ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় ইদুর মারার ঔষধ (গ্যাস টেবলেট) খেয়ে প্রাণ গেল আয়েশা আক্তার (৩৫) নামে গৃহবধূর। রবিবার (২৭ অক্টোবর) রবিবার বিকালে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
গৃহবধূ আয়েশা আক্তার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার দুওসুও ইউনিয়নের লালাপুর ডাঙ্গীপাড়া এলাকার মোজাম্মেল হকের স্ত্রী। তিনি বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা পরিষদে মাস্টাররোলে আয়া পদে কাজ করতেন।
বালিয়াডাঙ্গী থানার উপ – পরিদর্শক রাশেদুল ইসলাম জানান,  ২৪ অক্টোবর স্থানীয় একটি ফুটবল টুর্নামেন্টে বিজয়ীদের আনন্দ উল্লাসের সময় বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশীরা তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে এলাকায় গণস্বাক্ষর নিয়ে  বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ দেওয়ার চেষ্টা করে। পরে স্থানীয় ইউপি সদস্য ফজলুর রহমান বিষয়টি মীমাংসা করে দিলেও মেনে নেয়নি প্রতিবেশীরা।
মীমাংসার পরেও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দেবে প্রতিবেশীরা  ২৭ অক্টোবর রবিবার দুপুরে এমন খবর পেয়ে  বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা পরিষদ থেকে বাড়িতে ফিরে ইদুর মারা ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে আয়েশা আক্তার। তিনি আরও জানান, পরিবারের লোকজন টের পেয়ে তাকে দ্রুত বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে চিকিৎসক ঐ গৃহবধূকে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠান। হাসপাতালে নেওয়ার পথে ভেলাজান নামক স্থানে পৌঁছালে গৃহবধূ আয়েশা আক্তারের মৃত্যু হয়।
পুলিশের উপ-পরিদর্শক আরও জানান, মৃত্যুর খবর পেয়ে রবিবার সন্ধ্যায় গৃহবধূর আয়েশার মরদেহ থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। ২৮  অক্টোবর সোমবার ময়না তদন্তের জন্য ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। এ বিষয়ে গৃহবধূর স্বামী মোজাম্মেল হক জানান, আমার স্ত্রীকে আত্মহত্যা করতে যারা বাধ্য করেছে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
আয়েশার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা চেয়ারম্যান আলী আসলাম জুয়েল জানান, তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আমার দপ্তরে আসেনি। আয়েশার প্রতিবেশীরা তার বিরুদ্ধে মৌখিক অভিযোগ করেছিল একটি অনুষ্ঠানে। আমি তাদের দপ্তরে লিখিত অভিযোগ প্রদানের কথা বলেছিলাম।
তবে বালিয়াডাঙ্গী থানার ওসি মোসাব্বেরুল হক জানান, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে পুলিশ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।