নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের মুক্তিযোদ্ধা মৃত সোলায়মান আলী বসুনিয়ার বিধবা স্ত্রীর ক্রয় করা জমি দখলের অভিযোগ অভিযোগ উঠেছে। স্কুল শিক্ষক মো. সালাউদ্দিন দুলু ও শ্রম কল্যাণ কেন্দ্রের কর্মচারী মো. আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে ওই জমি দখলের অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় মুক্তিযোদ্ধা মৃত সোলায়মান আলী বসুনিয়ার বিধবা স্ত্রী মিনারা বেগম বাদী হয়ে সৈয়দপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন। এ অভিযোগের ভিত্তিতে গত শুক্রবার বিকেলে সৈয়দপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে উভয়পক্ষকে জমির বৈধ কাগজপত্র নিয়ে বৈঠক করে। বৈঠকে অভিযুক্তদের জমির দখলের ঘরসহ অন্যান্য মালামাল সরিয়ে নিতে বলা হয়। কিন্তু তারা দখলকৃত জমি থেকে স্থাপনা সরিয়ে নেয়নি।
থানায় লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, সৈয়দপুর শহরের পুরাতন বাবুপাড়া এলাকার মুক্তিযোদ্ধা মৃত সোলায়মান আলী বসুনিয়ার বিধবা স্ত্রী মিনারা বেগম নিজের এবং তিন সন্তানের নামে পাবর্তীপুর সড়কের পাশে পুরাতন এস এ দাগ ১১৮৮ এবং বর্তমান নতুন ৫৬৬২ ও ৫৬৬৩ দাগে ৭ শতক জমি ক্রয় করেন। গত ১৪ অক্টোবর মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী ক্রয়কৃত জমির সীমানা চিহ্নিত করে বাঁশের খুঁটি স্থাপন করেন। পরে জমির পাশের দাগের মালিক স্কুল শিক্ষক সালাউদ্দিন ও সৈয়দপুর শ্রম কল্যাণ কেন্দ্রের কর্মচারী মো আবুল কাশেম তাদের লোকজন নিয়ে মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রীর কেনা জমির সীমানা খুঁটি উপড়ে ফেলেন। পরবর্তীতে তারা সেখানে নতুন ঢেউটিন দিয়ে সীমানা ঘিরে চালা ঘর নির্মাণ করেন।
এ নিয়ে অভিযুক্ত আবুল কাশেম মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রীর কেনা জমি দখলের বিষয়টি অস্বীকার করে জানান, যখন জমিটি ক্রয় করি তখন পুরো জমিটির একটি মাত্র দাগ ছিল। বর্তমানে একটি দাগ ভেঙ্গে তিনটি দাগ হয়েছে। আমি কেনা জমির অংশে পাকা সীমানা প্রাচীর দিয়েছি।
এ ব্যাপারে মুক্তিযোদ্ধার বিধবা স্ত্রী মিনার বেগম বলেন, আমার ও সন্তানদের নামে কেনা জমি অংশের কবলা দলিলে নতুন দাগ ও চৌহদ্দি উল্লেখ করা রয়েছে। অথচ পৃথক দাগে কেনা জমি পাশের জমির মালিক নিজের জমি দাবি করছেন। তার দাবি যথার্থ নয়, যেটি থানা বৈঠকে নিষ্পত্তি করা হয়েছে।
জানতে চাইলে, সৈয়দপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার মো. একরামুল হক এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রীর জমি দখলের চেষ্টার দ্রুত সমাধানের দাবি জানান।
সৈয়দপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) মো. আতাউর রহমান জানান, অভিযুক্ত জমির দখলদারকে স্থাপনা সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে। এর অন্যথা হলে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে। (ছবি আছে)
