সুনামগঞ্জ জেলার শাল্লা উপজেলার মারকুলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সদ্য প্রকাশিত সমাপনী পরীক্ষায় সব শিক্ষার্থী ফেল করায় প্রধান শিক্ষকসহ বিদ্যালয়ের ৫ শিক্ষককে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া দিয়েছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস।
স্থানীয় ও বিদ্যালয় সুত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়টিতে ২০১৯ সালে শিক্ষার্থী ছিল ২৯৮ জন শিক্ষার্থী ছিল। ২০১৯ সালে ৪৪ জন শিক্ষার্থী সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য রেজিস্ট্রেশন করে; কিন্তু পরীক্ষায় অংশ নেয় মাত্র ৩১ জন। বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সঞ্জয় দাস ১৩ বছর ধরে এখানে কর্মরত। এ কারণে বিদ্যালয়টি তাঁর প্রভাব ছিল একচ্ছত্র। তার নেতৃত্বে সহকারী শিক্ষকরা মাঝেমধ্যে স্কুলে এসে আবার স্বাক্ষর দিয়ে চলে যান। সমাপনী পরীক্ষার আগে প্রধান শিক্ষক বেনু দাস হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। ওই সময় বিদ্যালয়ের বাকি চার সহকারি শিক্ষক স্কুলে উপস্থিত হননি।
স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, সহকারি শিক্ষক সঞ্জয়ের নেতৃত্বে সহকারি শিক্ষিকা সুচিত্রা বৈষ্ণব, সুপ্তমা রানী দাস এবং সহকারি শিক্ষক জ্যোতিবালা দাস চক্র করে স্কুলে নিয়মিত অনুপস্থিত ছিলেন। স্কুলের এই সমস্যার কথা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানালেও তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি। সঞ্জয় দাসের সঙ্গে শিক্ষা অফিসের সবার সুসম্পর্ক রয়েছে। এদিকে বিগত পাঁচ বছর ধরে বিদ্যালয়টিতে নেই কোন ম্যানেজিং কমিটি।
জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক বেনু দাস আমাদের বাণী ডট কমকে বলেন, আমি মাত্র বছর দেড়েক আগে স্কুলে আসি। এসে দেখি স্কুলে কোনো সিস্টেম নেই। সরকারি নিয়মে স্কুল চালাতে চাইলে সঞ্জয় দাসের নেতৃত্বে অন্য শিক্ষকরা একজোট হয়ে আমার বিরোধিতা করেন। স্কুলটিকে বাঁচাতে হলে শিক্ষা অফিসকে কঠোর হতে হবে। আমি দোষী থাকলে আমার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
তবে স্কুলের এই সমস্যার কথা জানলেও কোনো ব্যবস্থা নেননি স্থানীয়দের এমন অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) দীন মোহাম্মদ বলেন, ফলাফল খারাপের জন্য সকল শিক্ষকের নামে শোকজ পাঠানো হয়েছে। সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
