নীলফামারীর সৈয়দপুর সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শাখাওয়াৎ হোসেন খোকন ও শিক্ষিকা সুলতানা নওরোজের দ্রুত অপসারণের দাবিতে শনিবার দুপুরে অধ্যক্ষের কার্যালয় ও প্রশাসনিক ভবনে তালা দিয়েছে আ’লীগ, এলাকাবাসি ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
এদিন বিক্ষুদ্ধ জনতা অধ্যক্ষের নেমপ্লেটও খুলে ফেলে দেয়। ওইদিন যৌথভাবে কলেজ চত্বরে জমায়েত হয়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। পরে কলেজের ঐতিহাসিক আমতলা চত্বরে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য বলেন, আ’লীগ সৈয়দপুর পৌরশাখার সভাপতি রফিকুল ইসলাম বাবু, সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক, এলাকাবাসি শফিউর রহমান বাবু, শাহ আলম, মো. রেজাউল প্রমুখ।
বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শাখাওয়াৎ হোসেন খোকন ও শিক্ষিকা সুলতানা নওরোজের বিরুদ্ধে গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্ট দ্রুত প্রকাশ ও তাদের অপসারণ কার্যক্রম বাস্তবায়নের দাবিতে অধ্যক্ষের কক্ষ ও প্রশাসনিক ভবনে তালা দেয়া হয়। একই সঙ্গে বক্তারা দাবি করে বলেন, যেহেতু অধ্যক্ষের কক্ষে অবৈধ পণ্য সহ বিপুল পরিমাণ টাকা রয়েছে সেকারণে তদন্ত কমিটি ছাড়া অন্য কেউ অধ্যক্ষের রুমে তালা খুলতে পারবে না।
প্রকাশ থাকে যে, গত ১৫ সেপ্টেম্বর বিকালে অভিযুক্ত ওই ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও একই কলেজের শিক্ষিকা শহরের শহিদ স্মৃতিসৌধ এলাকার একটি ঘরে স্থানীয় জনগণের দ্বারা আটক হয়েছিল। সেই ঘটনাকে ঘিরে পরদিন ১৬ সেপ্টেম্বর অধ্যক্ষ ও শিক্ষিকার অপসারণের দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা কলেজের সকল কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। এমন অবস্থায় সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস.এম গোলাম কিবরিয়া ঘটনাস্থলে পৌছে শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেয়ার আশ্বাস দেয়। পরে এদিনই ঘটনা তদন্তে সৈয়দপুর সহকারী কমিশনা (ভূমি) পরিমল চন্দ্র সরকারকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে দেয়।
এই কমিটি পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার কথা থাকলেও গতকাল শনিবার পর্যন্ত তা জমা দেন নি। এ কারণে আ’লীগ, এলাকাবাসি ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিক্ষুদ্ধ হয়ে ওঠে। এবং অধ্যক্ষের কক্ষ ও প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেয়।
জানতে চাইলে, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) পরিমল চন্দ্র মুঠো ফোনে অধ্যক্ষের কক্ষ ও প্রশাসনিক ভবনে তালা দেয়ার বিষয়টি শুনেছি, ব্যবস্থা নেয়া হবে।
