মো: রায়হান খান; দেশে প্রাথমিক শিক্ষায় অংশগ্রহণের হার প্রায় শতভাগ। যদিও এসব শিক্ষার্থীর পাঠদানে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে না পর্যাপ্ত শিক্ষক। গড়ে তোলা হচ্ছে না প্রয়োজনীয় অবকাঠামো। ফলে প্রাথমিকের গণ্ডি না পেরোতেই শিশুদের বড় একটি অংশ ঝরে পড়ছে। প্রাথমিক শিক্ষাই হচ্ছে একজন শিক্ষার্থী গড়ে তোলার মূল স্তম্ভ।

বরিশাল জেলার উজিরপুর উপজেলায় অবস্থিত শিবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এ বিদ্যালয়ে মোট শিক্ষকের পদ রয়েছে ৬ টি। ফলে কর্মরত ছিলেন মাত্র ১ জন শিক্ষিকা। ফাঁকা রয়েছে গেছে ৫ জন শিক্ষকের পদ। মাত্র ১ জন শিক্ষিকা দ্বারা বিদ্যালয়ের পাঠদান ও বিদ্যালয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছিল । কিন্তু কিছু দিন আগে তিনিও মাতৃত্বকালীন ছুটি নিয়ে চলে গেছেন। তার চলে যাওয়ায় বিদ্যালয়টি সম্পূর্নভাবে শিক্ষক শূন্য হয়ে পড়লে তিনি বিদ্যালয়ের সংশ্নিষ্ট কমিটিকে ব্যাপারটি অবহিত করেন। পরে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা

বিদ্যালয়টিতে ডেপুটেশনের মাধ্যমে মইন চন্দ্র সরকার নামে ১ জন শিক্ষক নিয়োগ দেন। একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কতটা বেহাল দশা ও চরম শিক্ষক সংকট থাকলে এরকম পরিস্থিতির সম্মুখীন হয় সেটি কল্পনাতীত। বর্তমানে ঐ ১ জন শিক্ষকই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেছেন। আর ১ জন শিক্ষক দ্বারা বিদ্যালয়ের সবগুলো শ্রেণিতে পাঠদান করা অসম্ভব। যার ফলে মারাত্মক ভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে শিশু শিক্ষার্থীরা।

মাতৃত্বকালীন ছুটিতে যাওয়ার আগে বিদ্যালয়ের কর্মরত সহকারী শিক্ষিকা সুপর্ণা দে জানিয়েছেন, বিদ্যালয়ের পাঠদান থেকে শুরু করে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্ব তাকে পালন করতে হয়। বাড়তি কাজের চাপে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান পরিচালনা করতে তাকে অনেক হিমশিম খেতে হচ্ছে প্রতিদিন। এই সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য তিনি দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ করে বিদ্যালয়ের শিক্ষার কার্যক্রম আরও বেগবান করার দাবি জানান।

এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকদের অভিযোগ, মাত্র ১ জন শিক্ষক থাকায় বিদ্যালয়ের সবগুলো শ্রেণিকক্ষে তাকে পাঠদান দিতে হচ্ছে যার কারণে তিনি কোনো শ্রেণিতে বেশিক্ষণ সময় দিতে পারছে না। তাছাড়া দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে না থাকার কারণে ছাত্র-ছাত্রীরা পড়াশোনায় অমনোযোগী হয়ে পড়ছে। যার ফলে শিক্ষার্থীরা তাদের যথাযথ শিক্ষা হতে বঞ্চিত হচ্ছে । এর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে শিক্ষার্থীদের ফলাফলের উপর। বিদ্যালয়ের বার্ষিক পরীক্ষায় পাসের হার কমে যাচ্ছে এবং সমাপনী পরীক্ষায়ও মিলছে না কাঙ্খিত সাফল্য।

জেলার অন্যসব বিদ্যালয় গুলোতেও একই রকম চিত্র দেখা যায়। বেশির ভাগ বিদ্যালয়েই ২ বা ১ জন শিক্ষক দিয়েই চালানো হচ্ছে পাঠদান কার্যক্রম তার মধ্যে নেই কোনো প্রধান শিক্ষক। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না থাকায় শিক্ষকরা
সেখান প্রভাবশালী নেতাদের দ্বারা ও বিভিন্ন অপকৌশল প্রয়োগের মাধ্যমে গ্রামাঞ্চলের বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কোটা

কেটে শহরের অতিরিক্ত কোটা তৈরি করে শিক্ষক নিয়োগ হচ্ছে। ফলে এসব বিদ্যালয়গুলো চরম শিক্ষক সংকটে ভুগছে।

তাই শিবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ছাড়াও জেলার প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোতে চরম শিক্ষক সংকট অবসান করতে ও শিক্ষার আলো প্রতিটি ঘরে জ্বালিয়ে দিতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্যানেলের প্রবর্তন করাটা এখন সময়ের দাবি মাত্র। প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৮ লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৩৭ হাজার মেধাবী শিক্ষার্থীদের যদি প্যানেল প্রবর্তন করে নিয়োগ দেওয়া হয় তাহলে জেলার বিপর্যস্ত প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার মান দ্রুত গতিতে উন্নয়ন করা সম্ভব হবে এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মুজিব বর্ষে প্রতি ঘরে ঘরে একজন করে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি পূরন করা সম্ভব হবে।

লেখক, প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৮ প্যানেল প্রত্যাশী, উজিরপুর, বরিশাল জেলা।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।