মোঃ হাসান আল মামুন; ১৯৭৬ সাল থেকেই প্রাথমিকে শিক্ষক সংকট চলে আসছে। নিয়োগ প্রক্রিয়া দীর্ঘ হওয়ায় এ সংকট প্রকট হয়ে শিশু শিক্ষার্থীরা তাদের জ্ঞান লাভের অধিকার হতে বঞ্চিত হচ্ছে। যার ফলে তারা জ্ঞান লাভ থেকে পিছিয়ে আছে। বাংলাদেশ প্রাইমারি এডুকেশন অ্যানুয়াল সেক্টর পারফরম্যান্স ২০১৯ এর তথ্য মোতাবেক একজন শিক্ষক দ্বারা পরিচালিত বিদ্যালয় ৭৪৯টি, ২ জন শিক্ষক দ্বারা পরিচালিত বিদ্যালয় ১ হাজার ১২৪ টি, ৩ জন শিক্ষক দ্বারা পরিচালিত বিদ্যালয় ৪ হাজার ৮ টি।

  • ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি মোতাবেক ১৮ হাজার শিক্ষক যোগদান করার কথা থাকলেও বহু মেধাবী বেশি বেতনের সুযোগ পেয়ে অন্য পেশায় যোগ দিয়েছেন। নতুন শিক্ষক যোগদানের প্রক্রিয়া শেষ হবার পর গত ১১ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদে প্রশ্নত্তোর পর্বে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন জানান, আরও ২৯ হাজার শিক্ষকের পদ শূন্য আছে। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে যেখানে শূন্য পদে নিয়োগের কথা সুস্পষ্ট লেখা রয়েছে, সেখানে শিক্ষকের শূন্যপদ রাখার যৌক্তিকতা বোধগম্য না।

২৪ লাখ আবেদনের মধ্যে মাত্র ২.৩% হারে ৫৫ হাজার ২৯৫ জনকে নির্বাচিত করা হয়। যার শতকরা হার ২ দশমিক ৩ শতাংশ। এই হারের ওপর ভিত্তি করে বলতে চাই সব চাইতে মেধাবীদেরই লিখিত পরীক্ষায় নির্বাচিত করা হয়েছে। লিখিত পরীক্ষায় প্রাপ্তমান ৮০, মৌখিক পরীক্ষায় ২০। তার মধ্যে সনদের জন্য ৫,পরিক্ষার পরিচ্ছন্নতা, উপস্থাপন, সাধারণ জ্ঞানের জন্য ১৫ নম্বর। নিয়োগের ভাইভা পরীক্ষার আগে জেলা পর্যায়ে ব্যাপক তদবিরের খবর পাওয়া যায়।সে প্রেক্ষাপটে তদবিরই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে জয় হয়ে থাকে।কিছুদিন আগে প্রাথমিক ও গনশিক্ষা মন্ত্রনালয়ের মহাপরিচালক মোঃ ফসিউল্লাহ স্যার বলেছেন: প্রাথমিকের ভাইভা পরীক্ষায় পাস/ফেল নেই। হাজির হলেই ১৪/১৫ পাওয়া যায় । তাই বর্তমানে নিয়োগবিধি মোতাবেক উত্তর পত্রের সিটে কোড নম্বর দেয়া থাকায় লিখিত পরীক্ষায়ই মেধাবী নির্বাচন নিয়ে কোন বিতর্ক থাকে না। এক্ষেত্রে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের যোগ্যতা নিয়ে মন্তব্য করা মূর্খতা ছাড়া কিছুই নয়।

  • লিখিত পরীক্ষায় কার কত বড় ডিগ্রি আছে তা বিবেচনায় আসে না। বিবেচিত হয়ে থাকে তার জ্ঞান। সেক্ষেত্রে বড় বড় ডিগ্রি নিয়ে বড়াই করা সমীচীন নয়। প্রাথমিকে একজন শিক্ষক নিয়োগের পর পরিপূর্ণ শিক্ষক হিসাবে আত্নপকাশ করবে ১ বছর ৬ মাস ডিপিএড প্রশিক্ষণের পর। তারপর ইউআরসিতে বিষয়ভিত্তিক, সাব ক্লাস্টার সহ অগণিত প্রশিক্ষণ তো আছে। এ ছাড়া বর্তমানে ২৭ হাজার শূন্যপদ রেখে চলছে প্রাক প্রাথমিকের শিশু শিক্ষা। প্রতিদিন অবসর জনিত, মৃত্যু ও অন্যপেশায় চলে যাওয়ায় শূন্য হচ্ছে কমপক্ষে ২০০ পদ। এ নিয়ে বর্তমানে পদশূন্য রয়েছে প্রাথমিকে প্রায় অর্ধলক্ষ।

একদিকে করোনা ভাইরাস অপরদিকে নিয়োগ প্রক্রিয়া দীর্ঘসূত্রিতা প্রাথমিকে শিক্ষক সংকট মারাত্মক রুপ ধারণ করবে। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য বিগত নিয়োগে ৩৭ হাজার লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের নিয়োগে অগ্রাধিকার দেয়া ছাড়া প্রাথমিকে শিক্ষক সংকট দূর করার বিকল্প দৃশ্যমান নয়। এদের মধ্যে দীর্ঘ সূত্রিতা অন্য পেশায় চলে গেছেন অনেকেই। অবশিষ্ট আনুমানিক ৩০ হাজারের বেশি হবে বলে মনে হয় না। বাকি আরো শূন্যপদে নিয়োগ প্যানেলের মাধ্যমে দেয়া জরুরি।

  • এছাড়াও নতুন পদে বর্তমানে ১ লাখ ৯৬৬ জন শিক্ষক পদ সৃজন প্রক্রিয়াধীন। সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে ৬৫ হাজার শিক্ষক পদোন্নতি হলে ৬৫ হাজার সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য হবে। ৬৫ হাজার হিসাব রক্ষকের পদ সৃষ্টি হবে। প্রাথমিকে দীর্ঘ ১২ বছর প্রধান শিক্ষকের পদোন্নতি বন্ধ। প্রধান শিক্ষক পদেও অগণিত পদ শূন্য। মুজিব বর্ষে সরকারের সকল পদ পুরণের অঙ্গীকার রয়েছে। প্রাথমিকে প্যানেল প্রক্রিয়া চালু হলে শিশু শিক্ষার্থীদের শিক্ষকের অভাবে শিক্ষাদান ব্যাহত হবে না। আগামী প্রজন্ম গড়ে উঠবে জ্ঞান সর্বস্ব সুনাগরিক হিসেবে।

শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বাভাবিকভাবে শেষ করতে ২ বছর সময় পার হয়। ২০১৪ খ্রিষ্টাব্দের নিয়োগ প্রক্রিয়া বিপুল সংখ্যক পদশূন্য রেখে ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দের শিক্ষক পদ পদায়ন করে থাকেন। শিক্ষক প্যানেলে নিয়োগ হলে, শিক্ষক সংকট শূন্যের কোটায় নেমে আসবে। শিক্ষার্থীরা জ্ঞান অর্জনের অধিকার থেকে বঞ্চিত হবেনা। শিক্ষিত বেকাররা বয়স হারানো আতংক থেকে মুক্ত থাকবে। মেধাবীরা এদিক সেদিক চাকরির জন্য ছুটাছুটি করবেনা। অপর দিকে মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়ন সম্ভব হবে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের লেখাপড়া হয় না এমন অহেতুক অপবাদ থেকে শিক্ষক সমাজ রক্ষা পাবে।

  • “হে বিশ্ব মানবতার আলোকবর্তিকা”মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, “শেখ হাসিনা ” সোনার বাংলা‌গঠনে, উন্নয়নের ছোঁয়ায় যে পরিবর্তন হচ্ছে, সেই সোনার বাংলা গড়তে আমাদেরকে প্রাথমিকে প্যানেল গঠনের মাধ্যমে নিয়োগ দিয়ে অংশ গ্রহণের সুযোগ দিন।

লেখক, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্যানেল প্রত্যাশী 

আমাদের বাণী ডট কম/০৪ জুন ২০২০/সিসিপি

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।