বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের মূলমন্ত্র গণতন্ত্র, শোষনমুক্ত সমাজ অর্থাৎ সামাজিক ন্যায়বিচার, জাতীয়তাবাদ, ধর্ম নিরপেক্ষতা অর্থাৎ সকল ধর্মের মানুষের স্ব স্ব ধর্ম স্বাধীনভাবে পালনের অধিকার তথা জাতীয় চার মুলনীতিকে সামনে রেখে বেকারত্ব দূরীকরণ, দারিদ্র দূরীকরণ, দারিদ্র বিমোচন, শিক্ষা সম্প্রসারন, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপদান, অসাম্প্রদায়ীক বাংলাদেশ ও আত্মনির্ভরশীল অর্থনীতি গড়ে তোলা এবং যুবসমাজের ন্যায্য অধিকারসমুহ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যুবলীগের কার্যক্রম শুরু হয়েছিল।
দেশের সকল শ্রেণী ও পেশার মানুষের মধ্য থেকে স্বাধীনতা ও প্রগতিকামী যুবক ও যুব মহিলাদের ঐক্যবদ্ধ করে তাদের রাজনৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে একটি সুশৃঙ্খল সংগঠন গড়ে তোলাই এই সংগঠনের মূল উদ্দেশ্য।
তবে সময় ও কালের বিবর্তনে এই সংগঠনের নেতৃত্ব নিয়ে বিভিন্ন সময় সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। কোথায় কমিটির মেয়াদ থাকা সত্ত্বেও ক্ষমতার দাপটে নতুন কমিটি, কোথাও বছরের পর বছর মেয়াদ উত্তীর্ণ কমিটি দিয়েই কার্যক্রম চলা। তবে আওয়ামীলীগের এই অঙ্গ সংগঠনের কেন্দ্রীয় নতুন নেতৃত্ব আসার পরে অনেকেই আশার আলো দেখেছিলেন যুবলীগের জেলা উপজেলা নগর মহানগর কমিটি হবে সুন্দর ও সঠিক নেতৃত্ব বাছাই।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলার সাতকানিয়া যুবলীগের কার্যক্রম চলছে এবরথেবর ভাবে। এই উপজেলা কমিটি নিয়ে বরাবরই সমালোচনার শেষ নেই। অভিযোগ আছে পুর্ণাঙ্গ কমিটি এবং কমিটির মেয়াদ থাকা সত্ত্বেও ক্ষমতার দাপটে নতুন আহ্বায়ক কমিটি করা। আওয়ালীগের পদধারী নেতাকে কমিটির আহ্বায়ক করার। আবার সেই সমালোচিত আহ্বায়ক কমিটির মেয়াদ শেষ হলেও নতুন কমিটি না দেওয়ার আলোচনাও আছে খোদ কর্মীদের মাঝে। এ নিয়ে এ উপজেলায় যুবলীগের রাজনীতি নিয়ে এক স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিগত ২০১৬ সালের ২২ ডিসেম্বর সংগঠনটির গঠনতন্ত্র মোতাবেগ এ.কে.এম আসাদ সভাপতি ও আব্দুল গফুরকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করে পরবর্তী ৩ বছরের জন্য পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দেন যুবলীগের জেলার সভাপতি আ.ম.ম টিপু সুলতান চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক পার্থ সারথী চৌধুরী।
এর পর পূর্নাঙ্গ কমিটির মেয়াদ ৩ বছর পূর্ণ হবার আগেই কোন সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই ২০১৮ সালের ৬ ফেব্রুয়ারী গঠন করা হয় আহবায়ক কমিটি। এ নিয়ে ক্ষোভ বিরাজ করছে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাঝে। তবে এমন ঘটনায় বিস্মিত হয়েছে নবনির্বাচিত কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাধারণ সম্পাদকসহ সিনিয়র নেতারা।
জানা যায়, ২০১৮ ফেব্রুয়ারী ৬ তারিখে উপজেলা আওয়ামীলীগের দপ্তর সম্পাদক সাইদুর রহমান দুলাল কে আহবায়ক করে ২১ সদস্য বিশিষ্ঠ কমিটি অনুমোদন দেয় তৎকালীন কেন্দ্রীয় কমিটি সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ। সেই সাথে উক্ত কমিটি কে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে সকল ওয়ার্ড, ইউনিয়ন এর সম্মেলন সম্পন্ন করে উপজেলা যুবলীগের সম্মেলন সম্পন্ন করার সময় বেঁধে দেওয়া হয়। ২০১৯ সালের ২৬ ডিসেম্বর ৯০ দিন পার হলেও আহবায়ক কমিটি সাতকানিয়া উপজেলা যুবলীগের সম্মেলন করতে ব্যর্থ হয়।
এই বিষয়ে মেয়াদ থাকা পূর্নাঙ্গ কমিটির সভাপতি এ.কে.এম আসাদ বলেন, আমাদের কমিটি কে কোনো ধরণের কারণ দর্শানো ব্যতিরেখে মেয়াদ থাকাকালীন সময়ে কিভাবে একটি আহবায়ক কমিটি গঠিত হতে পারে এই বিষয়টি আমার বোদগম্য নয়।
মেয়াদ উত্তীর্ন আহ্বায়ক কমিটির আহবায়ক সাইদুর রহমান দুলাল জানান, আমাদের কে কেন্দ্র থেকে ৯০ দিনের মধ্যে সম্মেলন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা দেয়া হয়েছিলো এটি সত্যি। তবে জাতীয় নির্বাচন ও উপজেলা নির্বাচনে ব্যস্ত থাকায় নির্দিষ্ট সময়ে উপজেলা সম্মেলন সম্পন্ন করতে পারে নি।
এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার যুবলীগের সাধারণ সম্পাদকের সাথে মুঠোফোনে বেশ ক’বার চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে জানতে জেলার সভাপতি আ.ম.ম টিপু সুলতান চৌধুরী কে মুঠোফোনে যুবলীগের একটি পূর্নাঙ্গ কমিটি বলবৎ থাকার পর ও সেই কমিটি মেয়াদউর্ত্তীন হওয়ার আগেই কেন আহবায়ক কমিটি গঠন করা হলো এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমি একটি নির্বাচনী মিটিং এ ব্যাস্ত আছি। পরে কথা বলবো। প্রায় ঘন্টা খানেক পরে পূর্নরায় ফোন করা হয়। তিনি তার ব্যাস্ততার কথা পুনরাবৃত্তি করেন।
এ বিষয়ে নবনির্বাচিত কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান খান নিখিল জানান, কোনো কমিটির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ না থাকলে অথবা কমিটির মেয়াদকাল শেষ না হলে আহবায়ক কমিটি দেওয়ার প্রশ্ন আসেনা। এছাড়া আওয়ামীলীগের দপ্তর সম্পাদক যুবলীগের আহবায়ক হওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ অগঠনতান্ত্রিক। এটি কোনো ভাবেই সম্ভব নয়। তিনি এই বিষয়ে অতিদ্রুত খোঁজ নিয়ে ব্যবস্হা গ্রহন করবেন বলে জানায়।
সাতকানিয়া যুবলীগের কমিটির মেয়াদ থাকা সত্ত্বেও আহবায়ক কমিট গঠনে বিস্মিত কেন্দ্রীয় এই সাধারণ সম্পাদক।
