এক সময়ের উত্তর জনপদে বাঙালি সংস্কৃতি চর্চার পাইওনিয়র হিসাবে খ্যাত সামাজিক সংগঠন সৈয়দপুর শিল্প সাহিত্য সংসদ। সৈয়দপুরের মিনি পার্লামেন্ট হিসাবে পরিচিত এ সংগঠনের নেতৃত্ব নির্বাচন নিয়ে জোরেশোরে চলছে প্রচারণা। আগামী শুক্রবার ২০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে নির্বাচন।

ত্রি-বার্ষিক এ নির্বাচনে ১৮টি পদে ৩৬ জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। গত ২০ বছর আগেও সংগঠনটিকে গণতন্ত্রের সুতিকাগার বলা হতো। বর্তমানে গণতন্ত্রের বদলে সেখানে স্বৈরতন্ত্রের চর্চা হচ্ছে বলে ওই সংসদের সদস্যরা জানান। উপজেলার প্রকৃত সংস্কৃতিসেবী শিল্প ও সাহিত্য চর্চা করেন এমন ব্যক্তিরাই সংগঠনের সদস্য হতেন। কিন্তু দেড় যুগ ধরে নেতৃত্বে থাকা ব্যক্তিরা নিজ পরিবারের সদস্য ও অনুগত ব্যক্তিকে সদস্য করার নিয়ম চালু করেছেন। এক্ষেত্রে যোগ্যতার বাছ-বিচার আমলে নেয়া হয়নি। এমন অবস্থায় ওই প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠাকালীন আদশৃ থেকে প্রায় সরে এসেছে।

এ জনপদে বাঙালি সংস্কৃতির লালনক্ষেত্র সৈয়দপুর শিল্প সাহিত্য সংসদকে পূর্বের জায়গায় ফিরিয়ে আনতে গণতন্ত্রমনা সদস্যরা জোট বেঁধেছেন। আগামীকালের ২০ ডিসেম্বরের নির্বাচনকে ঘিরে দুটি প্যানেলে বিভক্ত হয়ে প্রার্থীরা ভোটযুদ্ধে নেমেছেন। সাংবাদিক আমিনুল হক ও অ্যাড. ওবায়দুর রহমানের নেতৃত্বাধীন প্যানেলের নাম দেয়া হয়েছে গণতান্ত্রিক পরিষদ। অপরদিকে ম.আনোয়ার শামীম ও মেয়র আমজাদ হোসেন সরকার নেতৃত্বাধীন প্যানেলটির কোন নাম না দেয়া হলেও অনেকে বলেছেন এটি ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার পরিষদ।

গণতান্ত্রিক পরিষদের সভাপতি প্রার্থী সাংবাদিক আমিনুল হক বলেন সংসদের সভায় সবার মতামত, কথা বলার অধিকার নিশ্চিত করা, সংসদের ভবন নির্মাণে প্রতিবন্ধকতা দূর করা, সাহিত্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা ও যারা সংসদ মার্কেটের সমস্যায় সম্মুখীন হয়েছেন তাদের সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে এই পরিষদ নির্বাচনী মাঠে নেমেছে। মেয়র আমজাদ হোসেন সংসদের নেতৃত্বে থাকার কারণে সেখানে গণতন্ত্র চর্চার বদলে এক ব্যক্তির শাসন কায়েম করেছেন। ঐতিহ্যবাহী ওই সংগঠনটিকে তিনি খেয়াল খুশিমত পরিচালিত করেন। তার অনৈতিক কাজের বিরুদ্ধে কেউ কথা বললেই সেই ব্যক্তিকে নানাভাবে নাজেহাল করা হয়। পৌর মেয়র এবং রাজনীতিক হওয়ায় তিনি এমন পরিবেশ সৃষ্টি করার সুযোগ পেয়েছেন। তাই অগণতান্ত্রিক ধারা থেকে শিল্প সাহিত্য সংসদকে গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে গণতন্ত্রমনা মানুষদের নিয়ে আগামী নেতৃত্ব নির্বাচিত করতে প্যানেল করা হয়েছে। এই প্যানেল নির্বাচিত হলেই কেবলমাত্র গণতান্ত্রিক পরিবেশ শিল্প সাহিত্য সংসদে বিরাজ করবে।

প্রতিদ্বন্দ্বি প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী বিশিষ্টজন ম. আনোয়ার শামীম বলেন সংসদকে গতিশীল, বিরাজমান সমস্যার সমাধান ও কার্যকর সংসদ গঠনে ভূমিকা রাখবে এমন সদস্য নিয়ে তারা তাদের নির্বাচনী প্যানেল করেছেন। ওই দুই প্যানেলের প্রধান দুই ব্যক্তি বিষয়ে বিশিষ্টজনদের মন্তব্য হলো, সাংবাদিক আমিনুল হক ছাত্র জীবনে ভাষানী ন্যাপ সমর্থিত ছাত্র সংগঠন বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়নের প্রভাবশালী ছাত্রনেতা ছিলেন। সেই সময়ে বিশ্ব কমিউনিস্ট রাজনীতি মস্কো ও চীনপন্থী ধরায় বিভক্ত ছিল। আমিনুল হক ছিলেন চীনপন্থী ধারার অনুসারী ছাত্রনেতা। আর ম.আনোয়ার শামীম বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন। সে কারণে তিনি মস্কোপন্থী বলে পরিচিত। এজন্য তারা দু’জনে দুই রণকৌশলে ভোটযুদ্ধে লড়ছেন।

শিল্প সাহিত্য সংসদের নির্বাচনে দুই প্যানেলের দুই প্রধান ব্যক্তির নির্বাচনী লড়াইকে শহরের রাজনীতিকরা বলছেন নির্বাচন হচ্ছে চীন ও মস্কোপন্থী রণকৌশলে। আগামী ২০ ডিসেম্বর নির্বাচনে কোন ধারার রণকৌশল জয়ী হবে তা জানতে সারা শহরের মানুষ মুখিয়ে আছেন। শিল্প সাহিত্য সসদের এবারের নির্বাচনে ১৩টি সম্পাদকমন্ডলী ও পাঁচটি সদস্য পদে লড়তে দুই প্যানেলে ৩৬ জন প্রার্থী ভোটযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন। ভোটার সংখ্যা মাত্র ১১৮ জন। ভোট বেলা ৩টা শুরু হয়ে বিরতিহীনভাবে সন্ধ্যা ৬টায় শেষ হবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।