয়েছে। এপরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের অধীনে পরীক্ষা আয়োজন, খাতা মূল্যায়ন ও ফলাফল প্রকাশ করা হবে।
ডিপিই সূত্র আমাদের বাণী ডট কম কে জানায়, প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে অসন্তোষ থাকলেও পরীক্ষা শিগগিরই বাতিল হবে না। তাই পরীক্ষা চালু রাখতে হলে কী প্রক্রিয়ায় শিক্ষা বোর্ডকে কার্যকর করা যায় তার পথ বের করতে কাজ করছেন কর্মকর্তারা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আকরাম আল হোসেন আমাদের বাণী ডট কমকে বলেন, ‘আমরা আইনের খসড়া তৈরির জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরকে বলেছিলাম, তার ভিত্তিতে একটি খসড়া আইন তৈরি করে তা মূল্যায়ন করা হচ্ছে। এটি মন্ত্রণালয়ে জমা দিলেই আমরা আনুষঙ্গিক কাজ শেষ করে দ্রুত ক্যাবিনেটে দেব। মন্ত্রিপরিষদ সিদ্ধান্ত নেবে এ পরীক্ষা থাকবে নাকি বাতিল করা হবে।
