ডেস্ক রিপোর্ট, ঢাকা; করোনায় আক্রান্ত হয়ে ধর্মপ্রতিমন্ত্রী শেখ মো. আবদুল্লাহ’র মৃত্যুর পর থেকে সচিব দিয়েই চলছে গুরুত্বপূর্ণ এই মন্ত্রণালয়। তবে এবার মন্ত্রিসভায় আসন্ন রদবদলের সময় গুরুত্বপূর্ণ এ মন্ত্রণালয়ের পেতে যাচ্ছেন একজন পূর্ণমন্ত্রী।
ক্ষমতাসীন দলের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, মন্ত্রণায়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর হওয়ায় এখানে কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর বা মতপন্থী এমন কাউকে দিতে চাইছে না সরকার। ক্ষেত্রে কয়েকজন হেভিওয়েট তালিকায় থাকলেও তাদের বাদ দিয়েই চিন্তা করতে হচ্ছে সরকারের নীতি নির্ধারকদের। এক্ষেত্রে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ সংসদীয় আসন থেকে নির্বাচিত র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হতে পারে।
আওয়ামী লীগ টানা ক্ষমতায় আছে এক দশকের বেশি সময় ধরে। সময়ের বিচারে একটা দশক খুব গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে কোনো রাজনৈতিক দলের মতাদর্শ ধারণ করে একটা প্রজন্ম গড়ে উঠার বেলায়। বিরোধীদলে থাকাকালেও দলটি একটা দশকের প্রজন্মকে যেভাবে ধর্মান্ধতা, উগ্রতা থেকে প্রগতিশীল আদর্শে দীক্ষিত করতে পেরেছে বলে ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, গত এক দশকে তা সেভাবে পারেনি।
উগ্রবাদের সঙ্গে কখনো কখনো আপস, প্রগতিশীল আদর্শের পক্ষে দল ও সরকারের কারো কারো স্পষ্ট অবস্থান না থাকা, কোনো কোনো মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতা সেজন্য দায়ি। ধর্মসহ অন্য কয়েকটি মন্ত্রণালয়কে এখন সরকার কাজে লাগাতে চাচ্ছে। মোকতাদির চৌধুরীর মতো সৎ, সংস্কৃতিবান, ধর্ম বিষয়ে প্রাজ্ঞ ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির রাজনীতিবিদকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়ার কথা সেজন্যই ভাবছে সরকার।
রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকেই মোকতাদির জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবিত আপাদমস্তক অসাম্প্রদায়িক। ধর্মীয় গবেষণা ও উন্নয়নকাজ এগিয়ে নিতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মতো প্রত্যেকটি ধর্মের জন্য আলাদা ফাউন্ডেশন গঠনের যে দাবি দীর্ঘ বছর ধরে জানিয়ে আসছে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ, মোকতাদির ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিলে তা পূরণ হবে, এ আস্থা রাখাই যায়।
উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী ছাড়াও আওয়ামী লীগ ও শরীক দলের আরো যারা ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিতে আগ্রহী তারা হলেন-
ময়মনসিংহ-৭ আসন থেকে নির্বাচিত আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য হাফেজ রুহুল আমিন মাদানী, ঝালকাঠি-১ আসনের বজলুল হক হারুন এবং চট্টগ্রাম-২ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যার সৈয়দ নাজিবুল বাশার মাইজভান্ডারি। আলোচনায় থাকা ৩ জনের মধ্যে সংসদ সদস্য হাফেজ রুহুল আমিন মাদানী এই পর্যন্ত দুই বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। প্রথম নির্বাচিত হন ১৯৯৬ সালে। বর্তমানে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া, ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।
এদিকে, বজলুল হক হারুন এই পর্যন্ত ৩ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের গত মেয়াদি তিনি ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণায় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে বাংলাদেশ সৌদি-আরব সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া, ঝালকাঠি জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতির দায়িত্বও পালন করছেন এই সংসদ সদস্য।
আলোচনায় থাকা সৈয়দ নাজিবুল বাশার মাইজভান্ডারি ১৪ দলীয় জোটের শরিক দল বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান। এই পর্যন্ত তিনি ৪ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
১৪ দলীয় জোটসূত্র বলছে, ধর্ম প্রতিমন্ত্রী হিসেবে অনেকের নাম আলোচনায় এলেও উল্লিখিত তিন জন থেকেই যেকোনো একজনকে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। সূত্রের দাবি, ব্যক্তিগত অবস্থান থেকে তিন জনই ওই পদের যোগ্য। তাদের যথেষ্ট অভিজ্ঞতাও আছে।
জানতে চাইলে হাফেজ রুহুল আমিন মাদানী বলেন, ‘১৯৮৪ সাল থেকে তৃণমূলে নিবেদিত প্রাণ হিসেবে কাজ করছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সার্বিক বিষয়ে আমার অভিজ্ঞতা আছে। সে হিসেবে যদি দায়িত্ব পেলে সততার সঙ্গে পালনের চেষ্টা করবো।’
একই প্রশ্নের জবাবে সংসদ সদস্য বজলুল হক হারুন বলেন, ‘দায়িত্ব পাওয়া না পাওয়া নিয়ে ভাবছি না। সব সময় দলীয় প্রধানের কথা অনুযায়ী কাজ করেছি। তিনি আমাকে যেসব দায়িত্ব দিয়েছেন, সেগুলো যথাযথভাবে করার চেষ্টা করেছি। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেলে পূর্ব-অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারবো।’
প্রায় একই মত জানালেন সৈয়দ নাজিবুল বাশার মাইজভান্ডারিও। তিনি বলেন, ‘আমি ৪ বার সংসদ সদস্য হিসেবে ধর্ম মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। ২০ বছর এই মন্ত্রণায়ের সঙ্গে যুক্ত আছি। তাই এই মন্ত্রণালয়ের সব কাজ আমার নখদর্পণে।’
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব কে পেতে পারেন-এমন প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর ২ জন সদস্য বলেন, ‘আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে এই মন্ত্রণালয় খুবই স্পর্শকাতর জায়গা। তাই, যোগ্য, পরীক্ষিত ও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজনকে দায়িত্ব দেওয়া হবে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালনে তার সক্ষমতা ও সফলতাকেও যাচাই-বাছাই করে দেখা হবে। যাদের নাম আলোচনায় আছে, তারা সবাই যোগ্য। তবে, সার্বিক বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
১৪ জুন (শনিবার) করোনায় আক্রান্ত হয়ে শেখ আবদুল্লাহ মৃত্যুবরণ করেন। এর আগে আওয়ামী লীগ টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন করলে ২০১৯ সালের ৭ জানুয়ারি গঠিত মন্ত্রিসভায় টেকনোক্র্যাট কোটায় ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান তিনি।
আমাদের বাণী ডট কম/২৮ জুলাই ২০২০/পিপিএম

