…….. মনে পড়ে ?
প্রথম দেখার সেই দিন, ছিলো
বৈশাখের প্রথম, মানে ছিলো যে’ সে’দিন
১’লা বৈশাখ! বলতে গেলে, কাক তালিও ভাবে দেখা দু’ জনের বৈশাখী মেলা’তে !
জীবনে এই প্রথম শহরে, এলাম যাব কাছে, নয় আত্মীয় তবে, তার চেয়েও বেশী’ অনেক ! মাথা গোঁজার ঠাঁই বলতে যা বুঝি বাসা কিম্বা বাড়ি নয় এ’ রকম কিছু’, যেন’ এক বিশাল প্রাসাদ !
হ্যাঁ দু’ জন মানুষের বসোবাসের জন্য এত বড় বাড়ি প্রয়োজন বা কারো থাকতে পারে, জানলাম সেও সেই প্রথম !
ঠিকানা মিলিয়ে বাড়িটা খুঁজে পেতে অসুবিধা না হলেও অবাক হয়েছিলাম, বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছিলো ভীষণ, হিসেব মিলিয়ে দেখে বলি মনে-মনে নির্ঘাৎ ঠিকানা টা ভুল, নয়ত লিখতে ? ভাবছি, কি করবো এখন অচেনা শহরে একেবারেইে নতুন, জিজ্ঞাসীতে পারি নেই কেউ ত্রি-সীমানায় ধারে কাছে, তবে কি’ পুড়বো এখানেই দাঁড়িয়ে রোদে, নাকি’ ঘুরবো পথে পথে ভুল ঠিকানা নিয়ে সাথে ! গ্রামে এক সন্ধ্যায় টিমটিমে আলোতে মূহুর্তের পরিচয়ে পরিচিত আপনার জন, এসেছি তারই কাছে ! চেহারাটাও ঠিকঠাক নেই মনে ! সেই তিনিই, তোমার বাবা সেও জেনেছিলাম আরও কিছু’ পরে বেশ’ ভালো করে !
অত্যন্ত দরিদ্র আমি, পৃথিবী’ র পরিধিতে মা’ ই আমার আর আমি মা’ য়ের একে অন্যের একমাত্র অবলম্বন ! ছোট্ট হতে আজ পর্যন্ত অভাব আর হতাশা বুকে নিয়ে একে অন্য’ কে রই আঁকড়ে সর্বক্ষণ, ঠিক তেমন করে দৃঢ়তার সাথে’ ই শিখেছি বাঁচতে, বড় হয়েছি গ্রামেই ! দেখে দেখে আর না পাওয়ার কল্পনা সব সয়ে সয়েই অভ্যস্ত, ভুল ক্রমে কিছু’ পাওয়ার আশা সে’ কি ভুলেও আশায় আসে মনে, সে’ তো অন্য আরও ভিন্ন !
গ্রামের মেম্বার চাচা’, সে’ অতি আপনার জন, হঠাৎ এক সন্ধ্যায় ডেকেছিলেন তার বাড়িতে! সময় অসময়ে ডাকেন প্রায়ই, এই টুকিটাকি ফুট ফরমাস খাটান আদরে, তার বিপরীতে করেন সাহায্য! সে’দিনও খবর পেয়ে’ যাই কিছু’ আশা নিয়ে মনে, গিয়ে দেখি অচেনা এক জন, সে’ তোমার বাবা সেখানে আছেন বসে, ছালাম দিতেই মেম্বার চাচা’ কাছে ডেকে আদরে বসিয়ে নিজে থেকেই বললেন দেখ, কে ….
উনি এসেছেন শহর হতে, সেও নাকি আমারই খোঁজে! শুনে এলোমেলো ভাবছি মেলাতে! আত্মীয় বলতে তো জানি’ কেউ নেই পৃথিবীতে আর যদি থাকেও কেন তিনি অন্যের বাড়িতে…. সে’ হিসেব বে-হিসেবের গড়মিল সে’ ভাবনার মাঝেই একটু খানিক দেখা পরিচয় ক্ষণেকের !
মূহুর্ত ক্ষণ তাকিয়ে আমার মুখে চমকে দ্রুত আরও কাছে এক্কে বারে মুখের কাছে এলেন ঝুঁকে, রেখে চোখে’ চোখ’ হঠাৎ সরিয়ে নিয়ে ভাঙা স্বরে জাড়ানো কথা কিছু’ অস্পষ্টতায় বললেন, হায় খোদা সেও ভালো হোক’ দেরী’ তে হলেও তো’ দিলে মিলিয়ে, হাজার লক্ষ কোটি শুকরিয়া দরবারেতে তোমার! মনে হলো লুকিয়ে যেন মুছলেন চোখের কোণে এসে থেমে থাকা পানি! চোখে চোখ পড়তেই চঞ্চলা হয়ে আমি উঠি কেমন ? ওকে পাঠিয়ে দিবেন খুব তাড়াতাড়ি, বললেন পিছন ফিরেই আর বলেই ঘর থেকে বেড়িয়ে দ্রুত অন্ধকারে গেলেন মিশে !
খানিক উদাসীন হয়েই, জিজ্ঞাসী’ চাচা’,….
কে উনি? শুধু বললেন, কি’ করবি জেনে, টুকটাক কাজের জন্য কিন্তু বিশ্বস্ত একটা লোকের খোঁজ করছিলেন তো তাই তোকে…. তোর ভবিষ্যতের কথা ভেবেই ….হ্যাঁ কিন্তু মান রাখিস সবার আগে বাবা’ মা’ আর গ্রামের সম্মান সাথে নিজের ও ! বাড়ি যা’ এখন, সকালে গিয়ে তোর মাকে আমি সব বুঝিয়ে বলবো কেমন ? ভাবিস নে আল্লাহ্ আছেন …..
শেষে অনেকটা কৌতুহল নিয়েই গেলাম দু’দিন পর ! প্রথমে কিছু মনে না হলেও বুঝেছিলাম ধীরে খুব ভালো করেই !
তোমার চেয়ে কিছু’ কম ভালো বাসতেন না আমাকে, বরং কোনো কোনো ক্ষেত্রে
একটু বেশী ই —
দূর হতে দেখি বেশ’ বড়সড়ো লোহার গেট আছে বন্ধ, গেটের পাশে ছোট্ট একটা ঘর কিন্তু কাউকে না দেখে ভাবছি, ভালো করে দেখতেই দেখি দেয়ালে ছোট্ট ফোকটে একটা মুখ, চোখা চোখি হতেই…কি’ চাই ? নিজের পরিচয় বলবো হঠাৎ সে’ ছুটে বেরিয়ে এসে সরো সরো, আরে সরো তো’ ভাই দেখো না সাহেব আসছে ? গেট খুলতে হবে, এ’ ভাবে এখানে অপরিচিত কাউকে দাঁড়ানো দেখলে আমার চাকরী’ যাবে!
শুনে খুব ভয় আর কষ্ট পেলাম! নিজে ভাত পাই না, আমার জন্য কারো চাকরী’ গেলে তার কি হবে? বিশাল আকৃতির একটা মটর গাড়ি সাঁই করে এসে গেট দিয়ে অর্ধেক ঢুকেই শব্দ করে থেমে গেল, সাথে সাথে পিছনে দু’ পাশে দুইটা লাল আলো জ্বলে উঠলো, চকচকা গাড়ি রোদের ঝলকানিতে চোখ টা খানিক ঘোলাটে ঠেকলো, শুধু কাঁচটা অল্প খানিক নামলো, ভিতরে অস্পষ্ট একটা মুখ, দাড়োয়ান আমাকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে পুলিশি কায়দায় স্যালুট দিলো, কি কথা হলো শুনতে পেলাম না! গাড়ি ভিতরে যাবার আগেই একই কায়দায় ফের স্যালুট দিয়েই আলোর গতিতে ফিরে এসে ফ্যাকাসে মুখে নাম জিজ্ঞেস করেমলো, নাম বলতেই,… আমতা আমতা করে… কি’ কান্ড আগে বলবেন তো, আপনি সাহেবের ভাগ্নে ? আগে কখনও দেখিনি তো তাই….এর পর যখন আসবেন দেখবেন ঠিক চিনে নেবো হ্যাঁ..
হোক’ রাত দুপুর আর হোক’ না সে’ তুফান ঝড়ের রাত অন্ধকারেও ঠিক……
কিন্তু আজ এখন কি’ একটা কান্ড হয়ে গেলো, দেখি লাগেনি তো কোথাও ? সাহেব বড্ড রেগেছেন, কে জানে কপালে কি আছে’ আজ! বিনয়ের সাথে, ছোট সাহেব শুনুন, ছোট সাহেব আর আপনি করে বলাতে এ’দিক ওদিক খুঁজে কাউকেই পেলাম না দেখতে ! দাড়োয়ানের দিকে তাকাতেই আবার বললো ছোট সাহেব, আরে আপনাকে বলছি…. বলছিলাম কি …দেখবেন আমার চাকরী’ টা যেন… বুঝতেই তো পারছেন গরীব মানুষ…ঘরে ছোট্ট দু’ টো বাচ্চা, তার কথার মানে কিছুই বুঝলাম না! আমার মন আর চোখ দু’টো কেবলি আটকে বাড়িটাতে আর মনের ভিতর উথাল পাথাল রাজ্যের যত এলোমেলো ভাবনা…. ,কি’ সে’ ভাবনা? থাক, সে’ না হয় আর নাই বা বলি আজ এখন……
ভিতরে যেতেই মামা, মানে তোমার বাবা আমাকে বুকে জড়িয়ে নিলেন! কিছুক্ষণ পর বুঝলাম তিনি কাঁদছেন ! কিন্তু কেন তখনও তা’ জানিনা! কেন, তবে জেনেছিলাম সে’ কথাও পরে ! আচ্ছা, আসতে পথে আর বাড়ি খুঁজে পেতে কোনো…. দ্রুত না’ না কোনো অসুবিধা ….
নিজে হাত ধরে একটা ঘরে নিয়ে বললেন এই তোমার ঘর, এই ঘরেই থাকবে, দেখে ভাবছি এত্তো বড় ঘর দু’ পাশে দুটো বড় বড় জানালা মাঝখানে কাচের দরজা তার পর পুরো ঘরের সমান লম্বা তবে চওড়াতে খানিক কিছু’ কম বারান্দা, তার সামনে দখিনে খোলা, বেশ’ খানিক জায়গা তাতে, বড় বড় অনেক গুলো গাছ, ঘর গুলোকে ছায়া দেয়, সেই ঘরে থাকবো আমি …
সেও একা ….. হায়রে খোদা লীলা তোমার……হাঠাৎ, কি’ এতো ভাবছো বলোতো ? যা’ ভাবছো, সে’ ভাবনার অনেক সময় পাবে, এখন তাড়াতাড়ি কাপড় বদলে গোসল করো….এ’ সব সবই তোমার জানা, মামা’ নিজ মুখে ই বলেছিলেন জানি’ এবং আমিও কতদিন কতবার…… আর সে’ সব’ কথা জেনে শুনে তার পরও হলে দেশান্তরী ! আমি জানি, সে’দিন আমাকে ঘৃনা করতেও ঘৃনা হতো তোমার, আচ্ছা এতোদিন বাদে এখনও কি তাই ? মনে পড়ে ? বলেছিলে, আমার নাকি খুব অহংকার, এও বলেছিলে নির্লজ্জের মত আমার বাবার কাছে থাকছো, খাচ্ছো পড়ছো, অথচ আমাকেই অপমান করছো, কেন করছো, এতো সাহস পেলে কোত্থেকে শুনি ?
মনে-মনে হেসেছিলাম শুনে! সে’দিন, কিসে কেন’ তুমি মেখেছিলে অপমান বোধ গায়ে, তাও জেনেছিলাম, বলেছিলে অনেক পরে নিজেই…. ! হয়ত আজ বলবে, সব মিথ্যে নয়ত বলবে, কি জানি সেই’ কবেকার… এখনও রেখেছো সব মনে? নয়ত ভুলে গেছি নেই মনে! হতে পারে সে’দিন রাগের মাথায়, …..
আচ্ছা থাক ওসব, পুরোনো কথা কি হবে আর বলে! তবে, ভেবোনা কিন্তু ছোট করতেই এ’সব ফের বলছি আজ !
আমার কাছে ছিলে অনেক বড়, কত টা বড় সে’ যদি তুমি জানতে, তবে ….
তাই সে’দিন তোমাকে…. আচ্ছা থাক না সে’ সব ! হয়ত মনে এখনও রাগ, নয়ত হচ্ছো বিরক্ত পুরোনো কথা গুলো শুনে কিন্তু কথা গুলো বলা যে’ আজ বড্ড জরুরী ! রইল মিনতি…সে’ সব ভুলে, না হয় শুধু শেষ বার কষ্ট করে হলেও পড়ো মন দিয়ে একটি বার ? ভী ষ ণ অবাক হলাম, রাতের খাবার ঘরে গিয়ে, নানান রকমারি খাবারে ভরা বিশাল একটা টেবিল যার উপর নেই তিল ঠাঁই তাতে !
দাঁড়িয়ে দেখছি… মামা, মানে তোমার বাবা কখন যে পিছনে এসে দাঁড়িয়েছেন, বুঝতেও পারিনি! হঠাৎ কাঁধে হাত রেখে আস্তে করে বললেন, কি ভাবছো ? সত্যি’ বলতে আমি যে’ কি ভাবছি, কি করে তা বলি ! কারো বিয়েতেও হয়ত এত্তো রকমের খাবার কি’ দরকার পরে ? সে’ দেখিনি তো’ কখনও আগে….. এ যাবত খাবার বলতে খেয়েছি বেশী’ র ভাগই পানি মেশানো ভাত, তাতে নুন আর মরিচ, আর ভালো বলতে কখনো অল্প চাল বেশী’ পানি দিয়ে রান্না করা, মানে গরম ফেনা ভাতের সাথে মাত্র এক রকম তরকারি, না হলে শুধু ডাল, কোনো কোনো সময় তাও না, হয়ত উঠোনের কোণে জাংলা থেকে তড়িঘড়ি লাউ এর ডগা আর দু’ টো পাতা ছিড়ে দিয়েছে গুঁজে ভাতে, সেও তেল পিঁয়াজ ছাড়াই ভর্তা করে ….. কি’ যে’ কষ্ট,… তবু তাই হাসি মুখে অমৃত ভেবেই গিলেছি গো’ গ্রাসে, অনিচ্ছা সত্তে ও ইচ্ছে করে তুলেছি ঢেকুর জানে ? তাই দেখে ছলছল চোখে’ হেসেছে মা’ দেখে, হয়েছি দারুন খুশি ভেবে ….
আর আজ এত্তো খাবার, কোন টা রেখে কোন টা, ভেবে ভেবে শেষে কিছুই খেতে পারলাম না! বার বার শুধুই মা’র মুখটা এলো চোখে, চোখটা ভিজে গেলে, খুব সাবধানে হাতের উল্টো পিঠ দিয়ে নিলাম মুছে ! মামা, মানে তোমার বাবা, দেখেও না দেখার ভান করেই নিরবে খেয়ে যাবার সময় বলে গেলেন, খেতে মন চাইছে না ?
মন না চাইলে খেও না, কিন্তু কতদূর থেকে এসেছো, …..আচ্ছা, রাস্তায় কি কিছু খেয়েছিলে কিনে ? না, তো’ …… বলাতে যেন খুশিই হলেন শুনে, একটু হেসে বললেন …..যাই বলো, আসলে বাইরের খাবারে অভ্যস্ত না হওয়া ভালো, সে’ সব দিক দিয়েই ! মনে-মনে, …..
আসতে পথে কিছু’ যে কিনে খাবো
সে’ টাকা কি’ …? আচ্ছা আমি যাচ্ছি, যেটুকুন মন চায় অল্প হলেও খাও, খেয়ে রুমে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়! সকালে কথা হবে, ডান হাত এঁটো হওয়াতে বাম হাতটা আমার মাথায় রেখে পিঠের কাছাকাছি ছুঁয়ে দিয়ে আমি আছি পাশে প্রয়োজনে ডেকো আমাকে, বলে চলে গেলেন! হঠাৎ আমার সারাটা শরীরে যেন বিদ্যুৎ চমকে গেল, তার পর একটা শীতল স্পর্শের অনুভবে শিরদাঁড়া বেয়ে সারা শরীরে গেলো ভরে ! পেলাম না নিষ্কৃতি তা থেকে, কোনো মতেই নিজেকে স্হির রাখতে না পেরে এক ছুটে পিছন থেকে জাপটে ধরে কেঁদে ফেললাম! চমকে, মামা জিজ্ঞেস করলেন কি হয়েছে ? বলো, বলো আমাকে ? না বললে বুঝবো
কি করে ! মুখ টা দু’ হাতে তুলে দেখে একটু হেসে, ও… মার কথা মনে পড়ছে বুঝি ? মনটাকে শক্ত পাথর কর! অনেক বড় হতে হবে…. ঠিক বাবার মত, আর এখানেই থাকতে হবে বলে আবার গায়ে, মাথায় হাত বুলিয়ে ঠিক আছে, না হয় পরে ই বলো ? উনি চলে গেলেন, সেদিক চেয়ে রইলাম চুপ দাঁড়িয়ে কিছু’ ক্ষণ ….
যত বার, তার পর থেকে যতবার তিনি স্পর্শ করেন ঠিক ততোবারই, আজও বারবার আমি বাবার স্পর্শ অনুভব করি, কিন্তু কি করে তা কাউকে বলি বলো’ তো ? বাবা’ কে তো দেখিই নি কখনও, বাবা কেমন ছিলেন, বাবার আদর কেমন হয়, তা তো জানি না! তবে, হঠাৎ কেমন করে জানি না, বুঝে নিলাম বাবার আদর স্নেহ এমনই হবে, ঠিক এমনই হয় !
একটুও ঘুম হলো না সে’ রাতে! আকাশ পাতাল উথাল পাথাল ভাবনা ভাবতে ভাবতে অনেক পরে, কখন যেন গেছি ঘুমিয়ে ! ঘুম ভাঙলো অনেক বেলাতে, চোখ খুলে দেখি চারিদিক আলোয় ভরে গেছে তা’ দেখে …. খুব খারাপ লাগছিলো এই ভেবে, হয়ত মামা এরই মাঝে এসে দেখে গেছে নিঃশ্চিন্তে ঘুমুচ্ছি ….. কি যে ভেবেছে কে জানে, হয়ত ভবেছে কি’ লাট সাহেব রে বাবা, আরাম পেয়ে এমন করে ঘুমোচ্ছে ? সারাটা সময় মা’ আর বাড়িটাকে নিয়ে ভাবলাম! দুপুরে খাবার পর মামা বললেন, আজ তো’ ১’লা বৈশাখ! একটু রেষ্ট নিয়ে চলো বিকেলে মেলা দেখে আসি! কথা টা বলার মধ্যে ভাবটা ছিলো ঠিক বন্ধুর মত ! বিকেলে নিজেই এসে ডেকে বললেন জলদি কাপড় বদলে রেডি হয়ে নীচে এসো, শুনে পড়লাম আরেক যন্ত্রনায় কি’ করি ভাল মন্দ বলতে একটাই তো কাপড়! তবে, আরেকটা যে আছে সেটা বের করতেও লজ্জা লাগছে এ’ বাড়িতে ! তার উপর মামার সাথে মেলাতে মানে, নিশ্চয় ঐ’ বড় গাড়িতে ! ভাবছি এই কাপড়ে বসলে গাড়িটাই নোংড়া হবে, কিন্তু করবো টা কি’ ? হঠাৎ পিছন থেকে কথা শুনে…. কি’ হলো তুমি এখনও সেই ভাবেই … কাপড়ও তো’ বদল করোনি ? চুপ করে থেকে মাথা টা নীচু রেখেই আস্তে করে বললাম, আমার তো…. ও, এতে লজ্জার কি’ আছে ? আর তাতে কি হয়েছে? এটাও তো অনেক সুন্দর, তবে একটু ময়লা হয়েছে কালকের জার্নিতে এই যা, ঠিক আছে চলবে এটা পড়ে চলো ! শুনে অবাক হলাম, বললেন শোনো আমরা
হেঁটে হেঁটে আর সব দেখতে দেখতে যাবো বুঝলে ? তুমি পথ ঘাট দেখে হাঁটবে চিনে নেবে, কারন একা চলতে হবে যে তোমাকে! চারি দিকে দেখছি আর ভাবছি আর হাঁটছি, মামা কত কি’ বলছে আমি সে’ সব শুনছি আবার শুনছি না, আমি অন্য রকম ভাবনাতে চলছি যেন’ স্বপ্নের জগতে!
গ্রামে যে’ মেলা হয় দেখেছি তো কত, বাজার জুড়ে নয়তো এক কোণে খোলা জায়গায় কিন্তু এখানে ? চতুর্দিকে ঘেরা প্রাচীর, তার মাঝে গাছ গাছালি ভরা তবে জঙ্গল নয়, একটু দূর থেকে মেলা’ র গেটে হাত তুলে ডাকলেন ইশারায় তোমাকে, দেখলাম তুমিও হাসলে হাত তুলে ! কাছে পৌঁছুতেই বললে চিৎকার করে, এত্তো দেরী কেন ? কখন থেকে একা দাঁড়িয়ে…
বাবা, আমি কিন্তু বড্ড রেগে আছি ? মামা কেমন যেন এক পেশে হেসে বলেছিলো তাই নাকি ? দেরী’… ও হ্যাঁ … হেঁটে এলাম যে, দেখোনা কেমন ঘেমে গেছি ….
তা’ হেঁটে কেন, গাড়ি ? আর আমাকে দেখে বলেছিলো, আরে বাবা এটাকে কোত্থেকে আবিস্কার করলে ? দেখে তো মনে হচ্ছে বেশ’ স্পেশাল,… এ’ মা’ এতো দেখি এক্কেবারে গেঁও ভূত —-মামা তোমার কথা শুনে আর আমাকে দেখে হেসে বললেন, তা যা বলেছো ! আচ্ছা, বাড়ি গিয়ে শুনো তবে এখন চলো ! বলে, মামা এক হাতে তোমার আর অন্য হাতে আমার হাত ধরে হাঁটছে ! আর আমি কেবলি বাবার স্নেহে ভিজে ভিজে যাচ্ছি ! আমার জন্য সে’ দিন টা ছিলো জীবনের এক অদ্ভূত বিস্ময়কর, বিশেষ আর পরম পাওয়া! হাঁটছো তবে ফিরে ফিরে বারবার চাইছো আড় চোখে তাতে’ ভরা হিংসে’ !
কি’ যে’ লজ্জা পাচ্ছিলাম, হয়ত ভাবছো কোত্থেকে উড়ে এসে জুড়ে বসলো’ রে বাবা, বাবার ভাগ বসাতে! ঘরে ফিরে ভাবছি বসে, না বলে হঠাৎ ই এলে ভিতরে, এ’ কথা সে’ কথার ফাঁকে ক্ষমাও চেয়েছিলে, ঐ’ যে’ গেঁও ভূত বলার জন্য! শুনে, কি যে হেসেছিলাম, তা দেখে গেলে আরও রেগে, এক্কেবারে আগুন হয়ে বলেছিলে, এতে হাসির কি হলো ? কেউ ভুল করতেই পারে, আর তা’ বুঝে সে যখন ভুলের ক্ষমা চায় –হাসতে নয়, উত্তরে ক্ষমা করে হেসে বলতে হয়,
ইটস ওকে! আমিতো হেসেছি ঐ জন্যই ! সামান্য কথা’য় কেউ, ক্ষমা চায় ? যে’ তুমি চাইছো, তাই! মামা বললেন, একে তো পর নতুন জায়গা, সেও মা’ কে ছেড়ে এই প্রথম এত দূর এসেছে, তার উপর তুমি ওকে শুধু ধমকাচ্ছো ! ও বড় হয়েছে গ্রামের পরিবেশে থেকে, শহুরে রীত রেওয়াজ এ, হুট করে কি’ আর …..
ঠিক আছে…. , তা তুমি আস্তে ধীরে না হয় সব দিও শিখিয়ে ? শুনেই ফুসে উঠে বলেছিলে মানে ? এ্যাঁ যেন’ কচি খোকা, ও কি ফিডার খায় ? আর আস্তে ধীরে মানে ? ও কি …..? মামা’ দৃঢ়তায় হ্যাঁ….
ও এখানে ই থাকবে, ….মানে ? উত্তরের অপেক্ষা না করেই, তাহলে আমি থাকবো না এখানে কালকেই আবার হোষ্টেলে চলে যাবো,….. কেন ? কেন মানে কি ? বাবার ভাগ আমি কাউকেই দেবো না, এই জন্যে ! জড়িয়ে ধরে বলেছিলে, বাবা তুমি শুধুই আমার ! শুনে কেঁদেছিলাম সারা রাত ভীষণ, যার পর নেই নিজেকে লোভী ভেবে ! আর বাবা’ কি’ সেও বুঝেনিলাম ধীরে, সেও বুঝেছিলাম কেন তুমি অমন করেছিলে !
ভীষণ অপন্দও করলাম তোমাকে, তক্ষুণি
মনে-মনে কত কিযে’ বলেছি সে’দিন ভেবেছিও শেষে স্বার্থপর ! কাঁদতে কাঁদতে মনে-মনে বলেছিলাম, আল্লাহ্ কেন আমার বাবা….? এরই মধ্যে কেমন করে কখন যে এতো’ টা ভালো বেসেছো, দাওনি একটুও বুঝতে ? জানো, কেবল কি’ শুধুই তুমি ? বেসেছিলাম, আমিও যে’ তবে, পাবার জন্য নয়,… শ্রদ্ধায় হয়ে গভীর নতো …. ,কারণ দিনে দিনে কত কিছু যে’ শিখিয়েছিলো, অজান্তে !
আমি শিক্ষক ভেবে, পক্ষান্তরে হয়ত তুমি নিজের উপযুক্ত করতে! দু’ জনের ভালবাসা’ র মধ্যে ছিলো পার্থক্য…বিস্তর !
কথার মধ্যে একদিন মামা বলেছিলো,..
মনে পড়ে? ভালো বাসা’ র স্থান, সে’ তো সবার উপরে তবে, ‘কারো করুনা যুক্ত ভালবাসা নিয়ে বাঁচার চেয়ে, করুন মৃত্যু অনেক সুখের, আর ভালো বাসা’ সে’ কি’ কেবলই প্রাপ্তির ? তার উপযুক্ত হয়ে উপযুক্তা বিচারেও দিতে হবে বিচক্ষণ, তবেই ….. দেখো যেমন আমি, কেমন করে প্রতিনিয়ত তিলে তিলে মৃতের মত আছি বেঁচে — সে’ দিন তোমাকে ফিরিয়ে দিলে, প্রচন্ড ক্ষোভে বলেছিলে, বাবা এ’ বাড়িতে ও থাকলে এক মূহুর্তও থাকবো না আমি, ভীষন কষ্ট হয় ওর জন্যই আমাকে অবহেলার নজরে দেখো ?
ভ্রান্ত, তোমার এই ধারনা মিথ্যে মা’ এক্কেবারেই….আমি দেরীতে হলেও করুনা থেকে নিস্কৃতি আর দায়িত্বের খাতিরেই বিশেষ কর্তব্য করছি ! যা আরও আগে করার প্রয়োজন ছিলো! যদিও চেষ্টার ত্রুটি করিনি কিন্তু সফল হইনি, হয়ত খোদা এমনই লিখে রেখেছিলেন আমাদের নিয়তিতে !
শুনে হঠাৎ জ্বলে উঠে বলেছিলে, কার করুনার নিস্কৃতি, কার, কিসের কর্তব্য, তাও আবার যাকে বিশেষণ যোগে তুমি বিশেষ বলছো ? খুলে বলো আমাকে, ওর প্রতি তোমার কেন এত দরদ ? কি সম্পর্ক ওর সাথে তোমার ? তুমি আমাকে এবা দূরে সরিয়ে রেখে গ্রামে গ্রামে কাকে খুঁজে বেড়াতে, তবে কি ও তোমার …… ? বলো বাবা’, বলো সত্যি’ করে… মামা চাপা স্বরে আস্তে বলো শুনতে পাবে, শুনুক, শুনবে বলেই তো আমি…..এবং শেষের কথা’ বলেছিলে খুব সহজে কিন্তু যার অর্থটা ছিলো খুবই নোংড়া, কথা শব্দের প্রয়োগকৃত ভাষা আর বলার ভঙ্গিতে হয়েছিলো ভয়াবহ পরিবেশ …. জানি’ তখন রাগে কি যে বলেছিলে তা’ পারো নি নিজেই বুঝতে … শুনে মামা রাগে কোনো কথা না বলে প্রচন্ড জোরে চড় মারে, সে’ কথার শব্দে ঘরের মাঝের কংক্রিটের শক্ত মজবুত দেয়াল ভেদ করে তীব্র বেগে সোজা লাগে এসে এই বুকে’ …. অনেক কেঁদেছিলো, তুমিও! না’ জানি’ আমার কারণে মামা’ তোমা’ কে আর কত টা ব্যাথা বুকে কষ্ট সেও দু’ জনে…. সে’দিন রাতে কেউ ই ঘুমাতে, যে’ যার ঘরে একা একা নিরবে কষ্টে, পরদিন শান্ত হয়ে মামা ডাকলেন দু’জন কেই, বসিয়ে কাছে অতি আদরে বললেন সব বুঝিয়ে একে একে !
বললেন, শোনো মা’, হ্যাঁ তোমা’ র দৃষ্টিতে এই যে গেঁও ভূত, আর এই গেঁও ভূতের যে’ ছিলো এক বাবা’, সে’দিন সে’ শুধু আমাকে বাঁচাতে ই নিজের বুক আগলে দিয়ে শহীদ হলেন যুদ্ধে, মৃত্যুর সময় ওর বাবা’ কে বলেছিলাম, যেখানেই থাকুক খুঁজে বের করবো আর ভাববেন না আমি দেখবো ওদের কে….. শুনে একটু হাসলেন আর কোথায় বাড়ি বলতে বলতে ই ওর বাবা’ …. হলো না তাই আর জানা !
আগের দিন শুধু বলেছিলেন, মরিয়মের জন্য খুব চিন্তা হয় জানো ? আর মাত্র দু’মাস পর বাচ্চা হবে, যুদ্ধে কখন কিযে হয় কে’ জানে বলো ? আমার কিছু হলে মরিয়ম একেবারে একা হয়ে যাবে, কি করবে ও তখন একা ? তবে আমার বিশ্বাস আর ভরসা এক আল্লাহ্,
তিনি নিশ্চয় সব ঠিক করেই রেখেছেন, মিছেই শুধু ভাবি আমরা….
দেশ স্বাধীন হলো, আমি খোঁজ খবর করি গ্রামে গ্রামে নিজে গিয়ে, লোক দিয়েও কিন্তু কোথাও পাইনা সন্ধান ওদের ! দু’বছর পর বিয়ে করলাম, তার দু’ বছর পর তুমি হলে! তোমার মা’ ভীষণ বিরক্ত আর কষ্টও পেতো ভীষণ ! রাতে আমি ঘুমোতে পারি না দেখে বলে, এতো অধৈর্য কেন হও, ভরসা রাখো আল্লার উপর ! তুমি তো’ চেষ্টা করছোই চুপ করে তো বসে নেই …. তোমার যখন ছয় বছর, তোমার মা’ মারা যাবার আগে বলে গেলো, সময় সমাগত আমার অবর্তমানে ওকে বডিং স্কুলে দিয়ে তুমি নিশ্চিন্তে ওদের কে খুঁজে বের করবে! কে জানে কোথায় আছে কেমন কত কষ্টে …! দেখো আল্লাহ্ নিশ্চয় মিলিয়ে দেবে একদিন ধৈর্য রেখো মনে !
অবশেষে খোঁজ পেতেই গেলাম ছুটে, গিয়ে জানলাম সত্যি’ ই ওরাই সেই, …..
যাদের সন্ধ্যানে আমি ফেরারী’ র মত এতটা বছর ….. একটুও দেরী করি নি! ভেবে দেখো তোমা’ কেও বলার সময় নিই নি, এখন বলো মা, তুমিই বলো ওর সাথে কি’ সম্পর্ক আমার ? দেখো আমার চোখে চেয়ে’, এই আমি, তোমার বাবা’ র জীবন, সে’তো ওর বাবা’ র নিঃস্বার্থের দান, মা ! আমি মনে করি, এ’তে যে ওরও সমান অধিকার আছে মা! শুনে তুমি হুমড়ি খেয়ে পড়লে মামার পায়ে, পা’ ধরে অনেক কেঁদেছিলে, কেঁদেছিলাম আমিও এই ভেবে, লেখা পড়া করছি আহ্ কি’ আরামে মামার করুনায় আছি সুন্দর বেঁচে ! আর তার পর দিনই সরাসরি বলেছিলে সুপ্ত মনের দূর্লভ ভালবাসার কথা, শুনে মনে হয়েছিলো আমার, বুঝি চাও করতে নিমেষে শোধ বোদ ….
হতাশ হয়ে চুপ হয়ে গেলে এক্কেবারেই নিরব সে’দিনের পরে….
ক’দিন পরে ঠিক করলে, তুমি
বিদেশে চলে যাবে! জেনে ধক করে কেঁপেছিলো বুক’, কেন ? পরে তাও বলেছিলো সব নিজেই আমাকে, যাবার আগে তুমি যা যা মামা’ কে… ! আমি মামার কথায় সে’দিন ফিরিয়ে দিয়েছিলাম মামা’ কে ! ‘কারো করুনা যুক্ত ভালবাসা… শুনেই থামিয়ে দিয়ে মামা বললেন, বুঝেছি আর বলতে হবে না! শেষে এও বলেছিলো, তবু ফের একবার, স্থির মনে দেখো ভেবে…. , একটুও জোর করবো না! করেন নি আর…..আচ্ছা, আজ কেন লিখছি এই চিঠি, শুনবে না ? মনে আছে…. ? যাবার সময় হাত ধরে বলেছিলে, বিশ্বাস রাখতে পারো, আজ এই মূহুর্ত থেকে বাবাকে এক্কেবারে তোমার একার করে দিয়ে গেলাম! কোনো দিন বাবা’ র আর ভালো বাসার দাবি নিয়ে দাঁড়াবো না সামনে! না বলবো কখনওই কিছু’ পিছনে, হয়ত আর দেখা হবে না আমাদের… সেই প্রথম আর শেষ স্পর্শ তোমা’ র, হয়েছিলো মন একটু হলেও চঞ্চল যা’, আজও দৃঢ় স্পষ্ট হয়ে আছে !
আমি’ তো’ সেদিনই সব পেয়েগেছি, জানি’,তুমি’ একটুও বুঝতেও পারো নি সে’দিন নিজেও, অজান্তেই দিয়েছিলে কত’ টা, যা’ পেয়ে হয়েছিলাম আজন্মের তরেই পরিপূর্ণ…. ! খুব মনে আছে, আরও বলেছিলে শুধু বাবা ই নয়, বারা’ র সব কিছু’ ই… মামা যেন’ পাহাড়ের মত নিথর চুপ, কোনো কথা ই বলেন নি সে’দিন সে’ সব শুনেও, নিরবে কেবলই মুছেছিলো নিজেই নিজের চোখ’ …. সে’দিন ঠিকই বুঝে নিয়েছিলেন, সে’ আমি তুমি আমাদের সিদ্ধান্তে আমরা কতোটা এক আর কি’ ভীষণ অনড় ….. প্রথমে ভেবেছিলাম রাগে গেলে চলে, রাগ পড়ে গেলে শান্ত হবে মন, ভাঙবে ভুল আর ভুল ভাঙলেই ঠিক আসবে….. , আর এসেই মৌন স্বরে বলবে, সরি ক্ষমা করে দাও, তা’ শুনে আমিও বলবো দ্রুত শিখিয়ে দেয়া তোমা’ র বাণী’ একটু হেসে,…. ইট ওকে,……
কিন্তু তা আর হলো কই বলো ….
যাবার পর আজ অবধি প্রতিটি মূহুর্ত গুনে গুনে চব্বিশ টা বছর, নাও নি কোনোই খোঁজ… দাও নি ঠিকানা ও…..
নিই নি খোঁজ আমি ও সেই ভেবে…..
চাও নি যে’ তুমি তাই তবে,প্রতিদিন প্রতিনিয়তই ভেবেছি, ঠিক আজ পাবো খবর ফিরছো…. , কিন্তু পরশু যখন উকিল বাবু এসে সব সম্পত্তি দিয়ে গেলো বুঝিয়ে সাথে দুজনের ছবিটা,…..মনে আছে ? এ’ বাড়িতে আসার পর তোমার শেষ জন্মদিনে তোলা ছবি টা…. !
তুমি পছন্দেম করে নিজে কিনে এনেছিলে জামা প্যান্ট আর জুতো ! আমার জীবনের প্রথম আর শেষ ‘শ্রেষ্ঠ উপহার, হাতে পেয়েই নিলাম বুঝে ঠিক তখুনি….. ,আজ ফের কি’ প্রচন্ড করুনা করলে তুমি …….
লিখা ছিলো তাতে অতি সুন্দর আর
ভীষণ ছোট্ট করে ক’ টা শব্দ ….
এলাম ফিরে ফের দ্বারেতে তোমার
অকারণে পেওনা ভয় দেখে মিছে, তবে
জেনো সত্যি’ করে আসিনি মনের ভুলে, না’ ভাঙাতে ভুল আজ নিজের অজান্তে ই এলাম ফের পুরাতে ভুলের মাশুল ……
পুরোনো কে’ আজ ফের নতুন করে ই
দিতে একবার মনের সুতোয় দিতে জুরে …..
