নিজস্ব সংবাদদাতা, ঢাকা; সড়ক দুর্ঘটনায় আহত গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর জ্বর এবং শ্বাসকষ্ট হওয়ায় চিকিৎসা নিতে গিয়ে তীব্র ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে। দূর্ঘটনার ফলে হওয়া জ্বর এবং শ্বাসকষ্টকেই করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ভেবে চিকিৎসা প্রদান করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ রাজধানীর বেশ কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতাল।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বশেমুরবিপ্রবির বাংলা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী খায়রুল ইসলাম নামের ওই শিক্ষার্থী বর্তমানে মহাখালী ইউনিভার্সাল মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ বিষয়ে আহত শিক্ষার্থীর ফুফু মোসাঃ হাসনা আক্তার জানান, ‘‘গত ২৩ মার্চ সড়ক দূর্ঘটনায় পা এবং মাথায় আঘাত পাওয়ার পর খায়রুলকে কুমিল্লার মুন হাসপাতালে ভর্তি করি। কিন্তু ২৫ তারিখে তার অবস্থার অবনতি হয় এবং শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। এসময় ডাক্তাররা বলেন তার লক্ষনসমূহ করোনা ভাইরাসের এবং তাকে আইসিইউতে নিতে হবে আর এরপরই শুরু হয় আমাদের তীব্র ভোগান্তি।’’
হাসনা বেগম অভিযোগ করেন করোনার লক্ষণ রয়েছে বলার পরপরই তাদের সাথে দুর্ব্যবহার শুরু করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ‘‘মুন হাসপাতালে আইসিইউ না থাকায় আমাদের ঢাকায় আসতে বলা হয়। কিন্তু হাসপাতালের বেড থেকে এম্বুলেন্সে তুলতে প্রয়োজনীয় সহায়তাটুকুও কেউ করতে রাজি হচ্ছিলোনা। সকলেই দুর্ব্যবহার করছিলো।’’
এসময় হাসনা আক্তার আরো বলেন, ‘‘চিকিৎসকরা প্রেসক্রিপশনে উল্লেখ করে দিয়েছিলেন রোগীর করোনা ভাইরাসের লক্ষণ রয়েছে আর এটা দেখে কোনো হাসপাতাল আমাদের রোগীকে ভর্তি নিতে চাচ্ছিলোনা। ফলে এই মুমূর্ষু অবস্থা নিয়েই আমাদের একের পর এক হাসপাতালে ছুটে বেড়াতে হচ্ছিলো। অবশেষে ৫ থেকে ৬ টি হাসপাতাল ঘুরে অনেক ধরনের পরীক্ষার পর মহাখালীর হাসপাতালে রোগীকে ভর্তি করার সুযোগ পাই। এসময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এটিও নিশ্চিত হয় যে খায়রুল করোনা আক্রান্ত নয়।’’
ছোটোবেলায় বাবাকে হারানো খায়রুলের চিকিৎসা চালাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে তার পরিবারকে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনসহ সকলের সহযেগিতা কামনা করে হাসনা আক্তার দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘‘ছোটোবেলাতেই বাবাকে হারানো খায়রুল চাচাদের কাছেই বড় হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে তার জীবন-মরণ সংকট তৈরি হয়েছে। আইসিইউতে প্রতি ১২ ঘন্টা পরপর ৪০,০০০ টাকা বিল প্রদান করতে হচ্ছে। এমতাবস্থায় যদি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনসহ সকলে আমাদের পাশে দাড়াতো তাহলে খুব উপকৃত হতাম।’’
বিশ্বব্যাপী দাবানলের মত ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস। এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত বিশ্বের প্রতিটি দেশেই যেন বিদ্যুতের গতিতে এ ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ছে। বাংলাদেশের লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে এর সংখ্যা। সাথে লাশের মিছিলও হচ্ছে বড়। এরমধ্যেই এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশে মারা গেছেন মোট ৫ জন। শুরু থেকেই এই ভাইরাসে আক্রান্তদের দেখভাল করছে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)। আইইডিসিআরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে এবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন মেয়েদের স্কুটার ড্রাইভিং স্কুল ‘যাবো বহুদূরে’র ফাউন্ডার আতিকা রোমা।
১২ দিন ধরে জ্বর। সঙ্গে প্রচণ্ড গলাব্যথা, শুকনা কাশি, কফ, তীব্র শ্বাসকষ্ট এবং পেটব্যথা। নভেল করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) সব উপসর্গ থাকলেও তার টেস্ট করায়নি আইইডিসিআর। রোমার অভিযোগ আইইডিসিআরের পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরার সঙ্গে তার ভাইয়ের মাধ্যমে যোগাযোগের পরও কোনো প্রতিকার হয়নি। বারবার টেস্ট করার কথা বলেও টেস্ট করায়নি তার।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়ালেখা শেষ করা রোমা পরিবার নিয়ে ঢাকায় থাকেন। নেবুলাইজারের মাউথপিস (মাস্ক) পরা অবস্থায় একটি ছবি দিয়ে ফেসবুকে দীর্ঘ পোস্ট দিয়েছেন তিনি। তার স্ট্যাটাসটি ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে।
আমাদের বাণী ডট কম/২৬ মার্চ ২০২০/টিএ
