গাজীপুর সদর উপজেলার পোড়াবাড়ি সাবেরিয়া দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ না পেয়েও শরিফুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি ওই প্রতিষ্ঠানের হয়ে এমপিওভুক্ত (মানথলি পেমেন্ট অর্ডার) হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। একইভাবে আরও দুজন বহিরাগত এমপিও পাওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছেন। এ ঘটনায় ওই মাদ্রাসার সুপার মো. ইদ্রিস আলীর বেতন স্থগিত করেছে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতর। এই তিন জনের মধ্যে সহকারী মৌলভী হিসেবে শরিফুল ইসলাম, সমাজবিজ্ঞানের সহকারী শিক্ষক হিসেবে মোসা. আমেনা খাতুন এবং বিজ্ঞানের সহকারী শিক্ষক হিসেবে মোসা. রিনা আক্তার এমপিও’র জন্য আবেদন করেন।
মাদ্রাসা সুপার মো. ইদ্রিস আলী বলেন, এমপিওভুক্তি পাওয়া বা প্রক্রিয়ায় থাকা এই তিন শিক্ষককে মাদ্রাসায় নিয়োগ দেওয়া হয়নি। তারা এনটিআরসির নামে জাল নিয়োগ আদেশ দেখিয়ে শিক্ষক হিসেবে যুক্ত দেখিয়েছে। পরে একটি জালিয়াত চক্রের মাধ্যমে পাসওয়ার্ড চুরি করে এমপিও আবেদন করেন তারা। জেলা শিক্ষা অফিসার ও জেলা প্রশাসনের কাছে তদন্তের সময় বিষয়টি স্বীকার করেছেন শরিফুল।
তাদের নিয়োগ দেওয়া এবং এমপিও পাইয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে মাদ্রাসা সুপারের সংশ্লিষ্টতা আছে বলে অনেকেই অভিযোগ করছেন। এমনকি এ নিয়ে মাদ্রাসা সুপারের সঙ্গে ম্যানেজিং কমিটির বিরোধও তৈরি হয়। পরে গত বছরের ডিসেম্বরে মাদ্রাসা সুপারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
প্রসঙ্গত, ওই তিন ব্যক্তি অনলাইনে এমপিওর আবেদন করেন। পরে এমপিও পান শরিফুল ইসলাম।
তবে মাদ্রাসা সুপারের দাবি, এমপিও আবেদন করার বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। কিন্তু গোপন পাসওয়ার্ড ছাড়া এমপিও আবেদন করা যায় না। আর ওই পাসওয়ার্ড থাকে শুধু মাদ্রাসা সুপারের কাছে। শিক্ষা অধিদফতর থেকে ওই পাসওয়ার্ড পান সুপার।
ইদ্রিস আলী বলেন, আমি কম্পিউটার চালাতে জানি না। পাসওয়ার্ড প্রয়োজন হয় কিনা তাও জানি না। পরে জেনেছি মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতর থেকে পাসওয়ার্ড নিতে হয়।
তিনি বলেন, রাজিয়া বেগম নামের একজন শিক্ষক কম্পিউটার চালাতেন। আমি লিখিতভাবে বিষয়টি তদন্ত কমিটিকে জানিয়েছি। মাদ্রাসার কেউ এর সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন কিনা তাও জানি না। তবে নুরুল নামের এক ব্যক্তি মাদ্রাসা অধিদফতর থেকে আমার নামে আবদেন করে নিয়েছেন বলে পরে জেনেছি। সাময়িক বরখাস্তের পর থেকে আমি মাদ্রাসায় যাইনি।
এদিকে, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতরের এক চিঠিতে বলা হয়, জেলা শিক্ষা অফিসার এবং জেলা প্রশাসনের তদন্তে বলা হয়েছে, ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমেই ওই তিন ব্যক্তিকে মাদ্রাসায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাদের এমপিওভুক্ত করার জন্য প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকেই সুপারিশ করা হয়েছে। অথচ মাদ্রাসার সুপার বলছেন, ওই তিনজন এনটিআরসি’র সনদ জাল করে নিয়োগ পেয়েছেন।
এমন অবস্থায় পুরো বিষয়টি নিয়ে এক রকম রহস্য সৃষ্টি হয়েছে। রহস্য উন্মোচনে গত ৭ নভেম্বর পোড়াবাড়ি সাবেরিয়া দাখিল মাদ্রাসা প্রধানের কাছে পুরো বিষয়টি জানতে চেয়েছেন মাদ্রাসা অধিদফতরের মহাপরিচালক। একই চিঠিতে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া মাদ্রাসা সুপারের এমপিও স্থগিত করা হয়েছে।
