একটু বৃষ্টি হলে চলা দায়। নিজ গ্রামে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হলেও বর্ষায় যেতে পারে না শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘদিন জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে ধরনা দিয়ে আশ্বাস না মেলায় উপায়ান্তর না পেয়ে নিজেদের অর্থায়ন ও শ্রমে রাস্তা পাকা করছে গ্রামবাসী। গতকাল সকাল থেকে ঝিনাইদহের শৈলকুপার ৬নং সারুটিয়া ইউনিয়নের নাদপাড়া গ্রামবাসী বর্ষায় কাদা থেকে বাঁচতে এ কাজ শুরু করে। প্রায় দেড় কিলোমিটারের এ রাস্তাটি ইটের খোয়া আর বালি বিছিয়ে যাতায়াতের উপযোগী করবে তারা। বাজেট আড়াই লক্ষাধিক টাকা। গ্রামের কলেজ শিক্ষক, স্কুলশিক্ষক, ছাত্র, কৃষকসহ শতাধিক লোক স্বেচ্ছায় এ কাজ করেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নাদপাড়া গ্রামের স্কুল মোড় থেকে পশ্চিম দিকের এ রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন ৩০০-৪০০ লোকের যাতায়াত। নাদপাড়া, ভাটবাড়িয়া ও ভুলুন্দিয়ার একটি অংশের শিক্ষার্থীরা স্কুল ও মাদ্রাসায় যাতায়াত করে এ সড়ক দিয়ে। নাদপাড়া গ্রামের বাসিন্দা শৈলকুপা ফাজিল মাদ্রাসার ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক রেজাউল ইসলাম বলেন, গ্রামের এ রাস্তাটিতে বর্ষা মৌসুমে খুব কাদা হয়। ১০ বছর এলাকার জনপ্রতিনিধিসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে রাস্তাটি যাতায়াতের উপযোগী করার জন্য যোগাযোগ করেছেন; কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। তাই তারা নিজেরাই রাস্তার কাজের উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, হয়তো বেশি মজবুত করে তারা কাজটি করতে পারবেন না। প্রথমে রাস্তায় বালু দিয়েছেন, তারপর ইটের খোয়া এরপর আবার বালু দিচ্ছেন তারা। রোলার না করতে পারলেও গরুগাড়ি, ঘোড়াগাড়ি ও মহিষের গাড়ি চলতে চলতে এটি মজবুত হবে বলে তার ধারণা। নাদপাড়া গ্রামের স্কুল মোড় থেকে পশ্চিমপাড়া ঈদগাহ, মাঠের রাস্তা ও সাংবাদিক আব্দুল মান্নানের বাড়ি পর্যন্ত এ কাজ চলমান থাকবে বলে জানান। অন্য বাসিন্দা কাতলাগাড়ী কলেজের সহকারী অধ্যাপক কবির বিশ্বাস বলেন, এ রাস্তা দিয়ে চরআউশিয়া, নাদপাড়া গ্রামের ছাত্ররা কাতলাগাড়ীতে যাতায়াত করে। বর্ষা মৌসুমে নাদপাড়া গ্রামের শিক্ষার্থীরা এ রাস্তা দিয়ে নিজ গ্রামের প্রতিষ্ঠানেই যেতে পারে না। তাই তারা বর্ষা মৌসুমের আগে নিজেরাই রাস্তাটি মেরামতের উদ্যোগ নিয়েছেন।
৬নং সারুটিয়া ইউনিয়নের নাদপাড়া গ্রামের ইউপি সদস্য ওয়াজেদ আলী জানান, তিনি শুনেছেন গ্রামের বাসিন্দারা নিজ অর্থায়নে ও শ্রমে রাস্তার কাজ করছেন। রাস্তাটি দিয়ে বর্ষা মৌসুমে যাতায়াত করা যায় না। তাই তারা বর্ষা মৌসুমের আগে নিজেরাই রাস্তার কাজ করবেন বলে জানান। ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে এ রাস্তাটি দ্রুত মেরামতের চেষ্টা করবেন বলে আশ্বাস দেন তিনি।
