শিক্ষকদের সুবিধা বৃদ্ধি ছাড়া মান সম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব নয় বলে মত দিয়েছেন শিক্ষাবিদরা। শনিবার (৪ জানুয়ারি ২০২০) এডুকেশন রিফর্ম ইনিশিয়েটিভের (ইআরআই) আয়োজনে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি সমস্যা : প্রতিকার ও করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এসব বিষয় তুলে ধরেন শিক্ষাবিদরা।
গোলটেবিল বৈঠকে শিক্ষাবিদরা বলেন, মানসম্মত শিক্ষা রাজধানীকেন্দ্রিক হয়ে গেছে। কোথাও ভর্তি হতে কয়েক লাখ টাকা ডোনেশন দিতে হচ্ছে, আবার প্রত্যন্ত অঞ্চলের অনেক স্কুল শিক্ষার্থী পাচ্ছে না। একইভাবে শহরকেন্দ্রিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিযুদ্ধে শিক্ষার্থীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ থাকলেও প্রত্যন্ত অঞ্চলের বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক আসন ফাঁকা থাকছে। বক্তারা মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে শিক্ষকদের দেয়া আর্থিক সুবিধা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বহির্বিশ্বে শিক্ষকদের সর্বোচ্চ সম্মান ও আর্থিক সুবিধা দেয়া হয় উল্লেখ করে শিক্ষাবিদরা বলেন, সর্বোচ্চ সম্মান ও আর্থিক সুবিধার কারণেই মেধাবীরা শিক্ষকতা পেশায় আকৃষ্ট হন। কিন্তু বাংলাদেশে যারা কোনো চাকরি খুঁজে পান না তারাই শিক্ষকতা পেশায় আসছেন। তাই মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে শিক্ষকদের আর্থিক সুবিধা বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষকদের রাজনৈতিক পরিচয় পরিহার করে শিক্ষক পরিচয়ে সমাজের কাজে অংশগ্রহণ করার আহ্বান জানান বক্তারা।
শিক্ষা বিদরা আরও বলেন, রাজনৈতিকভাবে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকরা তোষামোদিতে ব্যস্ত থাকেন। শিক্ষক হিসেবে তাদের কাছ থেকে তা কাম্য নয়।
সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ও এডুকেশন রিফর্ম ইনিশিয়েটিভের চেয়ারম্যান ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সভাপতিত্বে বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. এস এম এ ফায়েজ। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক ড. সদরুল আমীন। আলোচনায় এডুকেশন রিফর্ম ইনিশিয়েটিভের সদস্যসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষাবিদ ও শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন।
সভাপতির বক্তব্যে সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন কারিগরি শিক্ষায় জোর দিতে কারিগরি শিক্ষা মন্ত্রণালয় গঠনের দাবি জানান। তিনি বলেন, ২৩টি মন্ত্রণালয় কারিগরি শিক্ষার জন্য কাজ করছে। কিন্তু এ জন্য আলাদা মন্ত্রণালয় নেই।
তিনি বলেন, কারিগরি শিক্ষাই পারে বাংলাদেশকে বদলে দিতে। এ জন্যই রসায়নের শিক্ষার্থী হয়েও পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছি কারিগরি শিক্ষার ওপর। কখনো যদি সুযোগ পাই, দেশের কারিগরি শিক্ষার প্রসারে অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগাব।
তিনি আরও বলেন, আগে মালয়েশিয়া থেকে শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পড়তে আসত। এখন তারা উন্নত। আমরা মালয়েশিয়ায় ডিগ্রি নিতে যাই। মাহাথির মোহাম্মদ মানসম্মত শিক্ষার গুরুত্ব বুঝতে পেরেছেন তাই তাদের শিক্ষা উন্নত হয়েছে।
শিক্ষকদের সম্মান ও মর্যাদার ওপর গুরুত্ব দিয়ে সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, মন্ত্রী থাকতে নিজের শিক্ষকদের স্যার বলে ডাকতাম। এ নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সভাও ডাকা হয়। সভায় আমি তৎকালীন শিক্ষাসচিবকে বলেছিলাম, আমি সারাজীবনের জন্য মন্ত্রী না। কিন্তু আমার শিক্ষকরা সারাজীবন আমার শিক্ষক থাকবেন।
