নিজস্ব সংবাদদাতা, ঢাকা; মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) ব্যবহৃত টিস্যু বক্সে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি ছাপানোর ঘটনায় মাউশি কর্মকর্তাদের উপর চটেছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান নওফেল । এই টিস্যু পেপারগুলো ব্যবহার করবেন শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) সহ সব পরিচালক, উপপরিচালক ও সহকারী পরিচালক ও অন্যান্য কর্মকর্তারা।
গতকাল আমাদের বাণী ডট কম সহ একাধিক গণমাধ্যম শিক্ষা ভবনের টিস্যুবক্সে বঙ্গবন্ধুর ছবি! শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদন উপমন্ত্রীর নজরে আসলে তিনি মাউশি কর্মকর্তাদের উপর ক্ষিপ্ত হন।
আরও পড়ুন; এবার শিক্ষা ভবনের টিস্যুবক্সে বঙ্গবন্ধুর ছবি!
এ বিষয়ে শিক্ষা উপমন্ত্রী তাঁর ফেসবুকে একটা স্টাটাস দিয়েছেন। আমাদের বাণী ডট কম পাঠকদের জন্য উপমন্ত্রী স্টাটাস হুবহু তুলে ধরা হল;
‘মুজিববর্ষের লোগো অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবে যত্রতত্রভাবে প্রিন্ট করার একটি ঘটনা যা মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরে হয়েছে, তা আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। আমরা ইতিমধ্যে এই প্রিন্টের বক্সগুলো বাজেয়াপ্ত করেছি এবং এর পিছনে কে সেটি জানাতে বলেছি। পরিকল্পিত ভাবে এই কাজ করা হয়ে থাকলে অবশ্যই শাস্তি পেতেই হবে। আমাদের সমাজ, প্রশাসন, রাজনীতিক পরিমন্ডলের সবখানেই অবিবেচক আর অতিউৎসাহীর কোনো কমতি নাই। পাশাপাশি অপরাজনৈতিক শক্তির দোসররা তো আছেই! এরা চাইবে যে কোনো ভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করতে, বিতর্ক সৃষ্টি করতে। এই চ্যালেঞ্জটি আমাদের আছেই। এই বিশাল প্রশাসনের কোথায় কে কোন বিতর্ক ঘটিয়ে ফেলেছে তা আগে থেকে নিয়ন্ত্রণ কঠিন। তাই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি আর ব্যবস্থা নিয়েই আমাদের এগোতে হবে। সকলের অবগতির জন্য আমরা জানাচ্ছি “মুজিববর্ষের” আনুষ্ঠানিকতা কার্যক্রম, ইত্যাদির দিক নির্দেশনা দেয়ার জন্য একটি জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি আছে। এর প্রধান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা। এই কমিটি কর্তৃক নির্দেশিত কাজের বাইরে কিছু করতে চাইলে আমাদের প্রানপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী বলে দিয়েছেন দুস্থ, গৃহহীন, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য কল্যানমূলক কিছু করতে, যেমন তাদের জন্য গৃহনির্মান। এতে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলায় তার সাধারণ মানুষের জন্য যেই সমান অধিকারের দেশ তিনি রেখে যেতে চেয়েছিলেন, তা বাস্তবায়নের পথে আমরা অনেক দুর এগুতে পারবো। সুতরাং অতিউৎসাহীরা সাবধান!
জয় বাংলা
জয় বঙ্গবন্ধু
#Mujib100′
আরও পড়ুন; যে কারণে শিক্ষামন্ত্রীকে ভর্ৎসনা করলেন প্রধানমন্ত্রী
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাত-আটমাস আগে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর ( মাউশি) তাদের লোগো ব্যবহার করে এক হাজার টিস্যু বক্স তৈরি করার সিদ্ধান্ত নেয়। সেভাবেই এসএমএস টেকনলোজিস নামের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেয়া হয়। কিন্তু শিক্ষা অধিদপ্তরের দুইজন শিবিরন্থী উপপরিচালক টিস্যুবক্সে অধিদপ্তরের লোগোর পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুর ছবিও জুড়ে দেয় টিস্যু বক্সে। শুধু তাই নয়, সেই টিস্যু বক্সের দামও ধরা হয় অনেক বেশি। প্রতিটি টিস্যু বক্সের দাম ধরা হয়েছে ৫৬ টাকা। যা বাজারে পাইকারি দরে ত্রিশ টাকায় পাওয়া যায়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি সম্বলিত এই এক হাজার প্রশ্নবিদ্ধ টিস্যু বক্স এখন শিক্ষা ভবনের মূল ভবনের নীচ তলার স্টোর রুমে রাখা হয়েছে। মুজিববর্ষে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালির ছবি ছাপানো টিস্যুবক্স কর্মকর্তাদের টেবিলে-টেবিলে দেয়াটা কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়েও আছে প্রশ্ন।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৭ খ্রিষ্টাব্দের ১৮ ডিসেম্বর আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে স্বাধীনতার ছেচল্লিশতম বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের সামনে একটি কেক রাখা হয়। যা বানানো হয় জাতীয় পতাকার আদলে। জাতীয় পতাকার ওপর ছুড়ি চালাতে পারবেন না বলে কেক না কেটে সেই স্থান ত্যাগ করেন নুরুল ইসলাম নাহিদ। সেই সময় এই ঘটনা নিয়েও হয়েছিল হৈচৈ।
আমাদের বাণী ডট কম/০৫ মার্চ ২০২০/ডিপি
