নিজস্ব সংবাদদাতা, ঢাকা; শুধুমাত্র পাঠদানে নিয়োজিত থাকার কথা থাকলে বিভিন্ন ধরনের কাজে ব্যস্ত থাকতে হয় সরকারি প্রাথমিক শিক্ষকদের। এরফলে পাঠদানে ব্যহত হচ্ছিল প্রাথমিকে। তবে  এসব বিবেচনায় শুধু নির্বাচন ছাড়া পাঠদানের বাইরে আর কোনো কাজে না জড়ানোর জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও তার অধীনস্থ সংস্থাকে চিঠি দিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

১৩ ধরনের কাজের মধ্যে- ভোট গ্রহণ, ভোটার তালিকা প্রণয়ন ও হালনাগাদ করা, শিশু জরিপ, আদমশুমারি, কৃষিশুমারি, খোলাবাজারে চাল বিক্রি তদারকি, কাঁচা-পাকা ল্যাট্রিনের শুমারি, কৃমির ট্যাবলেট, ভিটামিন-এ ক্যাপসুলসহ স্বাস্থ্য অধিদফতর এবং পরিসংখ্যান বিভাগের সব কাজই করতে হয়।

শিক্ষার ভেতরের কাজের মধ্যে উপবৃত্তি তালিকা প্রণয়ন ও প্রাপ্তিতে সহযোগিতা, বিস্কুট খাওয়ানো ও হিসাব সংরক্ষণ ইত্যাদি তো আছেই। এছাড়া মন্ত্রী-এমপিসহ রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সংবর্ধনা, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দর্শকসারি পূরণসহ অন্যান্য অনানুষ্ঠানিক কাজেও শিক্ষকদের ব্যবহারের অভিযোগ আছে।

তবে ভোট গ্রহণ, ভোটার তালিকা প্রণয়ন ও হালনাগাদ করা, শিশু জরিপ, আদমশুমারি, কৃষিশুমারি, খোলাবাজারে চাল বিক্রি তদারকি, কাঁচা-পাকা ল্যাট্রিনের শুমারিসহ ১৩ ধরনের কাজ কমলেও অতিরিক্ত ক্লাস নিতে হবে প্রাথমিকের শিক্ষকদের। আগামী বছর থেকে দুই বছর মেয়েদি প্রাথমিকের শিশু শ্রেণি প্রাক প্রাথমিক চালু করতে যাচ্ছে সরকার। প্রাথমিক পর্যায়ে এসব ক্লাস নিতে হবে দায়িত্বরত প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকদেরই। কারণ প্রাক প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত এসব শিক্ষকদের দিয়েই ক্লাস নেওয়ার পরিকল্পনা করছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

১৩ ধরনের কাজ কমার বিষয়ে শিক্ষকরা বলছেন, এই ১৩ ধরণ ছাড়াও বিদ্যালয়ের করণিক কাজও তাদের করতে হয়। কেননা, কোনো স্কুলে এই কাজ করার সহকারী বা কেরানি নেই। তাদের ওইসব কাজের মধ্যে আছে, প্রত্যেক মাসে ছাত্র হাজিরা খাতায় নাম ওঠানো, দৈনন্দিন উপস্থিতি-অনুপস্থিতি হিসাব সংরক্ষণ, হোম ভিজিট, উপকরণ তৈরি, দৈনিক পাঠ পরিকল্পনা তৈরি, বার্ষিক প্রাথমিক বিদ্যালয় শুমারি তথ্য, প্রাথমিক শিক্ষক সমাপনী সার্টিফিকেট লেখা, বছরে তিনটা পরীক্ষা ছাড়াও মডেল টেস্ট, সমাপনী ও জেএসসি পরীক্ষার নির্ভুল তথ্য পূরণ ইত্যাদি।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৭০ ভাগ মহিলা শিক্ষক। তাদের ৬ মাসব্যাপী মাতৃত্বকালীন ছুটি, প্রশিক্ষণ ইত্যাদির কারণে পদস্থ শিক্ষকদের মধ্যে প্রকৃত শিক্ষকদের সংখ্যা প্রায়শই কম থাকে। তাছাড়া শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য ৯ মাস ব্যাপী সিইনএড প্রশিক্ষণের পরিবর্তে দেড় বছরব্যাপী ডিপিইএড প্রশিক্ষণ প্রদানের ফলে শিক্ষকদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ প্রশিক্ষণ গ্রহণে ন্যস্ত থাকেন।

ফলে প্রায় সকল শিক্ষকের অতিরিক্ত ক্লাস গ্রহণসহ শিখন কার্যক্রমে অতিরিক্ত সময় নিয়োজিত থাকতে হয়। এর ওপর আবার প্রাক প্রাথমিকে ক্লাস নিতে হলে হিমশিম খেতে হবে প্রাথমিকের শিক্ষকদের ।

তবে অধিকাংশ শিক্ষকরাই এই অতিরিক্ত ক্লাস নিতে রাজি আছেন তাদের অতিরিক্ত ক্লাস নিতে কোন সমস্যা নেই যদি তাদের বেতন-ভাতা বৈষম্য দুরীকরণ হত।

আমাদের বাণী ডট কম/২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০/পিপিএম 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।