নিজস্ব সংবাদদাতা, সিলেট ও চট্টগ্রাম;  সিলেটে ও চট্টগ্রামে করোনা রোগের উপসর্গে নিয়ে দুই জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এক জন হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা অবস্থায় মারা গেছেন আরেকজন জ্বর, সর্দি ও কাশিতে মারা গেছেন।

সিলেটে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধ গতকাল মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে জেলা শহরের হাউজিং এস্টেটের একটি বাসায় ওই বৃদ্ধের মৃত্যু হয়। বর্তমানে করোনা ভাইরাস আতঙ্কের মধ্যে মৃত্যুটি সন্দেহজনক হওয়ায় বিষয়টি স্থানীয় কাউন্সিলর, জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জনকে জানানো হয়। তবে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দক্ষ জনবলের অভাবে কোন ধরনের নমুনা সংগ্রহ ছাড়াই তড়িঘড়ি করে মরদেহ দাফন করা হয়।

জেলা প্রশাসকের অনুমতিক্রমে রাতেই শহরের মানিকপীর মাজার সংলগ্ন কবরস্থানে মরদেহ দাফন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সিটি কর্পোরেশন।

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেন, ওই বৃদ্ধ কিডনি রোগে আক্রান্ত ছিলেন। বেশ কিছুদিন ধরে তিনি সিলেট কিডনি ফাউন্ডেশন হাসপাতালে ডায়ালাইসিস করাচ্ছিলেন। এর মধ্যে গত ১৪ মার্চ তার ছেলে যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফেরেন।

তিনি বলেন, ‘ছেলে বাড়ি আসার দুই-তিন দিন পর ওই বৃদ্ধের শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। এরপর নির্দিষ্ট তারিখের আগেই ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে ডায়ালাইসিস করাতে যান তিনি। চিকিৎসকরা আগে আসার কারণ জানতে চাইলে শ্বাসকষ্টের কথা তুলে ধরেন। ছেলে যুক্তরাজ্যফেরত জানতে পেরে ওই বৃদ্ধকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন।

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম জানান, অসুস্থতার খবর পেয়ে তিনি গত ২২ মার্চ ওই বৃদ্ধের বাসায় যান। সে সময় নিহত বৃদ্ধার স্ত্রী জানান, চারদিন ধরে তার স্বামী জ্বর, সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্টে ভুগছেন। এ অবস্থায় অসুস্থ বাবাকে রেখেই ছেলে পুনরায় যুক্তরাজ্যেফেরত যান।

এ সময় জাহিদুল ইসলাম ওই বৃদ্ধকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেন। এছাড়া বাসায় কোন মেহমান আসতে নিরুৎসাহিত করাসহ বাসাটি লকডাউনের নির্দেশনা দিয়ে আসেন।

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড পৌর সদরে গতকাল মঙ্গলবার রাতে এক নারী (৫৫) মারা গেছেন । স্বজনেরা জানিয়েছেন, তাঁর জ্বর, সর্দি ও কাশি ছিল। এ অবস্থায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ওই নারীর মৃত্যু হয়েছে—এমন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে।

ওই নারীর দেবর বলেন, ভাবি ছিলেন একই উপজেলার আরেক ইউনিয়নে বাবার বাড়িতে। সপ্তাহ খানেক আগে ভাবির মা মারা গেছেন বার্ধক্যের কারণে। তাঁর জ্বর, সর্দি ও কাশি ছিল। মাকে সেবা করতেন ভাবি। সেখানে তিনি অসুস্থ হন। তাঁরও জ্বর, সর্দি, কাশি হয়।

গতকাল গুরুতর অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাঁকে রাখেনি। সন্ধ্যায় বাবার বাড়িতে না নিয়ে তাঁকে নিজ বাড়িতে আনা হয়।

ওই দেবর আরও বলেন, বাড়িতে আনার কিছুক্ষণের মধ্যে ওই নারীর মেয়েরা তাঁকে (দেবর) জানান, তাঁদের মা আর বেঁচে নেই। পরে ওই নারীকে আবার হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে অ্যাম্বুলেন্সযোগে রাত সাড়ে আটটায় বাড়িতে আনা হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিল্টন রায় বলেন, তিনি শুনেছেন ওই নারী জ্বর, সর্দি, কাশিতে ভুগে মারা গেছেন। তাই তাঁর স্বজনদের ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টিনে থাকতে বলা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, যেহেতু ওই নারীর করোনাভাইরাস পরীক্ষা করা হয়নি, তাই করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে কি না, তা নিশ্চিত করে বলা যাবে না।উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নুর উদ্দীন বলেন, ওই নারীর মায়ের শ্বাসকষ্ট ছিল।

মাকে নিয়ে তিনি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন অনেক দিন। মায়ের শুশ্রূষা করতে গিয়ে সম্ভবত তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁর মা করোনার রোগী ছিলেন না। তাই তিনিও করোনার রোগী নন।

উল্লেখ্য, দেশে করোনাভাইরাসে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এতে করে মৃতের সংখ্যা গিয়ে দাঁড়ালো পাঁচজনে। আর নতুন করে কোনো রোগী শনাক্ত হয়নি। গতকাল পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা ছিলো ৩৯ জনে। এছাড়া সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৭ জন।

আজ  বুধবার (২৫ মার্চ ২০২০) বেলা ১২টা ১০ মিনিটে করোনাভাইরাস সংক্রান্ত অনলাইন লাইভ ব্রিফিংয়ে রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা এ তথ্য জানান।

সেব্রিনা ফ্লোরা জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন কোনো রোগী আক্রান্ত হয়নি। তবে একজনের মৃত্যু হয়েছে। তার বয়স (৬৫), পুরুষ। তিনি বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ছিলেন। গ্রামের একটি হাসপাতালে তিনি চিকিৎসা নিয়েছেন। সেখান থেকে তাকে ঢাকা আনা হয়েছিলো। বুধবার সকালে তার মৃত্যু হয়েছে।

আমাদের বাণী ডট কম/২৫ মার্চ ২০২০/টিএ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।