কাম কাজ নাiই খামো কি?

কাম কাজ না হইলে খামো

ছবি; সংগৃহীত

শেয়ার করুনঃ
  • 49
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    49
    Shares

রাশেদুজ্জামান রাশেদ; ‘করোনা’ ভাইরাসের কারনে পৃথিবীর মানুষের পরিস্থিতি যখন অসহায় ঠিক তেমনি বাঙালিদের অবস্থা চরম আতঙ্ক, ধর্মীয় গোড়ামি এবং গুজব নিয়ে দিনাতিপাত করছে। ৭১ সালে পাকিস্তানি শোষকে বিরুদ্ধে রাজপথে আসতে বলা হয়েছিল যুদ্ধ করতে আর এখন ভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে নিজ নিজ ঘরে থাকার ঘোষণা করছে সরকার।

ঘরবন্ধী মানুষ ঘরে থাকবে খুবেই ভালো উদ্যোগ কিন্তু যারা দিন এনে দিন খায়, হাত চললে পেট চলে তাদের কি হবে। এদের দায়িত্ব কে নিবে, উত্তরঅঞ্চলের স্বামী হারা এক বৃদ্ধ মহিলার কথা ” মানষির বাড়িতে কাম কাজ না করিলে খামো কি করে? বাবারে! হাট পথ সব বন্ধ করে দিছে, এলা চলিমো কি ভাবে, হামার বাঁচি থাকায় মুশকিল হইছে! বাজার গুলোতে অনেক ছোট ছোট ক্ষুদে মুদি দোকানদার আছে, তারা তাদের সামান্য লভাংশ দিয়ে সংসার চালায়, এখন দোকানপাট বন্ধ করার মধ্যে দিয়ে তাদের সংসারে কালো অধ্যায় নেমে আসবে।

পুলিশ সাধারণ মানুষ রাস্তায় বের হলে যেভাবে লাঠিচার্জ করছে তা দেখে মনে হয়,” কোনো ক্রিকেট দল টসে জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ” ফলে আমারা যদি রেলওয়ে স্টেশনের দিকে তাকাই তাহলে অবশ্যই দেখতে পাবো, যেই মানুষগুলোর কোনো ভিটেমাটি নেই তারাই কিন্তু স্টেশনের ফাঁকা জায়গা গুলোতে মাসের পর মাস রাত্রি যাপন করে, ফলে করোনা প্রতিরোধ ঠেকাতে তাদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে এই অসহায় মানুষগুলো থাকবে কই, খাবার পাবে কই, রাষ্ট্র এদের দায়িত্ব কবে নিবে তার নিশ্চয়তা কি! বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারীতে বিভিন্ন দেশ নানা পদক্ষেপ নিয়েছে।

যারা এর ভয়াবহতা অনুধাবনে ব্যর্থ হয়েছে, প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে অবহেলা করেছে তাদেরকে খেসারত দিতে হচ্ছে। উন্নত দেশ হওয়া সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র, ইতালী, স্পেন তার উদাহরণ।

অন্যদিকে চীন, কিউবা, দক্ষিণ করোয়িা, তাইওয়ান, সিঙ্গাপুর, জাপান আগাম সতর্কতামূলক যথাযথ পদক্ষেপ নেয়ায় তারা করোনা মোকাবেলায় সাফল্য দেখাতে পারছে। আমাদের দেশের সরকারও শুরুতে করোনা সংক্রমণের ঝুকিকে তেমন গুরুত্ব দেয়নি। শুধু কথার বাগাড়ম্বর করে বলে আসছে আমাদের যথেষ্ট প্রস্তুতি রয়েছে। কিন্তু দিন যতো যাচ্ছে, করোনা সংক্রমণ যতোই বাড়ছে সরকারের ঝাড়িঝুড়ি ততোই উন্মোচিত হচ্ছে।

  সরকারি অনুমোদন ছাড়াই দেশে চালু আছে অন্তত ৫০ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

আমাদের দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৬৩ জেলায়ই কোন ভেন্টিলেটরের ব্যবস্থা নাই অথচ করোনা রোগীর শাসকষ্ট নিবারণে যা অতি আবশ্যক। ঢাকার হাসপাতালে মাত্র ২৯টি ভেন্টিলেটর রয়েছে যা খুবই অপ্রতুল শুধু নয়, নগণ্য বটে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও আইইডিসিআর বলছে ১০০টি ভেন্টিলেটর প্রস্তুতির পথে, পর্যায়ক্রমে ৫০০টি করা হবে।

অথচ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত হলো ১টি হাসপাতালে অন্তত ১০% ভেন্টিলেটর থাকার কথা, ন্যূনতম ৪% থাকতেই হবে। আমাদের দেশে সরকারি বেসরাকরি মিলে হাসপাতালসমূহে যে ৩১ হাজার ২২০টি বেড রয়েছে তাতে ৩ হাজার ৫০০টি না হলেও ন্যূনতম ১২০০টি আইসিইউ ও ভেন্টিলেটর থাকার কথা, সেখানে আইসিইউ আছে মাত্র ২২১টি ও ভেন্টিলেটর মাত্র ২৯টি (বণিক বার্তা ২৬ মার্চ ২০২০)। কল্পনা করা যায় বিশেষজ্ঞদের মতে আমাদের দেশে জনসংখ্যার ১০% অর্থাৎ ১ কোটি ৬০ লাখ মানুষ করোনা আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদি ১% লোকও আক্রান্ত হয় তাহলেও তো এই অবস্থায় সামাল দেয়া মোটেই সম্ভব না।

তাছাড়া বিএসএমএমইউ’র সাবেক উপাচার্য ডা. নজরুল ইসলামের মতে করোনা আক্রান্ত রোগীদের ১০-২০% আইসিইউতে রাখার প্রয়োজন হয়। আমাদের দেশের প্রস্তুতিতে এটা অসম্ভব। এ থেকে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ও বাজেট বরাদ্দের বেহাল দশা ফুটে ওঠে। ফলে এই রকম একটি সংকটময় পরিস্থিতিতে আমাদের বীরের জাতিকে করোনা ভাইরাস থেকে রেহাই পেতে হলে সরকারের জরুলী পদক্ষেপ গ্রহণ করে কার্যকর করতে হবে এবং জনগণকে সকল ধর্মীয় আগাছা মাথা থেকে ঝেরে ফেলতে হবে, গুজবে কান না দিয়ে সচেতন থাকতে হবে।

লেখকঃ সাধারণ সম্পাদক, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, জয়পুরহাট জেলা শাখা

আমাদের বাণী ডট কম/২৭ মার্চ ২০২০/ডিএ

শেয়ার করুনঃ
  • 49
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    49
    Shares